১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে স্পাইওয়্যার আছে কি না কীভাবে বুঝবেন?

স্পাইওয়্যার মোছার জন্য কম্পিউটার বিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জনের প্রয়োজন নেই এবং বেশিরভাগ ম্যালওয়্যার খুব সহজেই কেবল কয়েকটি ধাপে দূর করা সম্ভব।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে স্পাইওয়্যার আছে কি না কীভাবে বুঝবেন?

ব্যবহারকারীর বিশেষভাবে নজর রাখা উচিত ফোনের পারফরম্যান্সে হঠাৎ পরিবর্তন হয় কি না। ছবি: ম্যাগনিফিক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 16 Sep 2026, 10:23 AM

Updated : 16 Sep 2026, 10:25 AM

অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে ম্যালওয়্যার প্রবেশের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ব্যাংকিং তথ্য বা পাসওয়ার্ড চুরি করতে পারে সাইবার অপরাধীরা। ম্যালওয়্যার ক্ষতিকর বিভিন্ন অ্যাপের সঙ্গে যোগ থাকে, যা ব্যবহারকারীরা সচেতন থাকলে এড়িয়ে চলতে পারেন।

আইওএসের তুলনায় অ্যান্ড্রয়েড কিছুটা উন্মুক্ত ইকোসিস্টেমের হওয়ায় সেখানে বিকল্প অ্যাপ স্টোর ও অ্যাপ সাইডলোডিংয়ের সুযোগ রয়েছে, যা স্বাভাবিকভাবেই এমন সাইবার অপরাধীদের টানে, যারা ছদ্মবেশী ইউটিলিটি অ্যাপ, ভুয়া আপডেট বা ফিশিং বার্তার মাধ্যমে স্পাইওয়্যার ছড়িয়ে দেয়।

অ্যান্ড্রয়েডের এ উন্মুক্ত ইকোসিস্টেমের মানে এই নয় যে, ব্যবহারকারীর ফোনটি পুরোপুরি সুরক্ষাহীন। স্পাইওয়্যার প্রাইভেসির সঙ্গে কাজ করলেও এটা খুব কম সময়ই কোনো চিহ্ন না রেখে কাজ করতে পারে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।

তবে স্পাইওয়্যার মোছার জন্য কম্পিউটার বিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জনের প্রয়োজন নেই এবং বেশিরভাগ ম্যালওয়্যার খুব সহজেই কেবল কয়েকটি ধাপে দূর করা সম্ভব।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে স্পাইওয়্যার রয়েছে কি না তা কীভাবে বুঝবেন?

স্পাইওয়্যার সাধারণত ব্যাকগ্রাউন্ডে নীরবে কাজ করে ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে এবং আপনি কখন পাসওয়ার্ড টাইপ করছেন বা কোনো অ্যাপ ব্যবহার করছেন তার ওপর নজর রাখে। তবে এটা পুরোপুরি চিহ্নহীনভাবে কাজ করতে পারে না।

ব্যবহারকারীর বিশেষভাবে নজর রাখা উচিত ফোনের পারফরম্যান্সে হঠাৎ পরিবর্তন হয় কি না। যদি কারো ফোনে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ধীরগতি, অতিরিক্ত গরম হওয়া বা স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয় তবে এটা স্পাইওয়্যারের লক্ষণ হতে পারে।

এ ছাড়া, নতুন কোনো অ্যাপ ইনস্টল না করা বা প্রচুর ভিডিও ধারণ না করার পরও মোবাইল ডেটার ব্যবহার হঠাৎ বেড়ে যাওয়া বা স্টোরেজ দ্রুত খালি হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

বারবার বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন আসা, ব্রাউজার নিজে থেকেই অন্য কোনো সাইটে চলে যাওয়া বা সন্দেহজনক টেক্সট মেসেজ পাওয়াও স্পাইওয়্যারের লক্ষণ হতে পারে।

ফোনে যদি অপরিচিত কোনো অ্যাপ দেখতে পান বা কোনো অ্যাপ হঠাৎ করেই ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বা লোকেশনের অ্যাক্সেস চাইতে শুরু করে বা পেয়ে যায় তবে সেটার পেছনেও স্পাইওয়্যার দায়ী থাকতে পারে।

এসব লক্ষণের কোনোটিই একা নিজস্বভাবে ম্যালওয়্যারের নিখুঁত প্রমাণ নয়। কারণ একটি পুরনো ব্যাটারি বা ফোনে ম্যালওয়্যার ছাড়াই নানা কারণে দ্রুত চার্জ শেষ হতে পারে বা টুকটাক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ব্যবহারকারী যদি একসঙ্গে এসব সমস্যার একাধিক লক্ষণ দেখতে পান বা ডিভাইসের নিয়মিত আচরণে হঠাৎ কোনো বড় পরিবর্তন লক্ষ করেন তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি।

কেউ ব্যবহারকারীর ডিভাইসে প্রবেশাধিকার পেয়ে তার অজান্তেই মনিটরিং সফটওয়্যার ইনস্টল করে দিলে ফোনে স্পাইওয়্যার ঢুকতে পারে। তবে বেশিরভাগ ইনফেকশন দূর থেকেই ঘটে থাকে।

ফিশিং কেলেঙ্কারির মাধ্যমে মানুষকে ক্ষতিকর লিংকে ক্লিক করাতে বা ভুয়া অ্যাটাচমেন্ট ডাউনলোড করাতে প্রলুব্ধ করা হয়। গুগল প্লে স্টোরের বাইরে থেকে থার্ড-পার্টি সোর্স বা ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ সাইডলোড করাও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এসব অ্যাপ গুগলের যাচাইকরণ বা ভেটিং প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলে। বাস্তবতা হচ্ছে, প্লে স্টোরও ক্ষতিকর অ্যাপ থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। তবে গুগল প্লে প্রটেক্ট বেশিরভাগ ক্ষতিকর অ্যাপ বড় কোনো ক্ষতি করার আগেই ধরে ফেলে।

অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে স্পাইওয়্যার মোছার উপায়

অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস থেকে স্পাইওয়্যার মোছা অসম্ভব বা খুব বেশি কঠিন কোনো কাজ নয়। কিছু সহজ পদক্ষেপ অনুসরণ করে ফোনটিকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত রাখা সম্ভব।

এজন্য প্রথমে গুগল প্লে স্টোর অ্যাপ চালু করুন, প্রোফাইল আইকনে ট্যাপ করুন, ‘প্লে প্রটেক্ট’ নির্বাচন করুন ও স্ক্যানে ট্যাপ করুন। প্লে প্রটেক্ট নিয়মিত অ্যাপ স্ক্যান করলেও আপনি যে কোনো সময় নিজে তা চেক করতে পারেন।

বাজারে অনেক অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ থাকলেও ‘বিটডিফেন্ডার মোবাইল সিকিউরিটি’ ও ‘ম্যালওয়্যারবাইট’ বেশ জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য। এগুলো এমন অনেক হুমকি শনাক্ত করতে পারে যা ম্যানুয়াল চেক এড়িয়ে যেতে পারে।

ডিভাইস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পারমিশন চেক করুন। এক্ষেত্রে ফোনের ‘সেটিংস’-এর ‘সিকিউরিটি প্রাইভেসি’ থেকে ‘ডিভাইস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর’-এ গিয়ে কোনো সন্দেহজনক অ্যাপ থাকলে তার অ্যাক্সেস বা অনুমতি বাতিল করে দিন।

সন্দেহজনক অ্যাপগুলো সহজে ডিলিট করতে না পারলে ফোনটি সেইফ মোডে চালু করুন। পাওয়ার বাটন চেপে ধরে রাখুন ও ‘পাওয়ার অফ’-এ প্রেস করে ধরে রাখলে সেইফ মোডের অপশন আসবে, যা সাময়িকভাবে থার্ড-পার্টি অ্যাপ নিষ্ক্রিয় করে দেবে।

কোনোভাবেই যদি স্পাইওয়্যার দূর করা না যায় তবে শেষ উপায় হিসেবে ফোন ‘ফ্যাক্টরি রিসেট’ করতে পারেন।

স্পাইওয়্যার থেকে দূরে থাকার উপায়

অ্যান্ড্রয়েড একটি সুরক্ষিত অপারেটিং সিস্টেম যদি আপনি গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ ইনস্টলের নিয়ম মেনে চলেন এবং মৌলিক অনলাইন নিরাপত্তা ধরে রাখেন। ফোন সুরক্ষিত রাখতে নিচের অভ্যাসগুলো গড়ে তুলতে পারেন–

● অ্যাপ ডাউনলোডের জন্য সবসময় গুগল প্লে স্টোর ব্যবহার করুন ও অজানা সোর্স থেকে অ্যাপ ইনস্টলের অনুমতি বন্ধ রাখুন।

● কেবল স্টার রেটিং না দেখে অ্যাপ ডেভেলপারের প্রোফাইল যাচাই, ডেটা সেইফটি সেকশন চেক ও অ্যাপের পারমিশন রিকোয়েস্ট বিশ্লেষণ করুন। যেমন- একটি পিডিএফ রিডার কখনোই লোকেশন বা এসএমএস অ্যাক্সেস চাওয়ার কথা নয়।

● নিয়মিত ইনস্টল করা অ্যাপের তালিকা চেক করুন ও অপরিচিত বা অব্যবহৃত অ্যাপগুলো ডিলিট করে দিন।

● ডিভাইসের পরিচিত দুর্বলতাগুলো প্যাচ করতে যত দ্রুত সম্ভব সিস্টেম আপডেট ইনস্টল করুন।

● শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন ও টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করুন।

অ্যান্ড্রয়েডের উন্মুক্ত ইকোসিস্টেম ব্যবহারকারীকে যেমন স্বাধীনতা দেয় তেমনই ডিভাইস সুরক্ষার দায়িত্বও বাড়ায়। একটি দ্রুত প্লে প্রটেক্ট স্ক্যান, নির্ভরযোগ্য অ্যান্টিভাইরাস ও অপরিচিত অ্যাপ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস বেশিরভাগ সাইবার হুমকি সহজেই ঠেকাতে পারে।