২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আইফোন স্টোরেজ ফুল? অদরকারি ফাইল ডিলিটের উপায়

সাধারণ পদ্ধতির চেয়ে কিছুটা আলাদা হলেও ডিভাইসের মেমোরি খালি করার জন্য বেশ কিছু অপ্রচলিত ও কার্যকর উপায় রয়েছে।

আইফোন স্টোরেজ ফুল? অদরকারি ফাইল ডিলিটের উপায়

গ্যালারি থেকে বড় বড় ছবি বা ভিডিও মুছে ফেললেও সেগুলো ডিভাইসের অন্য কোনো স্থানে জমা হয়ে থাকতে পারে। ছবি: ম্যাগনিফিক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 26 Sep 2026, 03:15 PM

Updated : 26 Sep 2026, 03:15 PM

মোবাইলের স্টোরেজ ফুল হয়ে গেলে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আনইনস্টল করা বা পুরনো ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলা প্রথম ও প্রধান কাজ, যা সবারই জানা। কম মেমোরির আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য এটা কার্যকর।

তবে এসব মৌলিক কাজগুলো করার পরও যদি কাঙ্ক্ষিত স্টোরেজ খালি না হয় তবে আর কী করা যেতে পারে?

সাধারণ পদ্ধতির চেয়ে কিছুটা আলাদা হলেও ডিভাইসের মেমোরি খালি করার জন্য বেশ কিছু অপ্রচলিত ও কার্যকর উপায় রয়েছে। এর মধ্যে কিছু পদ্ধতি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যে কোনো প্রভাব ফেলবে না, আবার কিছু পদ্ধতি এমন সব ফাইল মুছে দেবে, যা হয়ত বহু আগেই ভুলে গেছেন।

শুরুতেই অ্যাপলের ‘সেটিংস’ থেকে ‘জেনারেল’ অপশনে যান। এরপর ‘আইফোন স্টোরেজ’ অপশনে একটি তালিকা দেখা যাবে, যেখানে কোনটি কতটুকু জায়গা দখল করে আছে ও কোন অ্যাপগুলো সবচেয়ে বেশি স্টোরেজ নিচ্ছে এর বিস্তারিত থাকবে।

তালিকার ওপরের দিকে থাকা ফাইলগুলো মুছে ফেলুন, যেমন এমন কোনো স্ট্রিমিং অ্যাপ, যা আপনি আর ব্যবহার করেন না তবে ফোনে থেকে গেছে। এ পাতা ব্যবহারকারীকে এমন কিছু লুকানো ফাইলের খোঁজ দেবে, যা অজান্তেই মেমোরি দখল করে রেখেছিল।

মেসেজের অ্যাটাচমেন্ট ফাইল পরিষ্কার করা

গ্যালারি থেকে বড় বড় ছবি বা ভিডিও মুছে ফেললেও সেগুলো ডিভাইসের অন্য কোনো স্থানে জমা হয়ে থাকতে পারে।

যে অ্যাপের মাধ্যমে ফাইলগুলো এসেছে তা মেসেজেস অ্যাপ হোক বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো থার্ড পার্টির কোনো মাধ্যম হোক না কেন, ফাইলগুলো সেসব অ্যাপের ভেতরেও জায়গা দখল করে রাখে।

‘আইফোন স্টোরেজ’-এর নিচে মেসেজেস অ্যাপ যদি বেশি জায়গা দখল করে থাকে তবে তাতে ট্যাপ করুন। এরপর ‘ডকুমেন্ট’ সেকশনের অধীনে থাকা বিভিন্ন ফোল্ডার ঘেঁটে সবচেয়ে বড় ফাইলগুলো রিভিউ করে মুছে ফেলুন। এখানে ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য মিডিয়া ফাইল পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

অন্যান্য মেসেজিং অ্যাপও এখানে তাদের ডেটা ব্যবহারের বিবরণ দেখায়। তবে সেসব ক্ষেত্রে অ্যাটাচমেন্ট ফাইল মুছতে সংশ্লিষ্ট অ্যাপে যেতে হবে।

যেমন, হোয়াটসঅ্যাপে গিয়ে ‘ইউ’ অপশন থেকে ‘স্টোরেজ অ্যান্ড ডেটা’ অপশনে যান। এরপর ‘ম্যানেজ স্টোরেজ’-এ ঢুকলে চ্যাটভিত্তিক ও অন্যান্য বড় ফাইল দেখে তা মুছে ফেলা সম্ভব।

তবে যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে ফেলার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে ফাইলটি অন্য কোথাও, যেমন অ্যাপল ফটোস, গুগল ফটোস বা কম্পিউটারে ব্যাকআপ করা আছে কি না।

হোয়াটসঅ্যাপে যদি ‘অটোমেটিক মিডিয়া ডাউনলোড’ চালু থাকে তবে ছবিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিভাইসে নেমে গুগল ফটোসে আপলোড হয়ে যায়। তবুও মুছে ফেলার আগে তা নিশ্চিত হওয়া ভালো।

পরবর্তীতে স্টোরেজ সাশ্রয় করতে বন্ধু-বান্ধবের পাঠানো অহেতুক মিম বা মিডিয়া ফাইল যাতে মেমোরি নষ্ট না করে সেজন্য ‘অটো-সেভ’ অপশনটি বন্ধ রাখার কথা বিবেচনা করতে পারেন।

‘রিসেন্টলি ডিলিটেড’ ফোল্ডারগুলো খালি করা

আইফোনের অনেক অ্যাপেই কোনো কিছু ডিলিট বা মুছে ফেললে তা সঙ্গে সঙ্গে চিরতরে মুছে যায় না, বরং ‘রিসেন্টলি ডিলিটেড’ নামের ফোল্ডারে জমা হয়। ভুলবশত কোনো তথ্য মুছে গেলে তা পুনরুদ্ধার বা রিকভার করার সুযোগ দিতেই এই ব্যবস্থা।

তবে এই সুবিধা অ্যাপলের ডিভাইসে একই পরিমাণ জায়গা দখল করে রাখে, বিশেষ করে আপনি যদি সম্প্রতি অনেক ফাইল বা মিডিয়া ডিলিট করে থাকেন ও ফোনে জায়গার অভাব হয় তবে এসব ফোল্ডার দেখা জরুরি।

ফটোস অ্যাপে নিচে থাকা ‘কালেকশনস’-এ ট্যাপ করুন। তারপর স্ক্রল করে নিচে নেমে ‘ইউটিলিটি’-এর অধীনে থাকা ‘রিসেন্টেলি ডিলিটেড’ অপশনে যান। ফেইস আইডি বা পাসকোড দিয়ে প্রবেশ করার পর যেগুলো আর লাগবে না বলে নিশ্চিত সেগুলো চিরতরে মুছে ফেলুন।

ডিলিট করার মতো অনেক ফাইল থাকলে ওপরের ‘সিলেক্ট’-এ ট্যাপ করে ‘থ্রি-ডট’ মেনু থেকে ‘ডিলিট অল’ নির্বাচন করতে পারেন। আইফোনের অন্যান্য বিল্ট-ইন অ্যাপগুলোতেও একই রকম ফিচার রয়েছে।

যেমন, ফাইলস অ্যাপে ‘ব্রাউজ’ অপশনে গেলে ‘রিসেন্টলি ডিলিটেড’ অংশটি দেখা যাবে। এ ট্যাবে থাকা অবস্থাতেই ‘অন মাই ফোন’ সেকশনটি চেক করে দেখা আরেকটা ভালো বুদ্ধি।

এখানে হয়ত বড় কোনো পিডিএফ, ভিডিও ফাইল বা গেইমের ফাইল ডাউনলোড করে ভুলবশত ফেলে রেখেছেন, যা নজর এড়িয়ে যেতে পারে।

এ ছাড়া ‘রিডল ডকুমেন্টস’-এর মতো অন্য কোনো থার্ড-পার্টি ফাইল ম্যানেজার ব্যবহার করলে অহেতুক জায়গা দখল করে থাকা ফাইলগুলোর জন্য সেটাও পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

অ্যাপের ডাউনলোড করা ডেটা পরীক্ষা করা

ফোনের জায়গা দ্রুত শেষ হওয়ার পেছনে অন্যতম বড় কারণ বিভিন্ন অ্যাপের ভেতরে ডাউনলোড করে রাখা মিডিয়া ফাইল। যেমন, স্পটিফাইতে অডিও গান, ওভারকাস্টে পডকাস্ট, গুগল ম্যাপসে অফলাইন ম্যাপ ও ইউটিউবে অফলাইন ভিডিও।

এসব ফাইল খুব দ্রুত স্টোরেজ গ্রাস করে ফেলে, বিশেষ করে পডকাস্টের ক্ষেত্রে যদি পর্ব ডাউনলোডের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা না থাকে। এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে সংশ্লিষ্ট অ্যাপগুলো খুলুন ও অপ্রয়োজনীয় ডাউনলোড মুছে ফেলুন।

এরপর ভবিষ্যতে অটো-ডাউনলোড নিয়ন্ত্রণের জন্য অ্যাপের সেটিংস সামঞ্জস্য করুন। স্পটিফাইতে এটা করতে ওপরে বাঁ দিকে প্রোফাইল ছবিতে ট্যাপ করে ‘সেটিংস অ্যান্ড প্রাইভেসি’তে যান। সেখানে ‘মিডিয়া কোয়ালিটি’ সেকশনের অধীনে ‘ডাউনলোড কোয়ালিটি’ কমিয়ে দিন, যাতে ভবিষ্যতে ডাউনলোড হওয়া গানগুলো কম জায়গা নেয়।

পাশাপাশি ‘আপডেট এগজিক্সিটিং ডাউনলোডস’ বোতামটি ব্যবহার করে আগে থেকেই থাকা গানগুলোর কোয়ালিটি কমিয়ে কিছুটা অতিরিক্ত স্টোরেজ খালি করে নিতে পারেন।

পডকাস্টের জন্য ‘সেটিংস’ থেকে ‘অ্যাপ’ অপশনের ‘পডকাস্ট’-এ গিয়ে ‘অটোমেটিকেলি ডাউনলোড’ অপশনটি ব্যবহার করে একসঙ্গে সর্বোচ্চ কতটি পর্ব ডাউনলোড হয়ে থাকবে তা নির্দিষ্ট করে দিন।

ভিডিও পডকাস্টের খুব প্রয়োজন না হলে ‘ডাউনলোড ভিডিও’ অপশনটি বন্ধ করে রাখুন। প্রতিটি আলাদা শো বা পডকাস্টের জন্য এ নির্দেশাবলী কাস্টমাইজ করতে চাইলে পডকাস্ট অ্যাপের ভেতরের ‘থ্রি-ডট’ মেনু থেকে সেটিংসে যেতে পারেন।

সেখানে ‘রিমুভ প্লেইড ডাউনলোড’ অপশনটি অবশ্যই চালু রাখা উচিত, যাতে শোনা শেষ হওয়া মাত্রই ফাইলটি নিজে থেকেই মুছে যায়।

অন্যান্য সকল স্ট্রিমিং অ্যাপের, ইউটিউব প্রিমিয়াম বা প্রিমিয়াম লাইটসহ মেনুগুলোতে এভাবে চোখ বুলান। পুরনো ডাউনলোড মুছে ফেলা ও ভবিষ্যতের ডাউনলোডের কোয়ালিটি সামান্য কম রাখা স্টোরেজ বাঁচাতে দীর্ঘমেয়াদে দারুণ কাজ দেয়।

স্টোরেজ সাশ্রয়ের আরও কিছু ছোট উপায়

অ্যাপল ফটোস অ্যাপের স্টোরেজ ব্যবহার কমাতে ‘সেটিংস’ থেকে ‘অ্যাপস’ অপশনে ‘ফটোস’-এ যান। সেখানে ‘ডাউনলোড অ্যান্ড কিপ অরিজিনালস’-এর পরিবর্তে ‘অপ্টিমাইজ আইফোন স্টোরেজ’ নির্বাচন করুন।

এতে ফোনে মূল ছবির কম রেজুলিউশনের একটি সংস্করণ জমা থাকবে ও মূল এইচডি ছবিটি ক্লাউডে নিরাপদে থাকবে, যা অহেতুক জায়গা অপচয় হতে দেবে না। তবে বিশেষ কোনো ছবির ক্ষেত্রে পরবর্তীতে মূল রেজুলিউশনের ফাইলটি সহজেই ডাউনলোড করে নেওয়ার সুযোগ থাকছে।

আপনার ডিভাইসে আগে থেকে না করা থাকলে, আইফোনের বিভিন্ন ক্যাশ মেমোরি পরিষ্কার করেও কিছুটা জায়গা খালি করতে পারেন।

ক্যাশ ডিলিট করলে কিছুদিন সংশ্লিষ্ট অ্যাপগুলো কিছুটা ধীরগতিতে চলতে ও সময়ের সঙ্গে অ্যাপগুলো পুনরায় ক্যাশ তৈরি করে ফেলে। স্টোরেজ সংকট থাকলে এই পদ্ধতি চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে।

এ ছাড়া, কিছুদিন ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ ব্যবহারের পর তা বন্ধ করে দিলেও এটা ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রায় ৭ গিগাবাইটের মতো জায়গা দখল করে রাখতে পারে, যা ‘সেটিংস’-এর ‘জেনারেল’ অপশন থেকে ‘আইফোন স্টোরেজ’-এর ‘আইওএস’-এ দেখা যায়।