গুগলের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের শত কোটি পাউন্ডের আইনি লড়াই শুরু
“আমাদের মধ্যে অনেকেই ফোনে অ্যাপ, গেইম ও সাবস্ক্রিপশনের জন্য অর্থ খরচ করেছি। অথচ আমরা জানতাম না যে সেই দামের মধ্যেই গোপন মাশুল বা চার্জ অন্তর্ভুক্ত ছিল।”
গুগল প্লে স্টোর অ্যাপ বিক্রির ক্ষেত্রে লুকানো চার্জ নেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাজ্যের ভোক্তাদের পক্ষে ১০০ কোটি পাউন্ডের বেশি ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রায় দুই কোটি ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এ ক্লাস অ্যাকশন মামলাটি দায়ের করেছে। তারা ১ অক্টোবর ২০১৫ থেকে ৩১ জুলাই ২০২৬ সালের মধ্যে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মাধ্যমে কেনাকাটা করেছেন।
মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের ‘কম্পিটিশন আপিল ট্রাইব্যুনাল’-এ এই মামলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
মামলায় অভিযোগ, গুগল প্লে স্টোরের মাধ্যমে কেনাকাটার জন্য অ্যাপ ডেভেলপারদের ওপর ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আরোপ করে প্রতিযোগিতা আইন ভঙ্গ করেছে। আর এ অতিরিক্ত খরচের বোঝা পণ্যের বাড়তি মূল্য হিসাবে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপানো হয়েছে।
এ দাবির আওতায় রয়েছে পেইড-অ্যাপস, ডেটিং, ফিটনেস, মিউজিক ও গেইমিং অ্যাপের মতো সেবাসর সাবস্ক্রিপশন পেমেন্ট এবং বিজ্ঞাপন-মুক্ত ফিচার আনলক করার জন্য বিভিন্ন আপগ্রেড।
এ ছাড়া, গেইমের ভেতর অতিরিক্ত কয়েন, জেম, অতিরিক্ত লাইভ ও পাওয়ার-আপের মতো ইন-গেইম কেনাকাটাও এর অন্তর্ভুক্ত।
ক্যান্ডি ক্রাশ গেইমার যদি অতিরিক্ত লাইভ ও পাওয়ার-আপ কেনার জন্য গোল্ড বার বা স্বর্ণের বার বাবদ ১০ পাউন্ড খরচ করেন তবে গুগল ওই পেমেন্টের ৩ পাউন্ড নিজের কাছে রেখে বাকি ৭ পাউন্ড গেইম নির্মাতা কোম্পানিকে দিয়েছে।
আইনি পদক্ষেপে অভিযোগ করা হয়েছে, কাটার নামে কেটে নেওয়া এই ৩ পাউন্ডের আর্থিক বোঝা খুচরা বাজারে পণ্যের দাম বাড়িয়ে গেইমারদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, গুগলের দাবি, তাদের প্লে স্টোরে বাজারের অন্যতম সর্বনিম্ন ফি নেওয়া হয় এবং তারা তাদের পরিষেবাগুলোর পক্ষে ‘জোরালোভাবে’ অবস্থান নেবে।
কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, “অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের কোন অ্যাপ ও অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করবেন তা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্য যে কোনো মোবাইল প্ল্যাটফর্মের চেয়ে বেশি পছন্দ বা স্বাধীনতা দেয়, যেখানে প্লে স্টোর বাজারে সবচেয়ে কম ফি অফার করে।
“আমরা যে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কার্যক্রম পরিচালনা করি মামলাটি তা উপেক্ষা করেছে। আমরা আমাদের পরিষেবার পক্ষে জোরালোভাবে অবস্থান নেব।”
এ পদক্ষেপটি আদালতে নিয়ে এসেছেন ভোক্তা প্রযুক্তি নীতি বিশেষজ্ঞ ও দাতব্য সংগঠন ‘সিটিজেনস অ্যাডভাইস’-এর সাবেক ব্যবস্থাপক লিজ কল ও মামলাটি পরিচালনা করছে আইন ফার্ম ‘হাউসফিল্ড’।
২০২১ সালে প্রথম আইনি কার্যক্রম শুরু হলেও আলাদা দাবিগুলোর নিষ্পত্তির কারণে মামলাটিতে বিলম্ব ঘটেছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের অ্যাপ ডেভেলপারদের পক্ষে একটি ক্লাস অ্যাকশন নিষ্পত্তির জন্য গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেটের ২৬ কোটি পাউন্ড পরিশোধের চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গেল বছর অ্যাপলের বিরুদ্ধে একই রকম আইনি মামলায় জয় মিলেছিল।
যুক্তরাজ্যের ‘কম্পিটিশন আপিল ট্রাইব্যুনাল’ রায় দিয়েছিল, অ্যাপের বিক্রি ও অ্যাপের ভেতরে কেনাকাটার ওপর প্রায় ৩০ শতাংশ কমিশন ধার্য করার মাধ্যমে কোম্পানিটি বাজারে নিজেদের একচেটিয়া অবস্থানের অপব্যবহার করেছে।
লিজ কল বলেছেন, “আমাদের মধ্যে অনেকেই ফোনে অ্যাপ, গেইম ও সাবস্ক্রিপশনের জন্য অর্থ খরচ করেছি। অথচ আমরা জানতাম না যে সেই দামের মধ্যেই গোপন মাশুল বা চার্জ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
“যারা প্রতিদিন ফোন ও অ্যাপ ব্যবহার করেন, তাদের সেই অর্থ ফেরত পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আইনি লড়াইটি চালানো হচ্ছে।”
‘হাউসফিল্ড’-এর অংশীদার লেসলি হানা বলেছেন, “গুগল এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাজারে নিজেদের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে অনেক কমিশন আদায় করে আসছে।
“আর এর মাশুল গুনতে হয়েছে ভোক্তাদেরই।”
