০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রতারণা থেকে বাঁচাবে অ্যাপলের নতুন এই ফিচার

এসব স্ক্যামগুলো ডিজিটাল সুরক্ষায় জোরপূর্বক হানা দেয় না, বরং ব্যবহারকারীকে দিয়েই স্বেচ্ছায় দরজা খুলে দিতে প্রলুব্ধ করে।

প্রতারণা থেকে বাঁচাবে অ্যাপলের নতুন এই ফিচার

ফিচারটি সম্পূর্ণভাবে ডিভাইসের নিজস্ব প্রসেসরে কাজ করবে। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Oct 2026, 12:37 PM

Updated : 01 Oct 2026, 12:36 PM

সোশাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফাঁদ থেকে ব্যবহারকারীদের রক্ষা করতে আইফোন ও আইপ্যাডের জন্য নতুন নিরাপত্তা ফিচার যোগ করেছে অ্যাপল।

রিয়াল-টাইমে ডিভাইসের আচরণ বিশ্লেষণ করে ‘ইম্পারসনেশন রিস্ক ডিটেকশন’ নামের টুলটি যে কোনো অভিনব প্রতারণা ঠেকাতে সাহায্য করবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।

আইওএস ২৭ ও আইপ্যাডওএস ২৭-এর জন্য নতুন এ নিরাপত্তা ফিচারটি নিয়ে এখনও সেভাবে আলোচনা হয়নি। ফিচারটি সক্রিয় সোশাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা স্ক্যামগুলো চিহ্নিত করতে ডিভাইসের আচরণ বিশ্লেষণ করবে।

অনেক সময় পাসওয়ার্ড ও টু-ফ্যাক্টর কোড ঠিকঠাক কাজ করার পরও এসব স্ক্যাম ব্যবহারকারীকে নিজেই অ্যাকাউন্ট বা সিস্টেমের অ্যাক্সেস দিয়ে দিতে বাধ্য করতে পারে।

ফিচারটি সম্পূর্ণভাবে ডিভাইসের নিজস্ব প্রসেসরে কাজ করবে। ফলে অ্যাপল কখনো ব্যবহারকারীর ছবি, বার্তা বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত বিষয় দেখতে পায় না।

কোনো সমর্থিত অ্যাপ যখন ঝুঁকি মূল্যায়নের অনুরোধ করে তখন তা কেবল একটি লেবেল বা ফলাফল পায়, সেই মূল্যায়নের পেছনে থাকা মূল ডেটার কিছুই অ্যাপ বা অন্য কারও কাছে যায় না।

অপ্ট-ইন ফিচার হওয়ায় ব্যবহারকারী চাইলে নিজে এটা চালু করতে পারবেন। অনলাইনে নিরাপদে থাকার জন্য ব্যবহারকারী যেসব অন্যান্য পদক্ষেপ নেন এটা সেগুলোর পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশনের মতো বিভিন্ন নিরাপত্তা ফিচার কার্যকর হলেও ‘ইম্পারসনেশন রিস্ক ডিটেকশন’ ফিচারটি একেবারেই ভিন্ন ধরনের বিপদের কথা বিবেচনায় রেখে তৈরি করেছে অ্যাপল।

সোশাল ইঞ্জিনিয়ারিংনির্ভর স্ক্যামগুলো ডিজিটাল সুরক্ষায় জোরপূর্বক হানা দেয় না, বরং ব্যবহারকারীকে দিয়েই স্বেচ্ছায় দরজা খুলে দিতে প্রলুব্ধ করে। ব্যাংক কর্মী সেজে ফোন করা, পুরনো আমলের কলার থেকে শুরু করে ভুয়া ফ্রড অ্যালার্ট টেক্সট এসবের উদ্দেশ্য এক ধরনের জরুরি আবহ তৈরি করা, যাতে ব্যবহারকারীর মানসিক সতর্কতা ভেঙে পড়ে।

ব্যবহারকারী যখন নিজেই প্ররোচিত হয়ে কোনো ক্ষতিকর কাজ করতে যান তখন কোনো টু-ফ্যাক্টর কোডই সমস্যাটি ধরতে পারে না। তবে নতুন ফিচারটি ঠিক সেই কাজটিই করতে পারবে বলে আশা করা যায়।

টুলটি যেভাবে কাজ করে

স্ক্যাম বা প্রতারণা ঘটার সময় এর বিভিন্ন লক্ষণ চিহ্নিতের জন্য কাজ করে ‘ইম্পারসনেশন রিস্ক ডিটেকশন’ ফিচারটি।

পেমেন্ট করা বা অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিবরণ পরিবর্তনের মতো কোনো সংবেদনশীল কাজ করতে গেলে সমর্থিত একটি অ্যাপ রিয়াল-টাইমে ঝুঁকি মূল্যায়নের অনুরোধ করতে পারে।

ব্যবহারকারীর ফোনটি তখন ব্যবহারকারীর ইন্টারঅ্যাকশন প্যাটার্ন, সময়, প্রেক্ষাপট ও মৌলিক সেন্সর ডেটা বিশ্লেষণ করে সেসব মূল্যায়ন তৈরি করে, যার পুরোটাই ডিভাইসের ভেতরে ঘটে।

এ বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে সিস্টেমটি তিনটি ঝুঁকি স্তরের যে কোনো একটি নির্ধারণ করে। যেমন–

● অজানা: সিস্টেম কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপের লক্ষণ পায়নি, তবে এর মানে এই নয় যে কাজটি শতভাগ নিরাপদ।

● মাঝারি: টুলটি কিছু সন্দেহজনক কার্যকলাপের লক্ষণ শনাক্ত করেছে।

● উচ্চ: সন্দেহজনক কার্যকলাপের বড় ধরনের ও স্পষ্ট লক্ষণ শনাক্ত করা হয়েছে।

ব্যাংক প্রতিনিধি বা সরকারি কর্মকর্তা সেজে কোনো আক্রমণকারী মানুষকে সন্দেহজনক লেনদেন অনুমোদন করতে বা পাসওয়ার্ড শেয়ার করতে চাপ তৈরি করে তখন এআইয়ের কল্যাণে সেই প্রতারণা আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে।

স্ক্যামাররা ঠিক এই সুযোগটিই নেয়। অ্যাপলের নতুন টুলটি ঠিক এ দুর্বল জায়গাটিতেই কাজ করে ও প্রতারণার বিভিন্ন মুহূর্তেই সন্দেহজনক আচরণ চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।

তবে, এর পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ নির্ভর করে অ্যাপ ডেভেলপারদের ওপর। ঝুঁকি অনুসারে বিভিন্ন অ্যাপ আপনার পরিচয় যাচাই করতে বলতে পারে, অল্প সময়ের জন্য লেনদেন স্থগিত রাখতে পারে বা সতর্কবার্তা দেখাতে পারে।

যেভাবে ‘ইম্পারসনেশন রিস্ক ডিটেকশন’ চালু করবেন

নিজের বা প্রিয়জনদের সুরক্ষার জন্য আইফোন বা আইপ্যাডে ফিচারটি চালু করতে চাইলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন–

● প্রথমে আইফোনের ‘সেটিংস’ থেকে ‘প্রাইভেসি অ্যান্ড সিকিউরিটি’ অপশনে যান।

● স্ক্রল করে নিচে নেমে ‘ইমপার্সনেশন রিস্ক ডিটেকশন’-এ যান ও ‘শেয়ার উইথ অ্যাপ ডেভেলপার্স’ অপশনটি অন করুন।

একই মেনু থেকে দেখতে পাবেন কোন কোন অ্যাপ ঝুঁকি মূল্যায়নের অনুরোধ করেছে এবং কেন করেছে। পাশাপাশি সেগুলোর অ্যাক্সেসও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

অ্যাপল বলেছে, কেউ যদি ব্যবহারকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করে ফিচারটি বন্ধ করার জন্য জোর করেন তবে এটাকে বড় ধরনের বিপদ সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এ কারণেই ফিচারটি বন্ধ করলে তা কার্যকর হতে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

ফিচারটি কেবল সেইসব অ্যাপেই কাজ করবে যেগুলোতে এর সমর্থন রয়েছে। তবে অ্যাপল এখনও এ ধরনের অ্যাপের কোনো তালিকা প্রকাশ করেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক অ্যাপই এ সুবিধা যোগ হবে।

সাফারির অ্যান্টি-ট্র্যাকিং টুলের মতো অ্যাপলের নিরাপত্তার ধারাবাহিকতায় এটা যুগোপযোগী সংযোজন। এটা এমন একটি দুর্বলতাকে দূর করে, যা কোনো ব্রাউজার সেটিংস বা পাসওয়ার্ড ম্যানেজার একা সমাধান করতে পারে না। আর তা হল মানুষের মনস্তাত্ত্বিক কারসাজি বা ম্যানিপুলেশন।