২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ম্যাকলেমোর বিতর্কে ‘ভুল’ স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন এড শিরান

‘লুপ ট্যুর’ সংগীত আয়োজনের উদ্বোধনী পরিবেশনায় ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেওয়া মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলেমোরকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে বিতর্কে ক্ষমা চেয়েছেন ব্রিটিশ পপ তারকা এড শিরান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 20 Sep 2026, 06:05 PM

Updated : 20 Sep 2026, 06:31 PM

মঞ্চে ফিলিস্তিন নিয়ে কথা বলা মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলেমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যে এবার মুখ খুলেছেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরান। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় নিজের কনসার্টে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তিনি।

ম্যাকলেমোরকে কনসার্ট সফর (ট্যুর) থেকে বাদ দেওয়ার পর এই প্রথম শো শুরু করে এড শিরান ভক্তদের কাছে ‘ভুল’ স্বীকার করে ক্ষমাও চেয়েছেন।

ব্রিটিশ পপ তারকা এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ সংগীত আয়োজনের উদ্বোধনী পরিবেশনায় ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দিয়েছিলেন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলেমোর।

ঘটনাটি ঘটেছিল যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। কেবল স্লোগান দিয়েই ক্ষান্ত হননি র‍্যাপার ম্যাকলেমোর, কথা বলেন ফিলিস্তিনির অধিকার নিয়ে, আহ্বান জানিয়েছেন যুদ্ধবিরতিরও।

এরপরই তাকে শিরানের সফরের শিল্পী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এ ঘটনার জেরে বাকি সব সহশিল্পীও সফর থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

ম্যাকলেমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হলে শিরান জানান, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তার নিজের ছিল না। আয়োজকদের সিদ্ধান্তেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টে এড শিরান নিজের সঙ্গীত সফরকে ঘিরে তৈরি হওয়া তীব্র বিতর্কের মুখে দুঃখ প্রকাশ করে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।

কনসার্টের মঞ্চে দাঁড়িয়ে শিরান বলেন, তিনি কখনও ‘অ্যাকটিভিস্ট মিউজিশিয়ান’ হতে চাননি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তাকে মত প্রকাশ করতে বাধ্য করেছে।

তিনি বলেন, “আমি কখনও প্রতিবাদী বা আন্দোলনকারী সংগীত শিল্পী হতে চাইনি। কিন্তু এই ঘটনাটি আমাকে বাকস্বাধীনতা এবং পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে চলা একটি বড় ও উত্তপ্ত তর্কের মাঝে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।"

এড শিরান জানান, গান নিয়ে সমালোচনার মুখোমুখি হতে তিনি অভ্যস্ত। তবে এবার বিষয়টি ছিল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “এ সপ্তাহে আমাকে কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, কঠিন কিছু পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। আমি ভুলও করছি। এ জন্য আমি সত্যিই, সত্যিই দুঃখিত।”

তিনি আরও বলেন, “আমি আমার ক্যারিয়ারে কোনওরকম রাজনৈতিক ভাষ্যকার হতে চাইনি। কারণ আমি চেয়েছি, আমার গান ও কনসার্ট হোক ঐক্যের জায়গা, বিভেদের নয়। মানবতার জায়গা, রাজনীতির নয়। কিন্তু এটি একটি মানবিক সংকট। এ বিষয়ে আমি আর নিজের অনুভূতি লুকিয়ে রাখতে পারছি না।”

এড শিরান ফিলাডেলফিয়ার মঞ্চে দাঁড়িয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে চালানো হামাসের হামলাকে তিনি ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেন এবং একইসঙ্গে গাজায় চলমান পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়কর, অন্যায্য ও অসমানুপাতিক’ বলেও মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং বিশেষ করে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা আমার হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। পশ্চিম তীরে যে অবিচার আমরা দেখতে পাচ্ছি, সেটিও উপেক্ষা করা যায় না।”

তবে এ বিষয়ে এড শিরান তার জ্ঞান সীমিত উল্লেখ করে বলেছেন, “আমি এখনও বোঝার চেষ্টা করছি, কীভাবে এমনভাবে অবদান রাখা যায়, যাতে এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উপকার হয়। আমি শুনছি, শিখছি। কারণ, আমি এ বিষয়ে যথেষ্ট জানি না।”

শিরান আরও বলেন, “এই কনসার্ট এখনও এমন একটি জায়গা, যেখানে সবাই স্বাগত। এখানে ভিন্নমতের মানুষও পাশাপাশি দাঁড়াতে পারেন।”

ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার পর যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং এতে শিরানের সফরে যে প্রভাব পড়েছে তাতে সফর আদৌ চলবে কি না তা নিয়ে সংশয়ের কথাও ফিলাডেলফিয়ার মঞ্চে জানিয়েছেন এই শিল্পী।

দর্শকশ্রোতাদের উদ্দেশে শিরান বলেন, “আমি জানতাম না এই সফর চলবে কি না। এমনকি জানতাম না, আমি আদৌ শিল্পী হিসেবে থাকতে চাই কি না। কিন্তু আজ আমি এখানে, কারণ আমার ভক্তদের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা আছে।”

মঞ্চে শিরান এমন ধারণারও বিরোধিতা করেন যেখানে কোনও শিল্পী বা তার পরিবেশনার বিষয়বস্তু আগে থেকে ‘অনুমোদন’ করে নেওয়ার কথা বলা হয়। একথা বলে দর্শকদের কাছ থেকে বিপুল করতালি পান তিনি।

ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টের বাইরে প্রতিবাদও দেখা গেছে। কয়েকজন বিক্ষোভকারী ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে অবস্থান নেন। বিবিসি-কে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামে সমর্থন জানাতেই তিনি সেখানে এসেছেন।

তার মতে, ম্যাকলমোরের মতো শিল্পীদের কনসার্টের মঞ্চ থেকে ফিলিস্তিনিদের নিয়ে কথা বলার সুযোগ থাকা উচিত।

কনসার্টে যোগ দেওয়া আরও কয়েকজন দর্শক জানিয়েছেন, তারা সংগীত উপভোগ করার পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন।

এড শিরানের এই ‘লুপ ট্যুর’-এর বাকি আয়োজন উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় চলবে। তবে ম্যাকেলমোরকে নিয়ে বিতর্কের প্রভাব টিকিট বিক্রিতে পড়েছে। কনসার্টের কিছু টিকিটের দাম নেমে এসেছে ৩২ ডলার পর্যন্ত।

কিছু দর্শক টিকিটের অর্থ ফেরত পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন। যদিও টিকিটমাস্টার ও মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করে জানায়নি।