১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বলায় শিল্পীকে বাদ, এড শিরানের পাশ থেকে সরলেন সহশিল্পীরা

“নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কথা বললে শিল্পীদের চুপ করিয়ে দেওয়া উচিত নয়।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 17 Sep 2026, 01:47 AM

Updated : 17 Sep 2026, 01:47 AM

ব্রিটিশ পপ তারকা এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ সংগীত সফরের উদ্বোধনী পরিবেশনায় ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলেমোর।

কেবল স্লোগান দিয়েই ক্ষান্ত হননি র‍্যাপার ম্যাকলেমোর, কথা বলেন ফিরিস্তিনিরে অধিকার নিয়ে, আহ্বান জানিয়েছেন যুদ্ধবিরতিরও।

এরপরই তাকে শিরানের সফরের শিল্পী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এ ঘটনার জেরে বাকি সব সহশিল্পীও সফর থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, এই ঘটনা ঘটে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।

সরে দাঁড়ানো শিল্পীদের মধ্যে একজন পপ তারকা বিলি আইলিশের ভাই ফিনিয়াস। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কথা বললে শিল্পীদের চুপ করিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

সরে দাঁড়িয়েছেন আইরিশ গায়ক ও গীতিকার অ্যারন রো এবং ডেনমার্কের ব্যান্ড লুকাস গ্রাহামও; এছাড়া আইরিশ ফোক ব্যান্ড বেওগাও সফর থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে শিরান বলেন, গাজা নিয়ে প্রকাশ্য বিতর্কে জড়াতে চান না তিনি। তবে ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তার নয় বলেও জানিয়েছেন।

ইনস্টাগ্রামে শিরান লিখেছেন, “ম্যাকলমোরকে সফর থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আমার নয়। ভক্তদের আমি হতাশ করব না। আবার সফরের কর্মী এবং অন্য সহশিল্পী ও সংগীতশিল্পীদেরও আমি ছেড়ে যাব না। কারণ তারা কাজ ও জীবিকা নির্বাহের জন্য আমার ওপর নির্ভর করেন।”

ম্যাকলমোরের ফিলিস্থিনপন্থি মন্তব্যের পর ইহুদি কয়েকটি সংগঠন তার সমালোচনায় সোচ্চার হয়। এরপর ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার জন্য আয়োজকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

এ বিষয়ে শিরানের ভাষ্য, আয়োজকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত সফরের আয়োজক মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপ ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলি হামলায় শিরান ‘মর্মাহত’ বলে জানিয়েছেন। তবে নিজেকে রাজনৈতিক বিষয় থেকে দূরে সরিয়ে রাখার পক্ষে এই গায়ক।

শিরান লিখেছেন, “এই ধ্বংসাত্মক সংঘাত নিয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত আছে। আমি প্রকাশ্যে কথা না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি বলেই যে আমার মতামত নেই, তা নয়। এর মানে এই নয় যে আমি এই ঘটনার পরোয়া করি না।

“রাজনীতির জন্য আমি আমার পেশাগত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করি না। এর কারণ হল আমার দর্শকদের মধ্যে তরুণরাতো আছেই, এমনকি অনেক শিশুও রয়েছে।”

অন্য সব সহশিল্পীর মতো ম্যাকলমোরকেও নিজের পরিবেশনার জন্য গান বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

শিরানের এই বিবৃতির পর ইনস্টাগ্রামে লুকাস গ্রাহাম জানিয়েছে যুদ্ধ নিয়ে, বেসামরিক মানুষের নিহত হওয়া নিয়ে, বেড়ে ওঠার অধিকার থাকা শিশুদের নিয়ে আমাদের কথা বলতে পারা উচিত। একজন শিল্পীর মাথার উপরে যে পতাকাই উড়ুক না কেন, তার কথা বলতে হবে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ৪ সেপ্টেম্বর। ওই দিন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এড শিরানের কনসার্টে পারফর্ম করেন ম্যাকলমোর। মঞ্চে উঠে দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এই সফরে যোগ দিতে চাওয়ার বড় একটি কারণ হল, এমন স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে আমার হৃদয়ের গভীরের একটি কথা বলতে চাই, সেটি হল—ফ্রি প্যালেস্টাইন।”

এরপর তিনি ‘হিন্দস হল’ গানটি পরিবেশন করেন। গানটি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারীদের উৎসর্গ করা হয়েছে। এতে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে নিন্দা জানানো হয়েছে।

ওই গান পরিবেশনের সময় বড় পর্দায় গাজার ধ্বংসযজ্ঞের ভিডিওচিত্রও দেখানো হয়।