১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 17 Sep 2026, 09:21 PM

Updated : 17 Sep 2026, 09:21 PM

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সমিতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনা তদন্তে কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্যাম্পাসের টিএসসি এলাকার বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আব্দুর রহমান রাঈদ ও সাফকাত তাসিন। তাদের মধ্যে রাঈদকে সিলেট নগরীর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ এ টি এম মাহবুব-ই-এলাহী জানিয়েছেন।

আহত সাফকাত তাহসিন সাংবাদিকদের বলেন, তাকে কয়েকজন শিক্ষার্থী ডেকে নিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তাদের বিরুদ্ধে প্যানেল গঠনের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। একপর্যায়ে ছাত্রদল নেতা রাজেশ বাছাড় তার কলার ধরেন এবং সাহস নামে আরেকজন ঘুষি মারেন।

তিনি বলেন, এ সময় তাকে রক্ষা করতে রাঈদ ও আশরাফ এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। একপর্যায়ে সাঈদকে ছাতা দিয়ে উপর্যুপুরি আঘাত করা হয় এবং তিনি রাস্তায় পড়ে গেলেও মারধর চলতে থাকে। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সাফকাত বলেন, ছাত্র সমিতির নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন শিক্ষার্থীদেরও অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত বলে তারা অবস্থান নিয়েছিলেন।

তার অভিযোগ, এ অবস্থানের কারণে ছাত্রদলের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। তারা জুনিয়রদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেওয়া, ভয়ভীতি দেখানো ও হলের আসন বাতিলের হুমকি দিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য রাজেশ বাছাড় বলেন, “ফ্যাকাল্টির সিনিয়র-জুনিয়রদের ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য আশরাফের নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপ কয়েকদিন ধরে তৎপরতা চালাচ্ছিল। এর জেরে ১৫ সেপ্টেম্বর ছাত্র সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আশরাফ, নিহাল, তাহসিন, রাঈদ, ফজলে রাব্বিসহ তাদের অনুসারীরা বিতণ্ডায় জড়ান এবং বর্তমান ভিপিকে অপমান করে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার তাদের উদ্দেশ্য জানার ও সমঝোতায় আসার জন্য বসতে আহ্বান করা হলে নিহাল তেড়ে আসেন। পরে সিনিয়ররা তাকে থামাতে গেলে রাঈদ পেছন থেকে সিনিয়রদের গায়ে হাত তোলেন। তাকে ফেরানোর সময় রাঈদ রাস্তায় পড়ে যান এবং এ ঘটনায় তিনজন সিনিয়র শিক্ষার্থী আহত হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ এ টি এম মাহবুব-ই-এলাহী বলেন, ডিনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবস সময় দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।