আন্দোলনের মুখে অবরুদ্ধ সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষসহ ১৪ শিক্ষক
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বদলে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্তির দাবিতে ১২ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ অধ্যক্ষসহ ২০ শিক্ষক-কর্মকর্তা।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বদলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি চলছে।
রোববার সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন রাত পৌনে ১২টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এ সময় কলেজের প্রশাসনিক ভবনে অধ্যক্ষ, ১৪ শিক্ষকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবরুদ্ধ হয়ে আছেন।
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করছে। আমরা প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ হয়ে আছি। শিক্ষার্থীরা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যেতে চায়। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
তিনি বলেন, এর মধ্যেই বিকালে তার বদলির আদেশ হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে- দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে ক্যাম্পাস ছাড়তে দেওয়া হবে না এবং নতুন অধ্যক্ষকে দায়িত্ব নিতে দেওয়া হবে না।
কলেজ প্রশাসন জানায়, ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্নাতক পর্যায়ের প্রকৌশল কলেজের তিনটি বিভাগে পাঁচটি ব্যাচে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকায় তাদের ‘বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং’ ডিগ্রির স্বকীয়তা ও পেশাগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের আন্দোলন সত্ত্বেও মন্ত্রণালয় আশানুরূপ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, বরং প্রশাসনিক কালক্ষেপণে তাদের একাডেমিক জীবন অনিশ্চয়তায় পড়ছে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, উচ্চতর এই ডিগ্রির মর্যাদা রক্ষায় অবিলম্বে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মুক্তির প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।
এদিকে কর্মসূচি চলাকালে বিকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি করে এবং ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাহিদ ইকবালকে নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করে।
তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বদলির এই আদেশ প্রত্যাখ্যান করে পুরো ক্যাম্পাস ‘শাটডাউন’ ঘোষণা করেছে। তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কাউকেই ক্যাম্পাসে ঢুকতে বা বের হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তারা।
