২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন চেহারায় চাঁদাবাজি-দখল বাণিজ্য, পুলিশ থেকেও নেই

একজন সাইট ইঞ্জিনিয়ারের ভাষায়, “পোলাপাইনগুলা বুইঝা গেছে, জমিতে লাভ বেশি। এহন খালি সুযোগ খোঁজে।”

গোলাম মর্তুজা অন্তু গোলাম মর্তুজা অন্তু

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 29 Sep 2026, 01:36 AM

Updated : 29 Sep 2026, 01:36 AM

রাজধানীতে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে জমি দখল ও জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের চারটি ঘটনা সামনে আনছে নতুন বাস্তবতা।

এসব ঘটনায় কোথাও কয়েক ডজন মানুষ, কোথাও শতাধিক লোক সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি ঘটনায় স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে ভারী যন্ত্রপাতিও ব্যবহার করা হয়েছে।

জমি দখল, ফুটপাত ও খালি জায়গা দখল, নির্মাণকাজে বাধা এবং বিভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজির অভিযোগ রাজধানীতে নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে সংঘবদ্ধভাবে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ধরন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ঢাকার অপরাধ নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ এসব ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ের ‘মব’ বা সংঘবদ্ধ সহিংসতার প্রবণতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন।

তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে যে কায়দায় বুলডোজার চলেছে, সেই একই কায়দায় বুলডোজার চলেছে মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্য কেন্দ্রেও।

মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানের একটি কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর, আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা এবং ক্যান্টনমেন্ট থানার মানিকদী এলাকায় নিউ গিনি প্রপার্টিজের প্রকল্পে হামলা ও কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলছে কয়েক দিন ধরেই।

এসব হামলা আর লুটপাটের পেছনে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসছে। বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার পূর্বসূরীদের মতই বলে চলেছেন, “অপরাধীদের ছাড় নেই।”

তবে ভুক্তভোগীরা চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বেড়ে যাওয়ার কথা বলছেন। তাদের ভাষ্য, নির্মাণাধীন ভবনগুলো চাঁদাবাজির সাধারণ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

ইসমাঈল হাওলাদার নামের একজন সাইট ইঞ্জিনিয়ারের ভাষায়, “পোলাপাইনগুলা বুইঝা গেছে, জমিতে লাভ বেশি। এহন খালি সুযোগ খোঁজে।”

Image

মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ কার্যালয় ও এর স্বাস্থ্যকেন্দ্র চার দিন আগে গুঁড়িয়ে দেয় একদল লোক।

নিজের জমি, নিজের বাড়ি, প্রাণভয়ে যেতেও পারেন না

ভুক্তভোগীরা বলছেন, রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুরের দ্রুত বর্ধনশীল এলাকাগুলোতে জমিকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি সাংঘাতিক আকার ধারণ করেছে।

ফুটপাথ দখল, খালি জায়গা দখল করে দোকান বসানো ছাড়াও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ও নির্মাণাধীন বাড়িতেও ‘ঢালাও চাঁদাবাজি’ হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।

নির্মাণখাতের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও সাইট ইঞ্জিনিয়াররা বলছেন, এখন নির্মাণাধীন ভবনের আবর্জনা বা রাবিশ সরানোর জন্যও বাড়তি টাকা চাওয়া শুরু হয়েছে। ছোট-ছোট দখল ও চাঁদাবাজির বহু ঘটনা ঘটছে। কিন্তু বড় ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘটনাগুলোই কেবল আলোচনায় আসছে।

এরকম একজন ভুক্তভোগী রাজধানীর বসিলার একজন জমির মালিক বলছেন, নিজেদের জমিতে আটতলা পর্যন্ত ভবন করে এখন চাঁদাবাজ-দখলবাজের দাপটে প্লট ছেড়েই পালাতে হয়েছে। ক্রমাগত হুমকির মুখে তারা আর ওমুখো হতে পারছেন না।

ওই ব্যক্তি ঢাকার একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। তবে নিরাপত্তা শঙ্কায় নিজের নাম প্রকাশ হোক, তা তিনি চান না।

২০১৩ সালে ছয়জন চাকরিজীবী মিলে ‘বসিলা গার্ডেন সিটি’ নামের একটি হাউজিং প্রকল্পে জমি কিনেছিলেন তারা। হাউজিং কর্তৃপক্ষ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর সেখানে বাড়ি নির্মাণের অনুমতিও দেওয়া হয়।

তাদের ধারণা ছিল, হাউজিংয়ের জমিতে নিরাপত্তা বেশি। সে কারণে দাম বেশি হলেও ওখানে জমি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা।

২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন তারা। আর্থিক সংকটে তিনতলা পর্যন্ত কাজ হওয়ার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি আবার নির্মাণকাজ শুরু করলে দুই মাসের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল এসে কাজ বন্ধ করতে বলে।

তিনি বলেন, ওই ব্যক্তিরা জমির সামনে সাইনবোর্ডও লাগিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে হাউজিং কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের কাছে গেলেও সমাধান পাননি। পরে কোনো কাগজপত্র না দেখিয়ে জোর করে তাদের জমি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

“ততোদিনে আমরা আটতলার ছাদ করে ফেলেছি। গত ছয়মাস ধরে আটতলা বাড়িসহ আমাদের নিজেদের প্লটে আমরা যেতে পারি না।”

সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে বলতে রীতিমতো কেঁদে ফেলে ওই ব্যাংকার। তিনি বলেন, “দেশে কোনো আইন নেই, পুলিশ নেই। আমাদের সারাজীবনের সঞ্চয় ওই জমিতে পোঁতা হয়ে গেছে। আমরা রীতিমতো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি। কিন্তু প্রাণভয়ে সেখানে যেতেও পারছি না।”

Image

২৬ সেপ্টেম্বর দিনে-দুপুরে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে চাঁদ উদ্যানের ‘রোজ ভিলা’ লাগোয়া জমিতে থাকা কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

নির্মাণকাজেও বাধার অভিযোগ

রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ‘সাইট ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে কাজ করে আসছেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ইসমাঈল হাওলাদার। তিনি বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে নির্মাণাধীন ভবনে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়ার ঘটনা বেড়েছে।

“যখন-তখন পোলাপাইন আইসা ঝামেলা করতাছে। এই যে প্রায় প্রায়ই ভিডিও ভাইরাল হইতেছে দেখেন না, ওই যে বিল্ডিংয়ে ঢুইকা কোপাইতেছে, কাজ বন্ধ কইরা দিতেছে। একটা জমিতে গিয়া ঢুকতে পারলেই কোটি টাকা।”

একসময় রংমিস্ত্রির কাজ করা মো. হাসান এখন ভবনের রঙের ঠিকাদারি করেন। চাঁদাবাজদের দাপট কতটা বেড়েছে, সে কথা বলতে গিয়ে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা শোনালেন।

“গত সপ্তাহে আদাবরে একটা বিল্ডিংয়ে গিয়া খালি ঢুকছি। জিনিসপত্র গুছাইতাছি, এমন সময় নিচ থেকে চিল্লাফাল্লা, আমাদের কাজ করতে দেবে না। আমরাও আস্তে কইরা বাইর হয়্যাা আসলাম। কাম করতে গিয়া জান হারানোর কাম নাই বাবা।”

এই ঠিকাদার বলছেন, “কোনো বিল্ডিংয়ে নতুন কন্ট্রাক্টর ঢুকলেই টাকার জন্য চাপ দেয়। নাইলে তাদের কাজ দিতে হবে।”

ষাটোর্ধ্ব কোবাদ আলী বসিলার একটি নির্মাণাধীন ভবনের কেয়ারটেকার। তিনি বললেন, নির্মাণকাজের বর্জ্য বা ‘রাবিশ’ সরানো নিয়েও এখন বাড়তি টাকা চাওয়া হচ্ছে।

“একটা লোক ছোট ডাম্প ট্রাক নিয়ে আইসাা আমাদের বিল্ডিংয়ের রাবিশ নিয়া যাইত। আমরা দেড় থেকে দুই হাজার করে টাকা দিতাম, সে আবার অন্য লোকের কাছে এই রাবিশগুলো ভরাটের মাটি হিসেবে বেচত।

“গত মাস থেকে ওই ট্রাকই ঢুকতে দেয় না এলাকার পোলাপান। তারা বলে গেছে রাবিশ তাদেরকে দিতে হবে প্রতি ট্রাক পাঁচ হাজার টাকা। আমরা এখন রাবিশ রাস্তার উপর ফেলে রাস্তা উঁচু করতেছি।”

Image

রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ সদস্যরা।

তিন দিনে চার ঘটনা

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাত থেকে এনজিও রাড্ডা-এমসিএইচ এর মিরপুরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্থাপনায় কয়েকঘণ্টা ধরে হামলা ও ভাঙচুর চালায় কয়েকশ লোক।

ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভবনটি একেবারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মালামাল ট্রাকে তুলে পৌঁছে দেওয়া হয় ভাঙারির দোকানে।

ওই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ, এমনকি বিএনপির একজন এমপির নামও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসেছে।

আবার রাড্ডার ঘটনায় পুলিশের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। সেখানে পুলিশের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

Image

শনিবার ভোরে আদাবরের শেখেরটেক এলাকার শ্যামলী হাউজিংয়ের একটি বাড়িতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা হয়।

ওই ঘটনা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই ২৬ সেপ্টেম্বর দিনে-দুপুরে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে চাঁদ উদ্যানের ‘রোজ ভিলা’ লাগোয়া জমিতে থাকা কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ জন সেখানে ঢুকে টিনের বেড়া ভাঙার পর কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় এবং নতুন করে সীমানা ঘেরা দেওয়ার চেষ্টা করে। জমিটির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষেরই কাগজপত্র থাকার দাবি রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ভিডিওতে একদল মানুষকে ওই কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকতে এবং পরে বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নিতে দেখা যায়। এ ঘটনায় পরে আটজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় ঢাকা মহানগর পুলিশ।

ওইদিন ভোরে আদাবরের শেখেরটেক এলাকার শ্যামলী হাউজিংয়ের একটি বাড়িতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ ওঠে।

২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল চাপাতি ও রামদা নিয়ে সেখানে হামলা চালিয়ে ফটক, জানালা ও নিরাপত্তা ক্যামেরা ভাঙচুর করে। নিরাপত্তা ক্যামেরায় ভাঙচুরের কিছু ভিডিও ধরা পড়ে।

সেদিন রাতে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদী এলাকার ‘নিউ গিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেড’-এর প্রকল্প এলাকায় আনুমানিক ৫০ জন লোক গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে ভেতরে ঢোকে।

সেখানে কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওসহ ভেতরের বেশ কয়েকটি স্থাপনায় তারা হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সালমান মুক্তাদির প্রথমে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুললেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি মূলত জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ ও দখল-বেদখলের ঘটনা।

Image

রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা এমসিএইচ এর কার্যালয় রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

‘আগেও হয়েছে, এখন ধরন আলাদা’

প্রায় চার দশক ধরে অপরাধবিষয়ক সাংবাদিকতা করা পারভেজ খান বলছেন, জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঢাকায় অতীতেও ঘটেছে।

“পুরান ঢাকার দিকে হাজী সেলিম লোকজন দিয়ে ভাঙচুর করিয়ে অনেক জমি দখল করেছেন। এসব কাজে স্থানীয় সন্ত্রাসী বা দলীয় লোকজন ব্যবহার করেছিলেন তিনি।”

তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে তিনি গত এক-দুই বছরে তৈরি হওয়া ‘মব কালচার’-এর ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন।

তার ভাষায়, “এগুলোর একটা ট্রেন্ড হচ্ছে একসাথে শত শত লোক মিলে একটা ঘটনা ঘটিয়ে ফেলছে। তারা ভাবছে এভাবে ঘটনা ঘটালে তো আর বিচার হবে না। সেই বিচারহীনতার সংস্কৃতিটাই এদেরকে আরও উসকে দিচ্ছে।”

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পারভেজ খান বলেন, “অনেকে বলছেন পুলিশ আর আগের মত নেই। কিন্তু আমি বলব পুলিশ কিন্তু সেই আগের অবস্থাতেই ফিরে গেছে। তাদের কাছে ক্ষমতাসীনদের চাওয়াটাই আইন।”

তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে বলছে যে অপরাধীদের ছাড় দেবে না, তারা যদি এর ছিঁটেফোটাও প্রতিপালন করে, তাহলেই এগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।

“এসব ঘটনায় কিন্তু কোনো দলের স্বার্থ সংরক্ষিত হয় না। কিছু লোভী লোকজন নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থে দলের নাম বেচে। সরকার, পুলিশেল অনেকেই আবার দেখি এসব ঘটনার নিন্দা করছে। কিন্তু তাদের কাজটাতো অপরাধীর সাজা নিশ্চিত করা, সেই দৃষ্টান্তটাই তারা স্থাপন করতে পারছেন না।”

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘অবনতির লক্ষণ’ হিসেবে দেখছেন মানবাধিকারকর্মী ও অন্তর্বর্তী সরকারের গুম কমিশনের সদস্য নূর খান।

তিনি বলেন, “গত কয়েকদিনে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে মানে রাড্ডার স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া, ইউটিউবারের স্টুডিও ভাঙচুর, মোহাম্মদপুর ও আদাবরে বাড়ি দখল- এগুলোতে একেবারে স্পষ্ট যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি ঘটছে।”

পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের নিষ্ক্রিয় থাকার যে অভিযোগ আসছে, সে প্রসঙ্গ ধরে নূর খান বলেন, “অপরাধীদের দমন করার পরিবর্তে বরং একটা নিরাপদ দূরত্বে তাদের (পুলিশ) অবস্থান নিতে দেখা যায়। তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা হয়েছে যে খুব শক্তিশালী কোনো গোষ্ঠী, বিশেষ করে সরকারি দলের সম্পৃক্ততা থাকলে পুলিশ সেখানে ভূমিকা নিতে চায় না।”

Image

রাজধানীর আদাবরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি ভবন দখলের চেষ্টায় চাপাতি ও রামদা নিয়ে হামলা হয়।

‘অপরাধীর কোনো দল নেই’

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা আর ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে নানা কথা চললেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তা মানতে রাজি নন।

রোববার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “অপরাধীদের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই।”

সংবাদ সম্মেলনে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর প্রসঙ্গও আসে। সালমান মুক্তাদিরের ফেইসবুক লাইভে এসে এই ঘটনায় বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল হিসাবে আখ্যায়িত করেন।

Image

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনে চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ আসছে।

ওই প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,"পরে ভুক্তভোগী ব্যক্তি নিজেই স্বীকার করেছেন যে তার কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা ছাড়া ঢালাও অভিযোগের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। ভুক্তভোগী লিখিত মামলা দায়ের করলে পুলিশ গুরুত্বের সাথে পুরো বিষয়টির সুনির্দিষ্ট তদন্ত সম্পন্ন করবে।"

পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করলে ঢাকার পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "সম্প্রতি রাজধানীতে যে চারটি ঘটনা ঘটেছে প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ খবর পাওয়ার সাথে অ্যাকশনে গেছে। বেশ কয়েকজন অপরাধীকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ‘সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে’ দাবি করে তিনি বলেন, "পুলিশ এখন বেশ সক্রিয় এবং আগামীতে কিছু কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে যাতে এ ধরনের অপরাধ আর না ঘটে।"