২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

৮ দফার বিশ্লেষণ এবং এক দফার রাজনীতি

১১ দলীয় ঐক্যের আন্দোলনের মুখে সরকারের পতন হলেও রাষ্ট্র সামলানোর মতো সক্ষমতা কি বিরোধীদের আছে?

৮ দফার বিশ্লেষণ এবং এক দফার রাজনীতি

রংপুর অভিমুখে ১১-দলীয় জোটের লংমার্চে বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান; সেখান থেকেই আসে সরকার পতনের এক দফার হুঁশিয়ারি।

আমীন আল রশীদ আমীন আল রশীদ

Published : 20 Sep 2026, 03:28 PM

Updated : 20 Sep 2026, 03:28 PM

জাতির প্রয়োজনে যেকোনো সময় সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন ঘোষণা করবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। ৮ দফা দাবিতে শনিবার রংপুর অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচিতে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। আগামীর লংমার্চ ঢাকা অভিমুখে—এমন হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। এদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে নতুন স্বৈরাচার গজিয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, তারেক রহমান হেলিকপ্টারে পালাবেন নাকি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করবেন—সেই সিদ্ধান্ত তাকে নিতে হবে।

প্রশ্ন হলো, সরকার গঠনের মাত্র ৬ মাসের মাথায় কেন সরকার পতনের এই হুঁশিয়ারি বা হুমকি? চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে যেসব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে আন্দোলন করেছে, তাদের একটি দল যখন সরকারে এবং বাকিরা বিরোধী দলে—অর্থাৎ যখন তাদের অভিন্ন প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের রাজনীতি কার্যত নিষিদ্ধ, তখন অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আন্দোলনকারী দলগুলোর মধ্যে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে কেন সম্পর্কের অবনতি হলো যে, বিরোধীরা এখন সরকার ফেলে দিতে চায়?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটারের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় ছয় দফা দাবি নিয়ে রাজপথে নামে বিরোধী দল তথা জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। দাবিগুলো হচ্ছে: গণভোটের গণরায় দ্রুত বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন; বিদ্যুৎ, জ্বালানি, তেল, গ্যাস ও সার সংকটের সমাধান; দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ। পরে এর সঙ্গে আরও দুটি দফা যুক্ত হয়। এগুলো হচ্ছে: প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। তার মানে বিরোধী জোটের ৬ দফা এখন ৮ দফায় পরিণত হয়েছে। কেন ৬ দফাকে ৮ দফা বানাতে হলো? ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের পাঁচ বছর আগে ১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগ ৬ দফা ঘোষণা করেছিল এবং যার ধারাবাহিকতায় ধীরে ধীরে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিসংগ্রামের দিকে এগিয়ে যায়—সেই ছয় দফার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে বলে বিরোধী জোট ছয় দফাকে ৮ দফা করেছে বলে অনেকে মনে করেন।

তবে দফার সংখ্যা যাই হোক না কেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের অবস্থান থেকে বিবেচনা করলেও ৮ দফার প্রথম দফাটি বাদ দিলে বাকি সাতটি দফার সঙ্গে দ্বিমতের কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু সেসব দাবিতে লংমার্চ এবং সরকার পতনের হুঁশিয়ারির যৌক্তিকতা কতটুকু—সেটি ব্যাখ্যার দাবি রাখে।

প্রথম দফার সঙ্গে দ্বিমতের কারণ হলো, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে যে গণভোট হয়েছে—সেটি নিয়ে রাজনৈতিক ও একাডেমিক বিতর্ক শুরু থেকেই হয়েছে এবং জাতীয় সংসদেও সরকারি দলের তরফে এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। কেন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের সুযোগ নেই, সেই ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় দফা জুলাই গণহত্যার বিচার। এই বিচার কে না চায়? শুধুমাত্র অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অবস্থান এক্ষেত্রে ভিন্ন। তারা যেহেতু জুলাই অভ্যুত্থানকে একটি ষড়যন্ত্র বলে বিশ্বাস করে এবং একটি মেটিক্যুলাস ডিজাইন বা পরিকল্পিত উপায়ে সরকারের পতন ঘটানো হয়েছে বলে ব্যাখ্যা দেয়—সুতরাং তাদের বাইরে অন্য সব দল এমনকি নির্দলীয় সাধারণ মানুষও নিশ্চয়ই গণহত্যা এবং জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত সকল ফৌজদারি অপরাধের বিচার চায়। বিরোধী জোটের এই দাবির সঙ্গে দ্বিমতের সুযোগ নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিচার একটি চলমান ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া। অপরাধের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও যেকোনো অপরাধীকে ধরে এনে সঙ্গে সঙ্গে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া যায় না। এখানে অনেকগুলো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়, যে প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে।

বেশ কিছু মামলার রায় হয়েছে। তাছাড়া সরকার জুলাই গণহত্যার বিচার করবে না—এ কথা একবারও বলেনি। তাহলে বিরোধী দলের এই দাবির যৌক্তিকতা কী? অর্থাৎ যে বিচারটি চলছে এবং দৃশ্যমান, সেটি নিয়ে লংমার্চ করার যৌক্তিকতা কী? যাদের দণ্ড হয়েছে, সেই তাদের দণ্ড কার্যকর করারও একটি প্রক্রিয়া আছে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে যারা বিদেশে কিংবা দেশের ভেতরে পলাতক, তাদের ফিরিয়ে আনা বা গ্রেপ্তার করার কথা মুখে বলা যত সহজ, বাস্তবতা তত সহজ নয়। সুতরাং যে বিচারটি চলছে, সেই বিচারের দাবিতে লংমার্চের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

বিরোধী জোটের তৃতীয় দাবি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। এই দাবির সঙ্গে দেশের একজন মানুষও নিশ্চয়ই দ্বিমত পোষণ করবেন না। কেননা, সরকার গত ছয় মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ঘটাতে পারেনি, সেটি সম্ভবত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও স্বীকার করবেন। এই ব্যর্থতা বা সফল হতে না পারার পেছনে বিএনপি সরকারের যে দায়, তার পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের দায় তার চেয়ে অনেক বেশি। কেননা, ওই সরকারের পুরো দেড় বছর দেশে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু ছিল না; একটা অনানুষ্ঠানিক মবের শাসন চলেছে। তার ওপর জুলাই অভ্যুত্থানে দেশের সবচেয়ে বড় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রচুর সদস্য নিহত হয়েছে এবং সরকার পতনের পরে তাদের অনেকে পালিয়ে গেছে, অনেকে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে আছে, অনেকে মামলার আসামি। সবকিছু মিলিয়ে পুলিশ বাহিনীর মেরুদণ্ড ও মনোবল পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে দেশে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু থাকার কথাও নয়। উপরন্তু এসব ঘটনায় পুলিশের মধ্যে কাজ করার আগ্রহ কমে গেছে। তাদের মনোবল বাড়ানো এবং কাজের গতি ফিরিয়ে আনার জন্য যে ধরনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল, অন্তর্বর্তী সরকার তা নেয়নি। বিএনপি সরকার কতটা নিয়েছে বা নিচ্ছে, তাও স্পষ্ট নয়। সুতরাং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত, সেটি নিশ্চিত করা যায়নি। কিন্তু এসব বাস্তবতা বিরোধী দলও জানে। তারা কি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব সরকারকে দিয়েছে?

চতুর্থ দাবি বিদ্যুৎ, জ্বালানি, তেল, গ্যাস ও সার সংকটের সমাধান। এই দাবির সঙ্গেও দেশের প্রতিটি মানুষই একমত। বিগত ছয় মাসে সরকার সবচেয়ে বেশি বিব্রত হয়েছে এবং হচ্ছে গ্যাস-বিদ্যুতের কারণে। সমস্যা সমাধানে সরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তার ফলে শিল্প-কারখানায় গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে, যদিও বাসা-বাড়ির সংকট মোটামুটি আগের মতোই আছে।

সার সংকটের বিষয়টা নিয়ে সরকার এবং ভুক্তভোগী কৃষকদের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য অনেক। সরকার হয় অনেক সত্য গোপন করছে, অথবা মাঠের প্রকৃত চিত্র তাদের কাছে নেই। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিনভর একটি টেলিভিশন চ্যানেল সার সংকট নিয়ে বেশ কিছু প্রতিবেদন প্রচার করেছে। সেখানে এটা স্পষ্ট যে, সার সংকট নেই বলে সরকার যত ব্যাখ্যাই দিক না কেন, মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন। সুতরাং প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত এই সংকটের সমাধান করতে না পারলে সরকার বিতর্কিত হবে।

পঞ্চম দাবি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ। সব সরকারের আমলেই দ্রব্যমূল্য নিয়ে কমবেশি অভিযোগ থাকে। তবে গত ছয় মাসে নিত্যপণ্যের দাম যে অনেক বেড়েছে, সেটি বলার সুযোগ নেই। বরং ভোজ্যতেল নিয়ে ব্যবসায়ীদের তেলেসমাতি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও হয়েছে, তার আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও হয়েছে। কিন্তু চাল-ডাল-মাছ-মাংস-ডিমের দাম যে অসহনীয় পর্যায়ে গেছে, সেটি বলার সুযোগ নেই। মাঝখানে কাঁচামরিচের বাজারে আগুন লেগেছিল, এটিও মোটামুটি পরিচিত ঘটনা। কেননা বছরের একটি সময়ে কাঁচামরিচের দাম বেড়ে যায়, আবার সেটি অনেক কমেও যায়। অর্থাৎ এই সমস্যাটা সাময়িক। সুতরাং দ্রব্যমূল্য কমানোর দাবিতে সরকারের ছয় মাসের মাথায় এসেই সরকার পতনের এক দফার হুঁশিয়ারি দেওয়াটা যৌক্তিক কি না, সেটি বিরোধী দলের বিবেচনা করা উচিত।

ষষ্ঠ দফা চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ। এটি অত্যন্ত যৌক্তিক দাবি। কেননা, সরকার গঠনের পর থেকে বিএনপি তথা সরকার সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে মাঠ পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি ও দখলবাজির কারণে। অনেকের মনেই এই উপলব্ধি কাজ করছে যে, প্রায় দুই দশক ক্ষমতার বাইরে থাকায় তারা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিত হয়েছে, অতএব এখন সুযোগ এসেছে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার। যে কারণে সারা দেশেই প্রচুর চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ আছে। সরকার বা সরকারি দল যদি এটা অস্বীকার করে, তাহলে সেটি তাদেরকে জনবিচ্ছিন্ন করে দেবে। বরং সত্য স্বীকার করে এসব বন্ধে শূন্য সহনশীল নীতি গ্রহণ করতে হবে। আবার এও ঠিক যে, প্রায় দুই দশক ধরে রাষ্ট্রীয় নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়ে যারা ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে গেছে, তাদের জন্য একটি সম্মানজনক আয়ের পথও তৈরি করতে হবে। কিন্তু সেটি নিশ্চয়ই চাঁদাবাজি বা দখলবাজি নয়।

বিরোধী জোটের নতুন দুটি দাবির একটি হলো প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্তরে দলীয়করণ বন্ধ করা। এটিও কোনো নতুন দাবি নয়। সব সরকারের আমলেই প্রশাসনে দলীয়করণ হয়। সরকার চায় সব জায়গায় তার নিজের দলের এবং বিশ্বস্ত লোক থাকবে, না হয় তার পক্ষে দেশ চালানো কঠিন। প্রশ্ন হলো, দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দিলেও যাদেরকে বসানো হচ্ছে তারা যোগ্য কি না এবং সংশ্লিষ্ট কাজে তাদের দক্ষতা আছে কি না। কাজটা যদি তারা ঠিকমতো করতে পারে, তাহলে সেখানে দলীয় পরিচয় মুখ্য হওয়ার কথা নয়। কিন্তু দলীয়করণের ফলে অন্য কেউ অবিচারের শিকার হচ্ছেন কি না, সেটি দেখা দরকার। সুতরাং বিরোধী জোটের এই দাবিটা পুরোনো হলেও এর সঙ্গে দ্বিমতের সুযোগ নেই। কিন্তু এই দাবিটি কি সরকার পতনের এক দফা ঘোষণার মতো?

সবশেষ তথা অষ্টম দাবি হলো তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। এটি খুবই হাস্যকর দাবি। কেননা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন যে হবে, সেটি সরকার অনেকবার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সরকারের একার ওপর নির্ভর করে না। এই প্রকল্পে চীনের যুক্ত হওয়ার কথা, যে কারণে এখানে আঞ্চলিক ও ভূরাজনীতির কিছু মারপ্যাঁচ আছে। এটি যদি এককভাবে বাংলাদেশ করতে পারত এবং তিস্তা যদি অভিন্ন নদী না হতো, তাহলে বিরোধী জোট দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারের ওপর চাপ দিতে পারত। কিন্তু যে প্রকল্পটি এককভাবে সরকারের ওপর নির্ভর করছে না এবং যেটি বাস্তবায়নের সঙ্গে আঞ্চলিক ও ভূরাজনীতির সম্পর্ক আছে; যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গেলে অনেক টাকার প্রয়োজন হবে—সেটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে আলটিমেটাম দেওয়া কোনো দায়িত্বশীল বিরোধী দলের আচরণ নয়।

পরিশেষে, ধরা যাক বিরোধী দলের তীব্র আন্দোলনের মুখে সরকারের পতন হলো কিংবা সরকার আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিল। সেই নির্বাচনে জামায়াত-এনসিপি জয়ী হয়ে কি সরকার গঠন করতে পারবে? বিএনপি সরকার গত ছয় মাসে কতটা সফল হতে পেরেছে কিংবা তাদের ব্যর্থতার পাল্লা কতটা ভারী—সেই তর্কের বাইরে গিয়ে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত ও এনসিপি একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি সচল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নিতে কী ভূমিকা পালন করেছে? বরং জামায়াতের একাধিক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ এসেছে, অনেক তথ্যপ্রমাণ সামনে এসেছে। সেইসঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে বড় অর্জন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করা; ঐতিহাসিক সত্যের বিপরীতে হাস্যকর, উদ্ভট এবং মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তির নানা বয়ান সামনে এনে তারা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এনসিপি এবং তাদের ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সংগঠন প্রতিহিংসার রাজনীতির চর্চা করছে এবং অতীতের মতোই বিরোধী মত ও বিশ্বাসের মানুষকে নির্মূলের যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে—তাতে গত ছয় মাসে জামায়াত ও এনসিপির জনপ্রিয়তা কমেছে বৈ বাড়েনি।

সুতরাং বিরোধী জোট সরকার পতনের যে এক দফার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, তার সুফল কি শেষ পর্যন্ত তারা নিজেরা ভোগ করতে পারবে নাকি রাজনীতির বল অন্য কারো কোর্টে চলে যাবে? দেশ বর্তমানে যেসব সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, সেগুলো সমাধানের দায়িত্ব বিরোধী দলকে দেওয়া হলে তারা কি সামলাতে পারবে বা সেসব সমস্যার সমাধান করতে পারবে?

আমীন আল রশীদ সাংবাদিক ও লেখক। ই-মেইল: aminalrasheed@gmail.com