Published : 08 Mar 2026, 04:41 PM
রান্নাঘরের জনপ্রিয় যন্ত্রগুলোর মধ্যে এয়ার ফ্রায়ার অন্যতম। কম তেলে, দ্রুত এবং সহজে রান্না করার সুবিধার কারণে এটিকে প্রতিদিনের ব্যবহারের অংশ হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে রোজার সময়ে ইফতারি তৈরিতে।
মাংস, সবজি, এমনকি কিছু মিষ্টান্নও এতে তৈরি করা যায়। তবে একটি ভুল ধারণা হল— এয়ার ফ্রায়ারে সব কিছুই রান্না করা সম্ভব।
কিছু খাবার আছে যেগুলো এই যন্ত্রে রান্না করলে ভালো ফল পাওয়া যায় না, বরং যন্ত্রের ক্ষতিও হতে পারে।
তরল ব্যাটার বা মোড়ানো খাবারের সমস্যা
“যেসব খাবারে তরল ব্যাটার বা মোটা প্রলেপ থাকে, সেগুলো এয়ার ফ্রায়ারে ভালোভাবে রান্না হয় না”- বলেন, ধানমণ্ডি এলাকার বৈদ্যুতিক যন্ত্র বিক্রেতা আলিম মোহাম্মদ।
তিনি বলেন, “এয়ার ফ্রায়ারের ব্যবহার বিধিতে এমন নির্দেশনা থাকে না। কারণ এয়ার ফ্রায়ারের ভেতরে বাতাস দ্রুত ঘোরে এবং নিচের ঝাঁঝরযুক্ত অংশ দিয়ে অতিরিক্ত তরল পড়ে যেতে পারে। এতে রান্না অসম হয় এবং যন্ত্রের ভেতর নোংরা হয়ে যায়।”
চিংড়ির টেম্পুরা বা ব্যাটার দেওয়া মাছ, মাংস, বেগুনি এ ধরনের সমস্যার উদাহরণ।
তাই এ ধরনের খাবার অন্য রান্নার পদ্ধতিতে করাই ভালো। যদি এয়ার ফ্রায়ারে করতেই হয়, তাহলে আলাদা পাত্র ব্যবহার করলে কিছুটা ঝামেলা কমানো যায়।
পাতাযুক্ত সবজি যে কারণে ভালো নয়
পালংশাক, লেটুস পাতা বা কলমি শাকের মতো পাতাযুক্ত সবজি এয়ার ফ্রায়ারে দিলে সেগুলো সমানভাবে সেদ্ধ হয় না। বাতাসের চাপের কারণে এগুলো উড়ে গিয়ে অসমভাবে রান্না হয়।
ফলে কিছু অংশ পুড়ে যায়, আবার কিছু অংশ কাঁচা থেকে যায়।
তবে একই সবজি শুকনা করে চিপসের মতো বানাতে চাইলে এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সাধারণ রান্নার জন্য এটি উপযুক্ত নয়।
ঝোলযুক্ত খাবার রান্নার ঝুঁকি
ঝোল বা সসযুক্ত খাবার এয়ার ফ্রায়ারে দেওয়া বড় ধরনের ভুল হতে পারে। যন্ত্রটির ঝাঁঝরযুক্ত তলায় সস পড়ে গিয়ে ভেতরে জমে থাকে, যা পরিষ্কার করা কঠিন হয়ে যায়।
“শুধু তাই নয়, এতে যন্ত্রের কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে”- বলেন, আলিম।
এয়ার ফ্রায়ার মূলত শুকনা তাপের জন্য তৈরি। তাই ঝোলযুক্ত রান্না এতে করা ঠিক নয়।
চিজ বা পনিরযুক্ত খাবারের সীমাবদ্ধতা
“চিজ-ধর্মী খাবার গরম হলে দ্রুত গলে যায়। এয়ার ফ্রায়ারে দিলে এই গলিত অংশ নিচে পড়ে গিয়ে যন্ত্রের ভেতরে আটকে যেতে পারে। এতে পরিষ্কার করা কঠিন হয় এবং কখনও কখনও পোড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়” বলে মত দেন সরকারি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগের প্রধান রিনাত ফৌজিয়া।
তবে আগে থেকে ভাজা বা প্রক্রিয়াজাত হিমায়িত কিছু খাবার পুনরায় গরম করতে এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করা যায়।
বড় মাংসের টুকরা রান্নার সমস্যা
সম্পূর্ণ মুরগি বা বড় হাড়সহ মাংস এয়ার ফ্রায়ারে দিলে সঠিকভাবে রান্না হয় না। কারণ যন্ত্রের ভেতরে বাতাস সঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না। ফলে বাইরে শুকনা হলেও ভেতরে কাঁচা থেকে যেতে পারে।
এ ধরনের বড় খাবার রান্নার জন্য প্রচলিত চুলা বা ওভেন ব্যবহার করা বেশি কার্যকর।
কাঁচা শস্য রান্না করা যায় না
চাল, ডাল বা পাস্তা ধরনের কাঁচা শস্য এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করা সম্ভব নয়। কারণ এগুলো সেদ্ধ করতে পানির প্রয়োজন হয়, আর এয়ার ফ্রায়ার শুকনা তাপে কাজ করে।
“এয়ার ফ্রায়ার দিয়ে এসব শস্য কেবল গরম করা যেতে পারে। তবে শুরু থেকে রান্না করা যায় না” মন্তব্য করেন রিনাত ফৌজিয়া।
পপকর্ন তৈরির ঝুঁকি
“এয়ার ফ্রায়ারে পপকর্ন বানানোর চেষ্টা করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ”- বলেন, আলিম মোহাম্মদ।
কারণ এতে দানা উড়ে গিয়ে যন্ত্রের ভেতরে আটকে যেতে পারে, এমনকি আগুন লাগার সম্ভাবনাও থাকে। এছাড়া সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা কঠিন হওয়ায় পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
বার্গার ও বেইক করা খাবারের সীমাবদ্ধতা
বার্গার এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করা গেলেও এতে সেই কাঙ্ক্ষিত বাদামি রং বা ধোঁয়াটে স্বাদ পাওয়া যায় না। একইভাবে কেক বা বিস্কুট তৈরি করাও কঠিন। কারণ তাপমাত্রা ও সময় ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ফল ভালো হয় না।
অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবারের ঝুঁকি
অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার রান্না করলে চর্বি গলে নিচে পড়ে গিয়ে যন্ত্রের ভেতরে ছিটকে যেতে পারে। এতে আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই এ ধরনের খাবার রান্নায় সতর্ক থাকা জরুরি।
এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহারে সচেতনতা
এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহারের সময় কিছু সাধারণ বিষয় মনে রাখা খুবই জরুরি। খাবার একসঙ্গে বেশি না দিয়ে স্তর করে সাজানো উচিত, যাতে সমানভাবে রান্না হয়- পরামর্শ দেন রিনাত ফৌজিয়া ।
এছাড়া যন্ত্রটি এমন জায়গায় রাখা উচিত যেখানে চারপাশে পর্যাপ্ত ফাঁকা থাকে এবং তাপের প্রভাব অন্য কিছুর ওপর না পড়ে।
আরও পড়ুন
আইপিএস কেনার আগে যা জানা প্রয়োজন
এখন যে কারণে এসি সার্ভিসিং করাবেন
বৈদ্যুতিক চুলা কোনটি কিনবেন- ইন্ডাকশন নাকি ইনফ্রারেড?