Published : 26 Feb 2026, 03:56 PM
শীতের কারণে কয়েক মাস ‘এয়ার কন্ডিশনার’ বা এসি বন্ধ ছিল। এখন আবার গরম পড়তে শুরু করেছে, ব্যবহারও শুরু হবে। হুট করেই কিন্তু এসি চালানো যাবে না।
নিজেকে ও পরিবারকে নিরাপদ রাখতে আগে সার্ভিসিং করাতে হবে।
ত্রুটি কিংবা কোনো সমস্যা না থাকলেও বছরে একবার হলেও এসির সার্ভিসিং করতে হয়। গরমের আগে ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মধ্যে করানো সবচেয়ে ভালো।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার বলেন, “নিয়মিত সার্ভিসিং না করলে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। শীতের পর এসি চালানোর আগে সার্ভিসিং না করলে ধুলা-জীবাণু জমে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে এবং যন্ত্রাংশ নষ্ট হতে পারে।”
চালানোর পর ঘর ঠাণ্ডা হলেই এসি ঠিকঠাক কাজ করছে মনে করেন অনেকেই। এটি ভুল ধারণা। শীতের কয়েক মাস ব্যবহার না হওয়ার কারণে এসির বিভিন্ন অংশে ধুলা জমে ফিল্টার ব্লক হয়ে যেতে পারে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা এসির ঠাণ্ডা বা শীতলীকরণ করার ক্ষমতা কমে যাওয়া।
নিয়মিত সার্ভিসিং না করলে দীর্ঘ মেয়াদে এসির কার্যকারিতা ও আয়ু কমে যায়। কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকলে এসির ফিল্টারে ধুলা, ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাকসহ নানান ধরনের জীবাণু জমে। বাতাসের মাধ্যমে তা ঘরে বা অফিসে ছড়িয়ে পড়ে। তখন শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা, অ্যালার্জি বা অ্যাজমার মতো রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
এছাড়া পরিষ্কার ও ভালোভাবে রাখা এসি তুলনামূলকভাবে কম বিদ্যুৎ খরচ করে। অপরিষ্কার কনডেনসার ও ফিল্টার থাকলে এসি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। নিয়মিত সার্ভিসিংয়ে এসি দ্রুত কাজ করে এবং কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে।
বৈদ্যুতিক যন্ত্র হিসেবে এসির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। সার্ভিসিং না করালে এসির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। দীর্ঘদিন সার্ভিসিং না করালে এসির শীতলীকরণের ক্ষমতা কমে যাওয়া স্বাভাবিক।
ওপরের তথ্যগুলো উল্লেখ করে এই বিষয়ে এলিফ্যান্ট রোডের ‘আল-আমিন ইলেক্ট্রনিক্স’য়ের বিদ্যুৎমিস্ত্রি ও এসি সার্ভিসিংয়ে অভিজ্ঞ মো. বিপ্লব আরও বলেন “এসির কুলিং কয়েল ও ফিল্টার পরিষ্কার না থাকলে পর্যাপ্ত ঠাণ্ডা বাতাস পাবেন না। সার্ভিসিং করালে এসির পারফরম্যান্স ঠিক থাকে ও দ্রুত ঠাণ্ডা হয়।”
“অনেক সময় এসি চালানোর পর দুর্গন্ধ বের হয়, যা ফিল্টারে জমে থাকা ব্যাক্টেরিয়া ও ধুলার কারণে হতে পারে। আবার এসির বিভিন্ন অংশে ধুলা জমে বা স্ক্রু ঢিলা হয়ে গেলে অস্বাভাবিক শব্দ হতে পারে। সার্ভিসিং করালে এসব সমস্যা এড়ানো যায়”- বলেন তিনি।
এসির কারণে ঘরের বায়ুদূষণ হলে পরিবারের সদস্য অসুস্থ হতে পারে। শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলে এসির ড্রেন পাইপ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে এসির পানি ভেতরেই জমতে শুরু করে। এটি এসির কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।
এসির কম্প্রেসর সার্ভিসিং না করালে অতিরিক্ত ধুলা ও তাপমাত্রার কারণে এটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের এসি হলে ও ওয়ারেন্টি থাকলে সেই ব্র্যান্ডের সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগ করতে পারেন। বেশির ভাগ বড় ব্র্যান্ড গ্রাহকদের সার্ভিসিংয়ের সেবা দিয়ে থাকে।
এছাড়া সেবা এক্সওয়াইজেড, ফিক্সিট ডটকম ডট বিডির মতো অনলাইন সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম থেকেও এসি সার্ভিসিং করানো যায়।
রাজধানী মোহাম্মদপুরে হোলসেল ইলেকট্রনিক্স সিটির কর্নধার ফয়সাল হোসেন তথ্য দেন যে- এসির অবস্থা বুঝে সাধারণ সার্ভিসিং করতে ৫শ’ থেকে দেড় হাজার টাকা, গ্যাস রিফিলিংয়ে ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা ও সম্পূর্ণ ডিপ ক্লিনিংয়ে আড়াই থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ পড়ে।
এসি সার্ভিসিং করালে শুধু যন্ত্রের আয়ু বাড়ে না, পরিবারের স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকে।
আরও পড়ুন
ঢাকার জিপিওতে মিলবে সাশ্রয়ী আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সেবা