Published : 02 Feb 2026, 05:07 PM
ঢাকার গুলিস্তানে অবস্থিত জেনারেল পোস্ট অফিসের (জিপিও) পেছনের ফটক দিয়ে ঢুকলেই চোখে পড়ে একটি শেইডের নিচে মানুষের ব্যস্ততা। কেউ পোশাক, কেউ ওষুধ, কেউ খাবার— বিদেশে থাকা আত্মীয়স্বজনের জন্য পণ্য প্যাকেটজাত করছেন।
পাশে কম্পিউটারে নাম-ঠিকানা পূরণ করছেন দুজন। তারপর নির্দিষ্ট কাউন্টারে গিয়ে টাকা দিয়ে বুকিং করলেই মিলে যায় ট্র্যাকিং নম্বর।
এই নম্বর দিয়ে মোবাইল ফোনে পার্সেলের সর্বশেষ অবস্থান জানা যায়।
এটিই ডাক বিভাগের আন্তর্জাতিক এয়ার পার্সেল ও এক্সপ্রেস মেইল সার্ভিস (ইএমএস)। প্রতিদিন ঢাকা ও ঢাকার বাইরে শত শত মানুষ এই সেবা নিচ্ছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিরাও দেশে পণ্য পাঠাতে এই সেবার ওপর ভরসা রাখছেন। বিদেশি কুরিয়ারের তুলনায় খরচ কয়েক গুণ কম হওয়ায় সেবাটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
ঢাকা জিপিও ৬ নম্বর কাউন্টারের কর্মকর্তা ফারুক সরকার বলেন, “পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল। বিদেশে যাওয়া সব পার্সেল স্ক্যান করে পাঠানো হয়। সন্দেহজনক কিছু পেলে খুলে চেক করা হয়। বিদেশ থেকে আসা পার্সেলও খুলে যাচাই করা হয়।”
আরও বলেন, “এসব পণ্য সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকে। ফলে জিনিস হারানো বা নিষিদ্ধ জিনিস গ্রাহকের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। প্রেরকের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দিতে হয়।”
খরচ
ঢাকা থেকে কানাডার মন্ট্রিলে এক কেজি পার্সেল পাঠাতে বিশ্বখ্যাত একটি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের খরচ ৭ হাজার ৬শ’ ৩০ টাকা।
একই পার্সেল ডাক বিভাগের ইএমএসে পাঠাতে খরচ হয় ২ হাজার ৪শ’ টাকা। প্যাকেজিং ও অনলাইন তথ্য ইনপুট বাবদ আরও ১৮০ টাকা। মোট খরচ দাঁড়ায় ২ হাজার ৫শ’ ৮০ টাকা।
অর্থাৎ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় খরচ এক-তৃতীয়াংশেরও কম।
তবে সময় লাগে বেশি। সাধারণত ১৫-২০ দিন। দ্রুত পাঠাতে চাইলে ইএমএসে খরচ কিছুটা বেশি হয়।
ডাক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, জেলা ও উপজেলা ডাকঘর থেকে এয়ার পার্সেল ও ইএমএসে ২০ কেজি পর্যন্ত পণ্য পাঠানো যায়। এয়ার পার্সেল ১৮৩ দেশে যায়, ইএমএস ৪৩ দেশে।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেসব দেশে বেশি থাকেন— মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপ— সেসব দেশে পার্সেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
দুই ঈদ ও শীতকালে চাহিদা আরও বাড়ে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাসী শ্রমিকেরাও এই সেবা ব্যবহার করেন।
জিপিও’তে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ পণ্য নিয়ে আসছেন। ‘লেটার রাইটার’রা পণ্য যাচাই-বাছাই করে প্যাকেটজাত করেন।
অনলাইনে তথ্য ইনপুট দিয়ে বুকিং সম্পন্ন করেন। এরা ডাক বিভাগের নিবন্ধিত এজেন্ট। বিনিময়ে নির্ধারিত ফি নেন।
খরচের হিসাব (প্রথম ৫শ’ গ্রামের জন্য): আন্তর্জাতিক এয়ার কুরিয়ার পাঠানোর ডাক মাশুলের হারটি গত ২০২২ সালে প্রজ্ঞাপন হয়।
প্রজ্ঞাপনটি দেখতে চাইলে( https://objectstorage.ap-dcc-gazipur-1.oraclecloud15.com/n/axvjbnqprylg/b/V2Ministry/o/office-bdpost/2024/12/22e9189eb9eb418d8ca6d4ec2ea6ca07.pdf)
সেই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রথম ৫শ’ গ্রাম বা আধা কেজি পণ্য পাঠাতে কানাডায় ২ হাজার ৫০ টাকা, ব্রিটেনে ১ হাজার ৬৭০ টাকা, ইতালিতে ১ হাজার ৬১০ টাকা, জাপানে ১ হাজার ২২০ টাকা, কাতারে ১ হাজার ৫০ টাকা, সৌদি আরবে ১ হাজার ২৫০ টাকা, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১ হাজার ৩০ টাকা, আমেরিকায় ১ হাজার ৮৫০ টাকা।
অতিরিক্ত প্রতি ৫শ’ গ্রামের জন্য অল্প টাকা নির্ধারণ করা আছে। যেমন- সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৭০ টাকা, যুক্তরাষ্ট্রে ৩৮০ টাকা আর ইতালিতে ২৭০ টাকা।
অতিরিক্ত প্রতি ৫শ’ গ্রামের জন্য আলাদা মাশুল। ইএমএসে প্রথম ১শ’ গ্রামের জন্য নির্দিষ্ট মাশুল, তারপর অতিরিক্ত প্রতি ১শ’ গ্রামের জন্য আরও।
এতে ১৫ শতাংশ শুল্ক-কর দিতে হয়। এয়ার পার্সেলে আলাদা শুল্ক-কর নেই।
সরকার এই সেবা থেকে মুনাফা করে না। তাই অন্য যে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক কম খরচে সেবা দেওয়া হয়।
প্রতিটি পার্সেলের প্রতিটি ধাপ ডেটা স্ক্যান করা হয়। গ্রাহক ট্র্যাকিং ও ট্রেসের মাধ্যমে সহজেই অবস্থান জানতে পারেন।
পণ্য না পেলে অনুসন্ধান করে কারণ জানা যায়।
আরও পড়ুন
পান্থপথের ফুটপাথে মিলছে কম দামে ব্র্যান্ডের জুতা