Published : 31 Jan 2026, 05:51 PM
রাস্তার একপাশে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের মতো নামকরা শপিং মল, যেখানে দেশের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের পণ্য হাতের নাগালে। অথচ জুতা কিনতে মানুষের ভিড় জমে অন্যপাশের ফুটপাতে; স্থানটি পান্থপথ।
রাজধানীর কারওয়ানবাজার মোড় থেকে সামান্য এগোলেই এই বিপরীত চিত্র। বড় শপিং মলের ঠিক উল্টোদিকে ফুটপাতে কয়েকটি অস্থায়ী দোকান। ওপরে প্লাস্টিকের ছাউনি, নিচে কাঠের তাকে সাজানো বিভিন্ন ধরনের জুতা।
এই ছোট ছোট দোকানগুলো ক্রেতাদের মধ্যে এখন বেশ নামডাক। কারণ সহজেই বোঝা যায়— এখানে চামড়ার জুতা পাওয়া যায় অত্যন্ত কম দামে। বড় বড় ব্র্যান্ডের জুতা, যেগুলো শোরুমে পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা, সেগুলো এখানে অর্ধেকেরও কম দামে মিলে যায়।
করোনা ভাইরাস মহামারির পরপরই এই ফুটপাতের উত্থান ঘটে। আগেও দোকান ছিল, তবে ক্রেতাদের ভরসা অর্জনের গল্প মূলত গত তিন-চার বছরের।
মো. ফরহাদ হোসেন একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। সপ্তাহে ছয় দিন অফিসে যেতে হয় কেতাদুরস্ত হয়ে। মাসের শেষে হাত খালি থাকায় শোরুম ছেড়ে এসেছেন পান্থপথে।
কিছুক্ষণ দোকানগুলো ঘুরে দেখার পর দেড় হাজার টাকায় একজোড়া অক্সফোর্ড শু কিনে ফেলেন।
জুতার গোড়ালির দিকে সামান্য ভাঁজ থাকলেও তিনি খুশি।
“ওইটুকু খুঁত এড়িয়ে গেলে জুতোজোড়া একেবারে ফাটাফাটি। প্রমোশন না হওয়া পর্যন্ত শোরুমে যাচ্ছি না”- হাসতে হাসতে বললেন তিনি।
এই ফুটপাতের বিশেষত্ব ‘এক্সপোর্ট কোয়ালিটি’র জুতা।
একটি দোকানের কর্মচারী আব্দুল হোসেন বলেন, “যে জুতা শোরুমে পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা, সেগুলো এখানে ২ হাজার টাকায় পাওয়া যায়। ফর্মাল, বুট, লোফার, ক্যাজুয়াল— সব ধরনের এক্সপোর্ট কোয়ালিটির আইটেম এত কম দামে আর কোথাও মিলবে না।”
এসব জুতার উৎস ইপিজেড ও বিভিন্ন ফ্যাক্টরি।
ইশরাক হোসেন এই মার্কেটে প্রায় এক দশক ধরে কাজ করছেন। তিনি দাবি করেন, “রেডটেপের ক্যাজুয়াল, লাসোকির ফর্মাল, এয়ার জর্ডানের ‘এ’ গ্রেড সু— সবই এখানে পাওয়া যায়। কাস্টমাররা আরও ভালো চেনেন।”
আরেক বিক্রেতা খোরশেদ আলম বললেন, “বিদেশি ক্রেতারা সামান্য খুঁত দেখলেই পণ্য বাতিল করে দেন। ফ্যাক্টরিতে উৎপাদনের সময় ত্রুটি ধরা পড়লে সেগুলোও আর রপ্তানি হয় না। এসব ‘রিজেক্টেড’ জুতা চলে আসে ঢাকার ফুটপাতে।”
এসব পণ্য চট্টগ্রাম রোডের কারখানা থেকে নিলামে কেনা হয়।
খোরশেদ আলম বলেন, “তিনটা গ্রেডের জুতা থাকে। ‘এ’ গ্রেড আমরা রাখি, ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রেড অন্য ফুটপাতে পাঠিয়ে দিই।”
দামের পরিসরও আকর্ষণীয়। ফর্মাল জুতা দেড় হাজার থেকে ২ হাজার টাকা। লোফার এক হাজার থেকে শুরু। ভালো মানের চাইলে এক থেকে দেড় হাজার টাকা। বুটের দাম ৩ হাজার পর্যন্ত।
এক্সপোর্ট ছাড়াও কিছু চাইনিজ ও দেশীয় কমদামি পণ্য রাখা হয় কম বাজেটের ক্রেতাদের জন্য।
ক্রেতাদের বড় অংশ চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এম ফিলের শিক্ষার্থী রাসেল আহমেদ জানালেন, তিনি এখানকার নিয়মিত ক্রেতা।
তিনি বলেন, “ছাত্রদের তো এপেক্স-লোটো থেকে জুতা কেনার টাকা থাকে না। বারোশ থেকে দেড় হাজার টাকায় অরিজিনাল চামড়ার ফর্মাল জুতা পাওয়া যায়। এটা আসলে আশীর্বাদের মতো।”
খোরশেদ জানান, শীতকালে ব্যবসা জমে ওঠে। রোজার মাস ঈদের আগে আবার বেচাকেনা বাড়ে।
আরও পড়ুন
টঙ্গীর চেরাগ আলী মার্কেটে সিরামিকের রাজ্যে