Published : 12 Jul 2026, 06:28 PM
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তীব্র আপত্তি ও পরিবেশগত উদ্বেগের মধ্যেই রাতে পৃথিবীর বুকে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করবে এমন এক পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন বা এফসিসি।
‘রিফ্লেক্ট অরবিটাল’ নামের স্টার্টআপটির তৈরি এ স্যাটেলাইটটি যে রেডিও স্পেকট্রাম বা বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করবে তার কারণেই এফসিসির এ অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল।
বিজ্ঞানীদের বড় উদ্বেগ অন্য জায়গায়, যন্ত্রটি সচল থাকা অবস্থায় মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর এর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে তা নিয়ে তারা চিন্তিত বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
রিফ্লেক্ট অরবিটালের এ স্যাটেলাইটটির নাম ‘ইয়ারেন্দিল-১’। সূর্যরশ্মি নির্দিষ্ট দিকে পাঠানোর জন্য এতে রয়েছে একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য ‘উচ্চ পাতলা পর্দার সক্ষমতার রিফ্লেক্টর’।
পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে চলার সময় মহাকাশে অন্য কোনো বস্তুর সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে এবং দিক পরিবর্তনের সুবিধার্থে স্যাটেলাইটটিতে বিল্ট-ইন প্রপালশন বা চালিকা সিস্টেমও যোগ করেছে স্টার্টআপটি।
রিফ্লেক্ট অরবিটালের পরিকল্পনা হচ্ছে, স্পেসএক্সের স্টারলিংকের মতো বড় স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, যার মাধ্যমে প্রয়োজন অনুসারে যে কোনো স্থানে সূর্যের আলো সরবরাহ করা যাবে।
যেমন, সৌর প্যানেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে বা দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় উদ্ধারকারী দলের সুবিধার্থে। আপাতত একটিমাত্র স্যাটেলাইট দিয়েই তারা এ ধারণার কার্যকারিতা পরীক্ষা করবে।
বৈজ্ঞানিক মহলে এ ধারণাটি বিনা চ্যালেঞ্জে পার পেয়ে যায়নি। এফসিসির দেওয়া স্মারক মতামত ও আদেশে রিফ্লেক্ট অরবিটালের এ পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট নিয়ে ওঠা বিভিন্ন সমালোচনার জবাব দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
এফসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করে এ প্রযুক্তি নিয়ে নিজেদের গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন তারা।
আবেদনটির বিরোধিতা করে ‘আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি’ লিখেছে, “আমরা রিফ্লেক্ট অরবিটালকে লাইসেন্স দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করছি, কারণ এই আবেদনটি সাধারণ টেলিযোগাযোগ স্যাটেলাইটের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী।
“প্রস্তাবিত স্যাটেলাইটটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই পৃথিবীর বুকে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করবে, যেটিকে যতটা সম্ভব উজ্জ্বল করে তোলার জন্যই ডিজাইন করা হয়েছে। ফলে জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত গবেষণায় এর যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে।”
সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, এ স্যাটেলাইটের তীব্র আলো শৌখিন জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের চোখের ক্ষতি এবং ‘পাইলট ও গাড়িচালকদের সাময়িকভাবে অন্ধ করে দেওয়ার মতো ঝলকানি তৈরি করতে পারে’।
‘আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি’র তথ্য অনুসারে, রিফ্লেক্ট অরবিটাল নিজেও চোখের ক্ষতির এ ঝুঁকির কথা স্বীকার করেছে। তবে তা কেবল ‘যদি কেউ ১২ ইঞ্চির চেয়ে বড় অ্যাপারচারের টেলিস্কোপ দিয়ে ইয়ারেন্দিল-১-এর দিকে সরাসরি তাকান তার বেলায়’।
এর জবাবে এসব বিষয় বিবেচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এফসিসি। এ ক্ষেত্রে তারা ‘কমিউনিকেশনস অ্যাক্ট’-এর দোহাই দিয়ে বলেছে যুক্তরাষ্ট্রের মূল নীতি ‘জনগণের জন্য নতুন প্রযুক্তি ও সেবার জোগানকে উৎসাহিত করা’।
সংস্থাটির মতে, রিফ্লেক্ট অরবিটালের এ নতুন প্রযুক্তিটি জনস্বার্থের অনুকূলেই। আর স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত যেসব বড় উদ্বেগের কথা বলা হচ্ছে তা ‘রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি স্পেকট্রাম বা বেতার তরঙ্গ ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনের যে আইনি ভূমিকা তার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়’।