Published : 02 Feb 2026, 02:08 PM
ভালো ঘুম না হলে শরীর যেমন ক্লান্ত থাকে, তেমনি মনও থাকে অস্থির। অনেকেই রাতভর চেষ্টা করেও, ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না, অথচ কারণটাও খুঁজে পান না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে বড় একটি কারণ হতে পারে শোবার ঘরের তাপমাত্রা। ঘর খুব বেশি গরম বা খুব বেশি ঠাণ্ডা হলে শরীর স্বাভাবিকভাবে বিশ্রাম নিতে পারে না।
তাই আরামদায়ক ঘুমের জন্য শোবার ঘরের সঠিক তাপমাত্রা জানা এবং তা ঠিক রাখা জরুরি।
যে কারণে তাপমাত্রা ঘুমের সঙ্গে জড়িত
রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে লাইফস্টাইল-বিষয়ক মার্কিন লেখক অ্যাশলি জিলাটোপোলস্কি বলেন, “শরীরের নিজস্ব একটি প্রাকৃতিক ছন্দ আছে, যাকে সার্কেডিয়ান রিদম বলা হয়। এই ছন্দ অনুযায়ী সন্ধ্যার পর শরীর ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা হতে শুরু করে, যাতে ঘুমের জন্য প্রস্তুত হওয়া যায়। এই সময় শোবার ঘরের তাপমাত্রা যদি বেশি গরম থাকে, তাহলে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কমতে বাধা পায় এবং ঘুম আসতে দেরি হয়।”
বিশেষজ্ঞদের মতে আদর্শ তাপমাত্রা
যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত ‘স্লিপ কোচ’ এবং ‘স্টার্ট স্লিপিং’ নামের প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রায়ান ফিওরেনজি বলেন, “গভীর ঘুমের জন্য সবচেয়ে ভালো পরিবেশ হল শীতল পরিবেশ।”
তার মতে, “বেশিরভাগের জন্যই শোবার ঘরের আদর্শ তাপমাত্রা প্রায় ৬৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ১৮.৩৩ সেলসিয়াস।”
তবে সবার জন্য এই নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখা সম্ভব নাও হতে পারে।
মার্কিন ঘুম চিকিৎসাবিদ এবং ‘দ্য রেস্টফুল স্লিপ প্লেস’য়ের প্রতিষ্ঠাতা ডা. ফাঙ্কে আফোলাবি-ব্রাউন এক্ষেত্রে একই প্রতিবেদনে বলেন, “সাধারণভাবে ষাট থেকে বাহাত্তর ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে তাপমাত্রা থাকলে ঘুমের পরিবেশ সবচেয়ে উপযোগী হয়। এই সীমার মধ্যে থাকলে শরীর আরাম পায় এবং ঘুমের গুণগত মান ভালো হয়।”
অর্থাৎ বিশেষজ্ঞদের বলা আদর্শ ঘুমের তাপমাত্রা বাংলাদেশি হিসাবে প্রায় ১৫ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে।
শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা ও মেলাটোনিনের ভূমিকা
ডা. ফাঙ্কে আফোলাবি-ব্রাউনের ভাষায়, “সন্ধ্যার পর শরীর মেলাটোনিন নামের একটি হরমোন নিঃসরণ শুরু করে। এই হরমোন মস্তিষ্ককে জানিয়ে দেয় যে এখন ঘুমের সময়। শীতল পরিবেশ মেলাটোনিন নিঃসরণকে আরও সক্রিয় করে, ফলে দ্রুত ঘুম আসে এবং ঘুম হয় গভীর।”
অন্যদিকে, গরম পরিবেশ মেলাটোনিনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দেয় এবং ঘুম ভেঙে ভেঙে যায়।
ঘর বেশি গরম হলে যে সমস্যা হয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, শোবার ঘর খুব বেশি গরম হলে শরীরের মূল তাপমাত্রা বেড়ে যায়। ফলে অস্বস্তি তৈরি হয়, ঘাম হয় এবং বারবার ঘুম ভেঙে যায়।
ডা. ফাঙ্কে আফোলাবি-ব্রাউন বলেন, “অতিরিক্ত গরম পরিবেশ গভীর ঘুম এবং স্বপ্নের ঘুমের সময়কে কমিয়ে দেয়। এই দুই ধাপের ঘুম মানসিক সতেজতা ও শারীরিক পুনরুদ্ধারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম কম হলে সকালে ঘুম ভাঙার পরও ক্লান্তি থেকে যায়।”
খুব ঠাণ্ডা ঘরেও যে কারণে ঘুমের সমস্যা হয়
অনেকে মনে করেন, যত ঠাণ্ডা তত ভালো। তবে বাস্তবে খুব বেশি ঠাণ্ডা ঘরেও ঘুম ব্যাহত হতে পারে।
অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় শরীর নিজেকে গরম রাখার চেষ্টা করে, ফলে স্বাভাবিক বিশ্রাম ব্যাহত হয়।
ডা. আফোলাবি-ব্রাউন বলেন, “ঠাণ্ডাজনিত অস্বস্তিও ঘুমের মান খারাপ করতে পারে। তাই মূল কথা হল- আরামদায়ক শীতলতা, চরম ঠাণ্ডা নয়।”
শীত ও গ্রীষ্মে কি তাপমাত্রা বদলানো দরকার?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতু বদলালেও ঘুমের জন্য আদর্শ তাপমাত্রার ধারণা খুব একটা বদলায় না। কারণ ঘুমের সময় শরীর স্বাভাবিকভাবেই ঠাণ্ডা হতে চায়।
গ্রীষ্মে ঘর ঠাণ্ডা রাখা একটু কঠিন হলেও ঘুমের মান ভালো রাখতে শীতল পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। শীতকালে হিটার ব্যবহারে অতিরিক্ত গরম ঘরও একইভাবে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
ঘুমের আগে গরম পানিতে গোসল যে কারণে উপকারী
ডা. ফাঙ্কে আফোলাবি-ব্রাউন জানান, ঘুমানোর প্রায় এক ঘণ্টা আগে কুসুম গরম পানিতে গোসল করলে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে আসে। এতে মেলাটোনিন নিঃসরণ বাড়ে এবং দ্রুত ঘুম আসে।
পুরো শরীর গোসল সম্ভব না হলেও, শুধু পা গরম পানিতে ভিজিয়েও ভালো ফল পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন
টানা আট ঘণ্টা ঘুমাতে পারলে যা হয়