Published : 11 Feb 2026, 06:37 PM
হঠাৎ খেয়াল করলেন ফোনটা পাশে নেই। সঙ্গে সঙ্গে বুক ধড়ফড় শুরু হল, মনে হলো কিছু একটা ‘মিস’ হয়ে যাচ্ছে।
হাত বাড়িয়ে খুঁজছেন ফোন— না পেলে অস্থিরতা, বিরক্তি, এমনকি রাগও চলে আসছে। এই অবস্থার নাম নোমোফোবিয়া— অর্থাৎ মোবাইল ফোন ছাড়া থাকার ভয়।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা রহমান দিনা বলেন, “নোমোফোবিয়া (নো মোবাইল ফোন ফোবিয়া)’ এখনও আনুষ্ঠানিক মানসিক রোগের তালিকায় নেই, তবে এটি টেকনোলজি-সম্পর্কিত উদ্বেগজনিত সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।”
স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়— এটি আমাদের কাজ, পরিচয়, বিনোদন এবং নিরাপত্তাবোধের অংশ হয়ে গেছে।
“মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, ফোন আমাদের মস্তিষ্কে একটি ‘ডোপামিন-রিওয়ার্ড সাইকেল’ তৈরি করে। নোটিফিকেইশন, মেসেজ, লাইক— সব মিলিয়ে মস্তিষ্ক বারবার ফোন চেক করতে চায়। ফোন না থাকলে সেই রিওয়ার্ড বন্ধ হয়ে যায়, ফলে উদ্বেগ তৈরি হয়”- ব্যাখ্যা করেন এই মনোবিদ।
নোমোফোবিয়ার সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে-
এই লক্ষণগুলো যদি দৈনন্দিন জীবন, কাজ বা সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কারা বেশি ঝুঁকিতে আছেন?
গবেষণায় দেখা গেছে, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে ‘নোমোফোবিয়া’র প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। কারণ—
তবে শুধু তরুণরাই নয়— কাজের চাপ, একাকিত্ব বা দীর্ঘদিনের উদ্বেগ থাকলে যে কোনো বয়সের মানুষই এতে আক্রান্ত হতে পারেন।
নোমোফোবিয়া থেকে মুক্তির সহজ উপায়
“ফোন জীবন সহজ করেছে এতে সন্দেহ নেই। তবে ফোন যদি আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, তখন থামা জরুরি”- মন্তব্য করেন ডা. দিনা।
আরও পড়ুন