Published : 08 Sep 2025, 04:07 PM
অনেকেরই পরিচিত অভিজ্ঞতা হল খাবার খাওয়ার পর পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া, ভারী লাগা বা গ্যাসে ভরা অস্বস্তি।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘ব্লোটিং’ বা পেট ফাঁপা।
সাধারণ ধারণা হল- অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে এ সমস্যা হয়। তবে অনেক সময় স্বাস্থ্যকর খাবারও পেট ফাঁপার কারণ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘লাইভ ইট আপ’ প্রতিষ্ঠানের পুষ্টিবিদ লেনা বাকোভিচ নিজের অভিজ্ঞতায় ইটদিস নটদ্যাট ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছন- কীভাবে তিনি নিয়মিত পেট ফাঁপার সমস্যায় ভুগতেন এবং কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পর সমস্যার সমাধান পেয়েছেন।
দুগ্ধজাত খাবার: সুস্বাদু হলেও সবার জন্য নয়
চিজ, দুধ, দই কিংবা আইসক্রিম দুগ্ধজাত খাবার অনেকের প্রিয়।
তবে লেনা বাকোভিচের মতে, এগুলোই তার পেট ফাঁপা ও গ্যাসের অন্যতম কারণ।
তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি, দুগ্ধজাত খাবার অনেক সময় গ্যাস ও পেট ফাঁপা তৈরি করে।”
চিকিৎসা বিজ্ঞানে দেখা গেছে, অনেক মানুষের দেহে ল্যাক্টোজ অসহিষ্ণুতা থাকে। অর্থাৎ, তাদের শরীরে দুধজাতীয় খাবার হজমের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইমের ঘাটতি থাকে। ফলে দুধ বা দুধজাতীয় খাবার খাওয়ার পর গ্যাস, পেট ব্যথা ও অস্বস্তি দেখা দেয়।
ডাল ও শিমজাতীয় খাবার: প্রোটিনের পাশাপাশি গ্যাসের ঝুঁকি
ডাল, মসুর, ছোলা কিংবা বিভিন্ন ধরনের শিম আমাদের খাবারে বহুল ব্যবহৃত। এগুলো প্রোটিনে সমৃদ্ধ হলেও অনেক সময় হজমে সমস্যা তৈরি করে।
বাকোভিচ বলেন, “কিছু সময়ের জন্য ডাল ও শিমজাতীয় খাবার সম্পূর্ণ বাদ দিয়েছিলাম, কারণ এগুলো খেলে পেট ফাঁপা ও গ্যাস তৈরি হত।”
গবেষণা অনুযায়ী, শিমজাতীয় খাবারে থাকা জটিল শর্করা হজমের সময় অন্ত্রে ‘ফারমেন্টটেড’ হয়ে অতিরিক্ত গ্যাস তৈরি হয়। তাই সংবেদনশীল পরিপাকতন্ত্রের মানুষের জন্য এগুলো অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
ব্রকলি ও বাঁধাকপি ধরনের সবজি: পুষ্টিকর কিন্তু জটিল
সবজি মানেই সুস্বাস্থ্য। তবে সব সবজি সবার শরীরের জন্য সমানভাবে আরামদায়ক নয়। বিশেষ করে ক্রুসিফেরাস সবজি, যেমন- ব্রকলি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, অনেকের শরীরে পেট ফাঁপা ও গ্যাস সৃষ্টি করে।
বাকোভিচ নিজের অভিজ্ঞতায় বলেন, “বাঁধাকপি বা ব্রকলির মতো সবজি আমাকে একাধিকবার পেট ফাঁপার সমস্যায় ফেলেছে। যদিও এসব উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, তবে অস্বস্তি তৈরি করেছে।”
এই ধরনের সবজিতে উচ্চমাত্রার আঁশ ও গ্লুকোসিনোলেট থাকে, যা অন্ত্রে ভেঙে গ্যাস তৈরি করতে পারে। ফলে এগুলো খাওয়ার পর কারও কারও পেট ভারী লাগে বা ফুলে যায়।
অতিরিক্ত আঁশযুক্ত সিরিয়াল: হজমে জটিলতা
ফাইবার বা আঁশ হজমের জন্য উপকারী এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কার্যকর। তবে অতিরিক্ত আঁশ অনেক সময় উল্টো সমস্যা তৈরি করে।
বাকোভিচ বলেন, “নতুন একটি উচ্চ আঁশযুক্ত সিরিয়াল খাওয়ার পর কয়েক দিন ধরে আমি পেট ফাঁপার সমস্যায় ভুগেছি, যদিও আগের ব্র্যান্ড খাওয়ার সময় এমন হয়নি।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত আঁশ হজম হতে সময় নেয় এবং অন্ত্রে ‘ফারমেন্টেড’ হয়ে গ্যাস সৃষ্টি করে। তাই হঠাৎ বেশি পরিমাণ আঁশ খেলে পেট ফাঁপা, অস্বস্তি ও ব্যথা হতে পারে।
আরাম পেতে সময় লাগে কয়েক দিন
খাবার তালিকা থেকে এই খাবারগুলো বাদ দেওয়ার পরও সাথে সাথেই আরাম পাওয়া যায় না।
বাকোভিচের অভিজ্ঞতা হল, “আমার ক্ষেত্রে সাধারণত তিন থেকে পাঁচ দিন সময় লাগে পেট ফাঁপার উপসর্গ কমতে।”
তিনি আরও বলেন, “সকালে লেবু ও আদার রস খেলে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করলে ফাঁপাভাব দ্রুত কমে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গবেষণাতেও দেখা গেছে, ‘হাইড্রেইশন’ বা শরীরকে পর্যাপ্ত তরল রাখলে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয় এবং গ্যাস কম তৈরি হয়।
ধীরে ধীরে খাবার ফিরিয়ে আনা
এমন নয় যে, সব সময় এসব খাবার চিরতরে বাদ দিতে হবে।
বাকোভিচ বলেন, “একটা দীর্ঘ সময় বাদ দেওয়ার পর আমি ধীরে ধীরে এসব খাবার ফিরিয়ে আনি। তবে পরিমাণ কম রাখি এবং রান্নার ধরনে পরিবর্তন আনি।”
এ বিশেষজ্ঞ বাঁধাকপি আগে কাঁচা সালাদ হিসেবে খেতেন, এখন স্যুপে রান্না করে খান। এতে হজম সহজ হয়। তিনি খাবার খাওয়ার পর উপসর্গগুলো নোট করে রাখেন, যাতে বোঝা যায় কোন খাবার কতটা সমস্যা করছে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: সবার জন্য আলাদা সমাধান
লেনা বাকোভিচ স্পষ্ট করে বলেন, “খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন অবশ্যই ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি পুষ্টিবিদের পরামর্শে এই পরিবর্তন আনা যায়।”
কারণ, একেকজনের দেহের সহনশীলতা ভিন্ন। কেউ দুধ খেলে সমস্যা পান, কেউ আবার শিমজাতীয় খাবারে অসুবিধায় পড়েন।
তাই নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে, ধীরে ধীরে পরীক্ষা করে খাবার তালিকা তৈরি করতে হবে।
আরও পড়ুন
বয়স বৃদ্ধির সাথে পেটফোলা-ভাব বেশি হওয়ার যত কারণ