Published : 19 Jan 2026, 04:36 PM
সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর হাউজবোটে করে ঘুরে দেখার জন্য উপযুক্ত সময় হলো বর্ষার মৌসুম। বর্ষার মৌসুম চলে গেলে হাউজবোট-গুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যায় টাঙ্গুয়ার হাওরে। শীতের একটা দীর্ঘ মৌসুম এই ‘বোট’গুলো বসিয়ে রাখলে লোকসান গুনতে হয় বোট মালিকদের।
লোকসান থেকে কিছুটা নিস্তার পেতে হাউজবোট নিয়ে মালিকেরা শীতের মৌসুমে সবাই ছুটছেন পদ্মায়।

শীতের মৌসুম এলে খরস্রোতা পদ্মা নদীর শীতল রূপ দেখা যায়। ঘোলা পানির পদ্মা নদী নিলাভ রূপ ধারণ করে। কুয়াশা ঘেরা পদ্মায়, নিলাভ জলরাশির ওপর হাউজবোটে ভেসে শীতল বাতাসে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার নতুন দুয়ার খুললো পদ্মা নদীর বুকে।
ছুটির দিনে এক দিনের ভ্রমণের জন্য সবার কাছে প্রিয় পদ্মা ব্রিজ। ঢাকার আশপাশে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কিংবা সরকারি ছুটির দিনে ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেল করে প্রিয়জন বা পরিবারের সাথে সময় কাটানোর জন্য বর্তমান সময়ে আলোচিত ভ্রমণ গন্তব্য।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাউজবোটে করে পদ্মা নদীর চরে ঘুরে বেড়ানো কিংবা ফুটবল বা ভলিবল খেলা থেকে শুরু করে পদ্মা নদীর শীতল জলে লাফ ও ঝাঁপেরও ব্যবস্থা থাকছে হাউজবোটগুলোতে।

কোন কোন জায়গা থেকে ছাড়ছে হাউজবোটগুলো
পদ্মা নদীতে বর্তমানে ১৪ থেকে ১৫টি হাউজবোট প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরতে পারছে দর্শনার্থীরা।
পদ্মা নদীতে ঘুরে বেড়ানো হাউজবোটগুলো চারটি জায়গা থেকে ছাড়ে। মুন্সিগঞ্জের লৌহজং বাজার, বেজগাঁও, শিমুলিয়া ঘাট (পুরাতন মাওয়া ঘাট) এবং দোহারের নারিশা বাজার।

ঢাকা থেকে যেভাবে যাবেন
ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা মোটারসাইকে যোগে খুব সহজেই যাওয়া যায় হাউজবোটগুলোতে। মোটারসাইকেল বা গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য জায়গা রেখেছেন হাউজবোট মালিকেরা।
ব্যক্তিগত গাড়ি না থাকলে বাস যোগে যাওয়া যাবে হাউজবোট ছাড়ার জায়গাগুলোতে।
ঢাকার গুলিস্তান ও যাত্রাবাড়ি থেকে ইলিশ এবং গাঙচিল পরিবহন নামে দুটি বাস সকাল ছয়টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কিছু সময় পর পর ছেড়ে যায়। জনপ্রতি ভাড়া পরবে ৭০ থেকে ১শ’ টাকা।

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং বাজার, বেজগাঁওয়ে সরাসরি যাওয়া যাবে ইলিশ পরিবহনে এবং শিমুলিয়া ঘাট (পুরাতন মাওয়া ঘাট)
সহজে যাওয়া যাবে গাঙচিল পরিবহনে। তাছাড়া হাউজবোটের মালিকেরা ঢাকা থেকে ‘পিক অ্যান্ড ড্রপ’য়ের কিছু প্যাকেজ রেখেছে।
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং বাজার থেকে যেসব হাউজবোট ছাড়ে তার মধ্যে একটি হল ‘ভেলা’। এছাড়াও মুন্সিগঞ্জের লৌহজং বাজার থেকে ছাড়ে ‘গ্রীন হ্যাভেন’, ‘ডুব সাতার’, ‘জলতরী’, ‘দোহেম’-সহ আরও বেশ কিছু বোট।
যেসব সুবিধা মিলবে
হউজবোট গুলো সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ঘাট থেকে ছেড়ে যায় পদ্মা নদীতে ঘুরে বেড়ানো জন্য।

সকালে হাউজবোটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আপ্যায়ন করা হবে শরবত দিয়ে। হাউজবোট ছাড়ার সাথে সাথে পরিবেশন করা হবে সকালের নাস্তা। থাকবে খিচুড়ি, মুরগির মাংস, বেগুন ভাজি, আচার ও সালাদ। খোলা আকাশের নিচে পদ্মার নিলাভ পানিতে ভেসে হাউজবোটের ছাদেই করা যাবে এই নাস্তা। সকালের নাস্তার কিছু সময় পর পরিবেশন করা হয় মৌসুমি ফল।
সকালে যাত্রা শুরু করার এক থেকে দেড় ঘন্টার মধ্যে হাউজবোট নিয়ে যাবে পদ্মার মাঝে জেগে ওঠা নারিশার চরে।

ধু ধু বালুচরে হাউজবোটে থাকা যাত্রীরা ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যাবে না। সেখানে নেমে চাইলেই যে কেউ ফুটবল ও ভলিবল খেলতে পারবে। খেলার জন্য বলের ব্যবস্থা হাউজবোটগুলো করে দেয়।
নারিশার চরের মাঝে দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট ছোট খালে চাইলে যে কেউ গোসল করতে পারে। নদীতে নিরাপদে গোসলের জন্য থাকে লাইফ জ্যাকেট।
দুপুরে নারিশার চর থেকে বোট ছাড়ার সাথে সাথে পরিবেশন করা হবে দুপুরের খাবার। সাদা ভাত/ পোলাও, মাংস (মুরগি/ গরু/ হাঁস যে কোনও একটি), ইলিশ মাছ ভাজি, সবজি, ডাল, ইলিশ মাছের লেজের ভর্তা এবং কোমল পানীয়।

দুপুরের খাবার শেষ হওয়া কিছু সময় পর হাউজবোট ভিড়বে দ্বিতীয় আর একটি চরে। সবুজে ঘেরা চরে দেখতে পাবেন সরিষা ফুলের ক্ষেত, নানান ধরনের শীতের সবজির ক্ষেত।
এই চরে কিছু সময় থাকার পর বিকালের শেষ ভাগে হাউজবোট ফিরবে, যেখান থেকে ছেড়েছিল সেখানে।
ঘাটে ফেরার আগ পর্যন্ত চাইলে হাউজবোট খোলা গলায় গানের আসর বানানো যাতে পারে। সেজন্য হাউজবোটে রয়েছে গিটার।

ঘাটে ফেরার আগে পরিবেশন করা হবে সন্ধ্যার নাস্তা। থাকতে পারে পাকোড়া ও সবজি কিংবা চাওমিন।
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে হাউজবোট যেখান থেকে যাত্রা শুরু করেছিলো সেখানেই এসে থামবে।

হাউজবোট ‘ভেলা’তে জনপ্রতি খরচ
একসঙ্গে পরিবারের সদস্য কিংবা বন্ধুদের নিয়ে যদি ২০ জনের একটি দল হয় তবে জনপ্রতি খরচ পরবে ২ হাজার ৮শ’ টাকা। যদি ৩০ জন বা তার বেশি কোন দল হয় তা হলে জনপ্রতি পরবে ২ হাজার ৩শ’।
এই টাকার মধ্যে ঘোরাঘুরি ও খাওয়া অন্তর্ভুক্ত।
দল ছাড়াও যদি কেউ একা বা দুজন যেতে চায় সেক্ষেত্রে ইচ্ছে মতো দিন-ক্ষণ নাও পেতে পারেন। কেননা বোটগুলো এক সাথে ১০ থেকে ২০ জন হলেই ছেড়ে থাকে।

প্রতিটা হাউজবোটের ফেইসবুক কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজস্ব পেইজ রয়েছে। সেখানে তাদের প্যাকেজগুলো সম্পর্কে জানা যাবে, আর মিলবে যোগাযোগের নম্বর।
যে কেউ চাইলে নিজেদের পছন্দ মতো প্যাকেজগুলো এবং সুবিধা মতো দিন-ক্ষণ নির্ধারন করতে পারবে।
আরও পড়ুন
চীনে ভ্রমণ পর্ব-১: পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু রেলপথে ‘নিষিদ্ধ শহরে’