Published : 08 Dec 2025, 06:50 PM
যদি কখনও মনে হয়, একটু অন্যরকম ভ্রমণ করি– কোনো বাস-ট্রেনের ভিড় নয়, শুধু নদীর হাওয়া, সবুজ দু’পাশ আর প্যাডেলের ছন্দময় শব্দ – তাহলে এই ভ্রমণ করা যাবে ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল স্টিমার ‘পিএস মাহসুদ’-এ।
১৮২৩ সালে হুগলী নদীতে ‘ডায়না’ নামে প্রথম যাত্রীবাহী স্টিমারের যাত্রা ছিল এক যুগান্তকারী ঘটনা। ১৮৮৪ সালে বরিশাল-খুলনা রুটে প্যাডেল স্টিমারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
এই নৌযানগুলোতে তখন ছিল কয়লাচালিত বাষ্পীয় ইঞ্জিন। আর দুই পাশে বিশাল প্যাডেল বা চাকা ঘুরিয়ে নদীর বুকে দ্রুতগতিতে ছুটে চলত। এই দ্রুতগতির কারণেই লোকজনের কাছে এগুলো ‘রকেট’ নামে খ্যাতি লাভ করে।
১৯২৮ সালের এই লাল-কমলা রংয়ের দৈত্যাকার জাহাজ, এখন প্রতি সপ্তাহে ঢাকা-বরিশাল-ঢাকা রুটে ‘দিবা হেরিটেজ ক্রুজ’ চালাচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসির মহাব্যবস্থাপক (কার্গো ও ফেরী) মো. আজমল হোসেন বললেন, “এটা শুধু যাত্রা নয়, বাংলার নদী-ঐতিহ্যকে জীবন্ত করে তোলার একটা উদ্যোগ।”
সময়সূচি (প্রতি সপ্তাহে একটা রাউন্ড ট্রিপ)
শুক্রবার ঢাকার সদরঘাট থেকে সকাল সাড়ে ৮টায় ছেড়ে চাঁদপুর পৌঁছাবে সাড়ে ১২টায়। সেখান থেকে দুপুর ১টায় ছেড়ে বরিশাল পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৬টায়।
আবার শনিবার বরিশাল থেকে সাড়ে আটটায় রওনা হয়ে চাঁদপুর পৌঁছাবে দুপুর ২টায়। সেখান থেকে আড়াইটায় ছেড়ে ঢাকার সদরঘাটে পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৬টায়।
এইভাবে মোট যাত্রার হবে প্রায় ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা। দিনের আলোয় পুরো নদীপথ দেখতে দেখতে যাওয়া হবে স্বপ্নের মতো!

ভাড়া
সুলভ শ্রেণি: জনপ্রতি ৬শ’ টাকা (ডেকে বসার জায়গা, চেয়ার আছে)
দ্বিতীয় শ্রেণি: জনপ্রতি ১ হাজার ৬৫০ টাকা (এসি কেবিন, খাট-চেয়ার)
প্রথম শ্রেণি: জনপ্রতি ২ হাজার ৬শ’ টাকা (ভ্যাটসহ, প্রাইভেট কেবিন, বারান্দা, আরামদায়ক বিছানা)
খাবার আলাদা কিনতে হবে, তবে জাহাজে রেস্তেরাঁ আছে। ইলিশ-চিংড়ি থেকে শুরু করে বিরিয়ানি, সবই মিলবে।

টিকেট প্রাপ্তি
কেন চড়বেন?
কারণ এটা শুধু যাত্রা নয় – এটা হবে অতীতের ঐতিহ্যের সঙ্গে নিজেকে ছুঁয়ে নেওয়া।
১৯২৮ সালের কাঠের সিঁড়ি, পিতলের রেলিং, প্যাডেলের ছপছপ শব্দ, নদীর হাওয়ায় চুল ওড়ানো – যেন ‘সারেং বৌ’ সিনেমার দৃশ্য বাস্তবে নেমে এসেছেন।
রবীন্দ্রনাথ, গান্ধীজি, রানি এলিজাবেথ – যারা এই রকেটে চড়েছেন, তাদের পথে হাঁটবেন আপনি।

‘পিএস মাহসুদ’ এখন নতুন ইঞ্জিন, জিপিএস, লাইফ জ্যাকেট– সব আধুনিক নিরাপত্তা নিয়ে চলছে, তবে অবকাঠামো রাখা হয়েছে একশ বছর আগের মতোই।
এই শীতে বা বর্ষায় একবার চড়ে দেখুন। ৬শ’ টাকায় পাবেন বাংলার নদী-ঐতিহ্যের জীবন্ত ছোঁয়া।
আরও পড়ুন
প্যাডেল স্টিমার: বাংলার নদীপথের কালজয়ী গাথা