Published : 09 May 2025, 01:13 PM
ভ্রমণ বা বেড়াতে যাওয়া মানে আমার কাছে হল একটা সুন্দর পরিকল্পনা, যেখানে থাকবে যাওয়া আসার জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক যাতায়াত ব্যবস্থা, খুব ভালোমানের হোটেল, মজার মজার খাবার, অনেক কেনাকাটা আর সঙ্গে অনেক সুন্দর কিছু সময়।
চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি ঠিক এভাবেই তিন বছর ঘুরেফিরে বন্ধুদের আড্ডাতে গিয়ে জানা হল অন্য রকম ভ্রমণের কথা। যেখানে থাকবে না কোনো জৌলুস, শুধু প্রকৃতির কাছে নিজেকে শপে দিতে হবে। বন্ধুদের বললাম যাব। সবাই এক বাক্যে বললো কখনই সম্ভব না।
না করার পেছনে কারণ তো অবশ্যই আছে। আমাকে না করা মাত্রই জেদ চেপে গেল। সবাই বললো তুমি তো সমতলেই হাঁটতে পার না, গাড়ি ছাড়া চল না, ভালো হোটেল ছাড়া থাকতে পার না। আর পাহাড়ি রাস্তায় হাঁটার অভিজ্ঞতাও নেই।
তুমি যাবে অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্পে?
বললাম যাব।
সবার প্রশ্ন- কেন যাবে?

বললাম- প্রতিদিন অন্নপূর্ণা একটু একটু করে আমার কাছে আসবে ব্যাপারটা কী যে সুন্দর হবে!
আর জীবনে প্রথম ‘ট্র্যাক’ স্মরণীয় করে রাখতে চাই। যেভাবেই হোক অন্নপূর্ণা যাব। সবাই সেদিন একটা কথাই বলেছিলো তুমি তো যা বলো তা যেভাবেই হোক করে ছাড়। বেস্ট অফ লাক।
এভাবেই চলে গেল কয়েক মাস, বছর। মনের ইচ্ছাকে বাস্তবে আর রূপ দেওয়া হয় না।
তারপর এই বছরের জানুয়ারি মাসে ফেইসবুকে দেখলাম একটা গ্রুপ ‘আল্টিচিউড হান্টার’। নামটা ভালো লাগলো। তাদের গ্রুপে যোগ দিলাম। ভালো লাগলো ছেলেগুলোকে দেখে। পাহাড়ের প্রতি কি অদম্য ভালোবাসা!
কথা বললাম গ্রুপ অ্যডামিনের সঙ্গে। অদ্ভুত এক ছেলে ফজলুর রহমান শামীম। বললো- ‘আপা চলেন’।
এই প্রথম কেউ সাহস দিল। আবার চিন্তা করলাম। এক মাস পর আবার নক করলাম। আবার বলল- ‘আপা চলেন। আপনি পারবেন আমি জানি।’
এবার সাহস নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম। রোজার ঈদের পর যাব তিন বছরের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে। টিকেট করে ফেললাম। এক এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল।
পাহাড়ের ভ্রমণ একদমই আলাদা। না আছে কোনো স্টাইলিশ কাপড়, জুতা, এত এত মেইকআপ। আর আমার কাছে তো পাহাড়ে যাওয়ার মতো কিছুই নেই।
আবার শামীম ভাইকে টোকা দিলাম; বললাম- ‘কী নিয়ে যাব।’
বললো- ‘একটা ব্যাকপ্যাকও নাই?’
আমার উত্তর ‘না’ শুনে অবাক হলেও বললো- ‘আপা কোনো সমস্যা নাই। আমি শপিংয়ে হেল্প করব।’
আর বাস্তবে সে তাই করল। আমিও অবাক হলাম। কথা আর কাজের মিল দেখে।
আমি দেখা শুরু করলাম বিভিন্ন গ্রপের ইউটিউব ভিডিও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য। আর শামীম ভাইকে ফোন দিলে বলতো- ‘আপা এক্সারসাইজ করেন। অনেক সিঁড়ি ভাঙতে হবে।
এরমধ্যে আমাদের ‘টিম মেট’দের নিয়ে ফেইসবুকে একটা গ্রুপ খোলা হল। ২০ জনের দল। কাউকেই চিনি না। মনের ভেতর অনেক প্রশ্ন। কেমন হবে তারা? আস্তে আস্তে সবার সঙ্গে পরিচিত হলাম। মনে হল নতুন কিছু অভিজ্ঞতা হবে।
যাত্রার দিন ঢাকা বিমানবন্দরে সবার সঙ্গে পরিচিত হলাম। প্রথম পরিচয়েই মনে হল সবাই সবাইকে অনেক দিন থেকেই চিনি।
হাসি ঠাট্টা, একজনের সঙ্গে আরেকজনের মজার মজার খুনসুটি করতে করতে আমরা নেমে গেলাম কাঠমান্ডু ত্রিভুবন বিমানবন্দরে। আমার ভিসা আবেদন পত্রে ভুল হওয়াতে ৩০ মিনিট বেশি সময় লেগেছিল।
যা হোক- বের হয়ে দেখতে পেলাম ‘টিম লিডার’ রনি ভাই আমাদের অপেক্ষায়। এয়ারপোর্ট থেকেই আমরা সবাই সিম কিনে নিয়েছিলাম। এরপর বাসে করে চলে গেলাম থামেলে। দুপুরের খাবার খাওয়ার পর ডলার ভাঙালাম, আর কিছু কেনাকাটা বাকি ছিল যা কিনে নিলাম।
সন্ধ্যায় বাসে করে রওনা দিলাম পোখারার উদ্দেশ্যে। একটু একটু করে স্বপ্নের কাছাকাছি।
রাস্তায় রাতের খাবার সারা হল। ভোরে পোখারা পৌঁছে হোটেলে দুই ঘণ্টা বিশ্রাম নিয়ে হল সকালের নাস্তা। এর মধ্যেই গাড়ি চলে এল। আমাদের আসল গন্তব্য শুরু।
ব্যাকপ্যাক গুছিয়ে বাকি লাগেজ হোটেলে রেখে রওনা দিলাম ‘ঝিনু’র উদ্দেশ্যে। আগেই জানা ছিল ঝিনু পর্যন্ত গাড়ি যাবে না। ২৫ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটতে হবে। এরপর আবার গাড়িতে। মাঝে আমাদের বেস ক্যাম্পের জন্য অনুমতি নেওয়া হল।
কিছুদূর যাওয়ার পর গাড়ি নামিয়ে দিল। আগে ঠিক করে রাখা পোর্টার (যারা মালপত্র টানে) আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলো। তাদের ব্যাগ দিয়ে শুরু হল আমাদের ট্র্যাকিংয়ের প্রথম দিনের দিনের প্রথম অংশ।
৩০ মিনিট পর আবার গাড়িতে উঠলাম। এরপর ঝিনুতে পৌঁছে দুপুরের খাবারের পর শুরু হল আসল ট্র্যাক।

প্রথম দিন
আমাদের গন্তব্য ছিলে ঝিনু থেকে চমরং। যারা ট্যাকিংয়ে অভ্যস্ত তাদের সময় লাগে দুতিন ঘণ্টা। আমার লেগেছে সাত ঘন্টা। শুরুতেই ছিল সেই ঝুলন্ত ব্রিজ। যাকে বলা হয় ‘সাসপেনশন ব্রিজ’।
পুরোটা রাস্তা জুড়ে শুধু সিঁড়ি আর সিঁড়ি। একটু করে সিঁড়ি ভেঙে রাতের কম ঘুম, ক্লান্তি আমাকে প্রথম দিনেই চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল। তবে টিমমেটদের অনুপ্রেরণায় পারলাম শেষ পর্যন্ত চমরং পৌঁছতে।
উঠলাম একটা টি হাউজে। রাতের খাওয়ার জায়গাটাও মজার। টেবিল আর বেঞ্চ রাখা। গোল হয়ে বসতে হয়। সবার জন্য ‘সেট মেন্যু’।
বলে রাখা ভালো আমরা যত ওপরে উঠবো গরম পানির দুষ্প্রাপ্যতা বাড়বে। প্রথম দিন আমরা হাঁটলাম ১, হাজার ৭শ’ ৮০ মিটার থেকে ২ হাজার ১শ’ ৭০ মিটার।
দ্বিতীয় দিন
সকালে ঘুম থেকে উঠে টি হাউজের লন থেকে অন্নপূর্ণার প্রথম দেখা পেলাম। মুহূর্তের মধ্যে সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেল। মনে হল আমাকে পারতেই হবে।
সকালের নাস্তা শেষ করে পোর্টারকে ব্যাগ গুছিয়ে দিলাম। আর ডে প্যাক নিজের কাছে রাখবো। যাতে থাকে শুকনা খাবার, গরম পানি, শীতের কাপড়।
পাহাড়ের আবহাওয়া আন্দাজ করা যায় না। কখন যে তার রাগ হয় আর কখন কান্না পায়, সে শুধু পাহাড়ই জানে। তাই সব সময় প্রস্তুত থাকতে হয়।
রওনা হলাম সবাই মিলে। গন্তব্য দোভান, দূরত্ব ২ হাজার ১শ’ ৭০ মিটার থেকে ২ হাজার ৬শ’ মিটার। মাঝে দুপুরের খাবারের জন্য সিনুয়া’তে থামা হবে।
যে যার মতো আমরা হাঁটি আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করি। অনেক কষ্ট হয় কিন্তু একটু দুষ্টুমি, গল্প, নাচানাচি সব কিছুই করতে করতে সিনুয়া’তে পৌঁছাই। এর মধ্যে বুঝে গেলাম আমি এই দলের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতির।
তবে অবাক করার বিষয়- আমাকে নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ নাই। বরং অনেকেই বললো- ভালো হয়েছে আস্তে যাব প্রকৃতি দেখতে দেখতে।
এখন বুঝি আমাকে শান্তনা দেওয়ার জন্য এভাবে বলতো তার।
দুপুরের খাবার শেষ করে আবার হাঁটা শুরু। সবাই দোভান পৌঁছালো সন্ধ্যায়; আমি রাতে। আমার সঙ্গে ছিল নেপালি গাইড আর পোর্টার। রাতে দোভানে ফ্রেশ হয়ে খাবার খেয়ে ঘুম।
তৃতীয় দিন
সকালে উঠে ব্যাগ গুছিয়ে পোর্টারকে দিয়ে নাস্তা করে রওনা হলাম। আমি একটু আগে। কারণ আমার প্রতিদিন দেরি হচ্ছে। আজকের গন্তব্য দেউরালি। দূরত্ব ২ হাজার ৬শ’ মিটার থেকে ৩ হাজার ২শ’ মিটার। মাঝে দুপুরের খাবার হিমালয়াতে।
এই রাস্তাটা বনের ভেতর দিয়ে। রডোডেনড্রন ফুল দেখতে পেলাম। একটু পর পর ঝরনা। হিমালয়া যাওয়ার পথে মন্দির পেলাম। কি সুন্দর করে যে সাজানো!
পথে একটু বিশ্রাম; সঙ্গে চললো ভিডিওগ্রাফি আর ফটোগ্রাফি।
যেতে কষ্ট হচ্ছিল কারণ একটানা ওপরে উঠছিলাম। আস্তে আস্তে হিমালয়াতে পৌঁছলাম। গিয়ে শুনি আমাদের একজনের হার্ট রেট মিনিটে ২২০ বার। বিশ্রাম নিল, অক্সিজেন নিল। লাভ হল না। তাকে তখন আর ট্র্যাকের অনুমতি দেওয়া হল না। নিচে নেমে যেতে বলা হল।
আর আমরা দুপুরের খাবার খেয়ে রওনা দিলাম দেউরালি’র উদ্দেশ্যে। এবার আবহাওয়া খারাপ। বৃষ্টি আর জীবনে প্রথম তুষারপাত দেখলাম। খুব বেশি উপভোগ করতে পারলাম না। একটু ‘মিস ইনফরমেইশনের’ কারণে আমার কাছে রেইন কোট বা শীতের কাপড় কিছুই ছিল না।

হিমালয়ান থেকে দেউরালি যাওয়ার পথে পুরোটাই ভিজে গেলাম। খুব অসহায় লাগছিল। এত ঠাণ্ডা, হাত পা জমে গেল
টিমের একটা ছেলে আমার সঙ্গে ছি। সুজন পুরোটা রাস্তায় সাহায্য করার চেষ্টা করেছে। হাঁটতে হাঁটতে এক পর্যায়ে গিয়ে দেখলাম বরফের পাহাড়। ‘গ্লেসিয়ার’ বলে বরফের পাহাড়কে।
বরফে হাঁটার জন্য আমাদের কাছে ছিল না কোনো যন্ত্রপাতি। প্রতিটা পদক্ষেপ মেপে মেপে ফেলেছি, আমি আর সুজন। এই ছেলের কাছে সারা জীবনের কৃতজ্ঞতা। ওর কারণেই শেষ পর্যন্ত দেউরালি পৌঁছতে পারলাম।
রাত আটটা বেজেছিল। বাইরে তুষারপাত; তাপমাত্রা মাইনাস তিন। অদ্ভুত এক পরিবেশ।
রাতে দেওয়া হল গার্লিক সুপ। পাহাড়ে নাকি এই সুপ কাজ করে ম্যাজিকের মত। রাতে ঘুম ভালো হল।
তবে আমার লেগে গেল কাশি। বুঝতে পারলাম সমস্যা হতে পারে। সঙ্গে থাকা অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করলাম।
চতুর্থ দিন
অবশেষে গন্তব্য অন্নপূর্ণা বেইস ক্যাম্প। দূরত্ব ৩ হাজার ২শ’ মিটার থেকে ৪ হাজার ১শ’ ৩০ মিটার।
ঘুম থেকে উঠে দেখি বরফে আবৃত সাদা হয়ে আছে চারিদিক। অপার্থিব দৃশ্য। সাদা পাথরের পাহাড়ের অনেক কাছে আমি।
সকালের নাস্তা, ফটোসেশন শেষ করে শুরু হল হাঁটা। অদ্ভুত অনুভূতি। বরফের ওপর দিয়ে সাবধানী হয়ে হাঁটা। মুহূর্তের ভুল হতে পারে কোনো ক্ষতির কারণ।
বরফে হাঁটার জন্য জুতার সঙ্গে আলাদা করে ‘ক্রম্পন’ ব্যবহার করতে হয়। আস্তে আস্তে ঠাণ্ডার পরিমাণ বাড়ছিল।
ওপরে ওঠা অনেক কষ্টকর হয়ে যাচ্ছিল। বুঝতে পারছিলাম অক্সিজেন কম পাচ্ছি। সবার চেয়ে পিছিয়ে পড়ছিলাম। মনে হচ্ছিল নিশ্বাস নিতে পারছি না। তবে থামছিলাম না। শরীরের শক্তি কমে গেলেও মনের অদম্য শক্তি তো আছে।

হঠাৎ দেখতে পেলাম ‘ফিস টেইল’ বা মাছাপুছারে। সঙ্গে সঙ্গেই আবার শক্তি চলে আসলো। বেলা তিনটায় পৌঁছলাম এবিসিতে। গ্রুপের সবাই দুই ঘণ্টা আগেই পৌঁছে গিয়েছে।
এখানে পৌঁছানোর পর টিম লিডার সিদ্ধান্ত নিলেন আমাকে আর নেবেন না। কারণ অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। আমাদের সঙ্গে একজন আঙ্কেলও ছিলেন। উনিও যাবেন না।
তবে আমাকে বলার সঙ্গে সঙ্গেই বেঁকে বসলাম। আমাকে সাপোর্ট দিলেন টিমমেটরা। যাদের নাম না বললেই না। ফোরকান ভাই, কাব্য সুজন, রনি, এমিল, রাফিদ। একটাই কথা- যত রাত হোক আমাকে নিয়েই তারা যাবেন এমবিসিতে।
মানুষের মনের বিশালতার কাছে পাহাড় হার মানলো। দলের সিদ্ধান্ত হল- আমি যাব। সঙ্গে থাকবেন টিমমেটরা। শুরু করলাম হাঁটা।
একটু করে হাঁটি আর কষ্ট বাড়তে থাকে। থেমে যাই। আবার চলি। পাশে এসে দাঁড়ালো নেপালি গাইড আর দুজন পোর্টার। শেষ আধা ঘণ্টায় মনে হচ্ছিল মরে যাব।
অল্প অল্প পা ফেলে পৌঁছাতে পারলাম কাঙ্ক্ষিত এবিসিতে। রাত বাজে সাড়ে ১১টা। খাবার শেষ করে ঘুমাতে চলে গেলাম। রাত ১টায় শুরু হল আমার শ্বাসকষ্ট, অক্সিজেন নিলাম। টিমমেটদের কাছে আগে থেকেই অক্সিজেন ছিল।
আমার রুমমেট বৃষ্টি; পিচ্চি একটা মেয়ে যে কি-না আমার সেবা করল সারারাত। রাতে মোট তিনবার অক্সিজেন নিলাম।

পঞ্চম দিন
সকাল ৭টায় ঘুম ভেঙে উঠে দেখি চোখের সামনে এত কাছে অন্নপূর্ণা সাউথ, অন্নপূর্ণা ১, অন্নপূর্ণা ২। মনের জোরে-ই যে সব কাছে এল প্রমাণ পেলাম। অনেক ফটোসেশন করলাম। ভুলে গেলাম চার দিনের সব কষ্ট।
এরপর ফেরার পালা। আমার যেহেতু অক্সিজেনের দরকার হচ্ছিল তাই মনে করলাম সাহায্য লাগবে।
সবাই সেদিন ব্যাম্বোতে চলে গেলেও আমি থেকে গেলাম দোভান। পরদিন দোভান থেকে ঘোড়ায় করে চমরং।
চমরং এসে পুরো দল মিলে ‘সেলিব্রেইট’ করি সারারাত। পরদিন চলে আসি ঝিনু। এরপর পোখারা। আস্তে আস্তে যান্ত্রিক জীবনে।
এই সফর থেকে আমি এখনও বের হতে পারিনি। এতগুলো ভালো মনের মানুষ পেয়েছি যা ছিল চিন্তার বাইরে।
মনে রাখতে হবে
এই ভ্রমণে বেশিরভাগ সময়ই ফোনে নেটওয়ার্ক থাকে না। টি হাউজে পৌঁছলে তাদের স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়।

সতর্কতা
সবসময় পরিস্থিতি আমার মতো অনুকূলে নাও থাকতে পারে। তাই পাহাড়ে যাওয়ার আগে অবশ্যই নিয়মিত শরীরচর্চা করে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে হবে। ‘ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি’ বাড়াতে হবে।
পাহাড়ে টিমের সঙ্গে চলার চেষ্টা করতে হবে।
যে মুহূর্তে শরীরে কোনো প্রকার অস্বস্তি দেখা দেবে তখনই ধীর হয়ে যেতে হবে। তাড়াহুড়া করা যাবে না।
সময় নিয়ে যেতে হবে। রেসের মতো যাওয়া যাবে না। প্রকৃতিকে উপভোগ করতে হবে।
পাহাড়ের আবহাওয়া সম্পর্কে ধারণা করা যায় না। তাই প্রাথমিকভাবে সবকিছু কাছে রাখতে হবে।
প্রচুর পানি পান করতে হবে।

ভ্রমণের ক্ষেত্রে অবশ্যই পরিবেশের প্রতি সদয় হতে হবে। এত দীর্ঘ একটা ট্র্যাক, এত এত ট্র্যাকার যাচ্ছে কিন্তু কোথাও ময়লা চোখে পড়েনি। পথে কোনো ময়লা না ফেলে সামনের যে কটেজ বা হোটেল থাকবে সেখানে ডাস্টবিনে ফেলতে হবে।