Published : 14 Jul 2026, 01:11 AM
শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়াতে কোম্পানি আইনের অধীনে মুনাফাভিত্তিক বা অমুনাফাভিত্তিক কোম্পানি গঠনের ক্ষমতা দিয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
সোমবার সংসদ অধিবেশনে বিলটি নিয়ে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন বিরোধী দলের সদস্যরা। কিন্তু কণ্ঠভোটে দুই প্রস্তাবই নাকচ হয়। এরপর বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বিলের ওপর আলোচনায় বিরোধী দলের সদস্যরা অভিযোগ করেন, এর মাধ্যমে সরকারি চিকিৎসাসেবা বাণিজ্যিকীকরণের পথ খুলে দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বাড়বে এবং রাষ্ট্রীয় মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনকল্যাণমূলক চরিত্র ক্ষুণ্ন হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা জনগণের অধিকার। সরকারি প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা থাকলেও যাদের বেসরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য নেই, তারা বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর করেন। এখানে যদি আবার মুনাফাভিত্তিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় বা যুক্ত করা হয়, জনগণের উপরে কিন্তু আবার একটা বড় ধরনের দায় চাপবে। যেটুকু স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া যাচ্ছে সেটাও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেবে।”
তিনি বিলটি প্রত্যাহার করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠনের পর সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আবার সংসদে আনার দাবি তোলেন।
বিরোধী দলের আরও কয়েকজন সদস্য বলেন, একটি সরকারি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে কোম্পানি কাঠামোর আওতায় আনলে চিকিৎসা খাতে ‘অসুস্থ প্রতিযোগিতা’ সৃষ্টি হবে এবং দরিদ্র রোগীরা আরও সংকটে পড়বেন।
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, “বিলটির উদ্দেশ্য বিদ্যমান বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে কোম্পানিতে রূপান্তর করা নয়; বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নির্মিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল পরিচালনার জন্য একটি কার্যকর আইনি কাঠামো তৈরি করা।
“কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে, যন্ত্রপাতিও এসেছে। দক্ষ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চিকিৎসক এবং জনবল নিয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা দিতে এই আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন। এই লাভ কেউ বাইরে নিতে পারবে না।”
দরিদ্র রোগীরা সেবা পাবেন না, এমন আশঙ্কাও নাকচ করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “বিলটি নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে কোম্পানিতে রূপান্তর করা হচ্ছে না; বরং প্রয়োজন হলে একটি কোম্পানি গঠনের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে; যাতে উন্নত চিকিৎসাসেবা পরিচালনা, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় অনুদান গ্রহণ সহজ হয়।
“বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানাধীন কোম্পানির ৯০ শতাংশ শেয়ার তাদের এবং ১০ শতাংশ সরকারের কাছে থাকবে; কোনো ব্যক্তির কাছে শেয়ার যাবে না। কোম্পানির আয়ও হাসপাতালের উন্নয়নেই ব্যয় হবে।”