Published : 14 Jul 2026, 01:02 AM
বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার রেওয়াজে যে ছেদ ঘটেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তা কি উতরাতে পারবে বিএনপি সরকার?
প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণির বই ছাপার দরপত্র ইতোমধ্যেই আহ্বান করা হয়েছে। তবে দরপত্র উন্মুক্ত ও চূড়ান্ত করা, মূল্যায়ন, মন্ত্রণালয়ে ও সরকারি ক্রয় কমিটির অনুমোদনের পর বই ছাপার কাজ শুরু হতে সেপ্টেম্বর গড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যদিও বছরের অর্ধেক চললেও পাঠ্যক্রম পরিমার্জনের কাজ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আগামী বছর যে চারটি নতুন বিষয় যুক্ত হতে যাচ্ছে, সেগুলোর লেখার কাজও এখনো শেষ হয়নি।
এমন বাস্তবতায় বই ছাপা শেষে করে বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলছেন, এবার বড়দিনের আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছবে।
তার ভাষ্য, বার্ষিক পরীক্ষার সময়ই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা নতুন শ্রেণির পাঠ্যবই হাতে পাবেন।
সরকার নভেম্বরের মধ্যেই বই ছাপার কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

নানা জটিলতা থাকলেও সেই এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে বই ছাপানো ও সরবরাহের তদারকি প্রতিষ্ঠান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বড়দিনের আগেই পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। এজন্য প্রচলিত সময়ে যে কাজে যতটুকু সময় প্রয়োজন হতো তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
“আশা করছি, আমরা নির্ধারিত সময়ে বই ছাপার কাজ শেষ করে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে পারব। এজন্য সব মহলের সহযোগিতা চাই।”
শিক্ষাক্রম পরিমার্জন চূড়ান্ত হয়নি, নতুন বই লেখাও বাকি
বিদ্যমান ২০১২ সালের পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম আরও পরিমার্জন করে আগামী বছরে শিক্ষার্থীদের নতুন বই দেওয়া হবে। আর ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম পুরোপুরি বিস্তরণের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের কাজ এখনো চলছে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর এবং সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ইকবাল হায়দার।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে অধ্যাপক ইকবাল হায়দার বলেন, “আমাদের শিক্ষক্রম পরিমার্জনের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের কাজ অনেকটা গুছিয়ে এনেছে।

“পরিমার্জন চূড়ান্ত হলে তা জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি-এনসিসিসিতে অনুমোদনের পর তা বই ছাপার কাজ শুরু হবে।”
অগাস্টের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
নতুন শিক্ষাক্রমে নতুন চারটি বিষয় চালুর পরিকল্পনা করেছিল সরকার; তবে তা এগিয়ে এনে আগামী বছরই চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি নিয়ে দুটি বিষয় পড়তে হবে চতুর্থ শ্রেণি থেকে। আর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে যুক্ত হবে ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’। এ নতুন বইগুলো লেখার কাজ এখনও শেষ হয়নি।
এনসিটিবি সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নতুন বইগুলো লেখার কাজ করছে শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের যে কমিটি গঠন করেছে, তারা।

তাদের মাধ্যমে এনসিটিবি এ কাজটি করছে। বই ছাপার শুরু আগে যথাসময়ে পরিমার্জন ও নতুন বই লেখার কাজ শেষ হবে।
“এরপর এনসিসিসির সামনে আমরা পরিবর্তনগুলো তুলে ধরব। তাদের অনুমোদন পাওয়ার পর ছাপার কাজ শুরু হবে।”
মুদ্রাকররা কী বলছেন
বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পাঠ্যবইয়ের বিষয়ে এনসিটিবির যে প্রস্তুতি তাতে ঈশান কোণে মেঘ দেখছি। জুনে এসে পাঠ্যবই ছাপার দরপত্র আহ্বান করা হলেও পাঠ্যবই সংশোধন চূড়ান্ত হয়নি।
“এদিকে এবার লটের আকার বাড়িয়ে সংখ্যা কমানো হয়েছে। এর ফলে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ পাবে না। আর সেপ্টেম্বরে আগে ছাপার কাজ শুরুর কোনো আলামত দেখছি না। অগাস্টের শুরুতে টেন্ডার মূল্যায়নের পর মন্ত্রণালয় ও ক্রয় কমিটির মূল্যায়নে সময় যাবে আরও এক মাস।

“এরপর চুক্তির পর প্রকাশকরা কাজ শুরু করতে আরও ২৮ দিন সময় পাবেন। সেপ্টেম্বরে একসঙ্গে সবাই কাজ শুরু করলে কাগজের সংকট হওয়ার সম্ভাবনা আছে।”
চলতি বছরে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপানো বইয়ের বাড়তি ফর্মার বিল বাবদ ১৮ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে ছাপাখানার। এ বিল এখনও পাননি মুদ্রাকররা। যদিও এনসিটিবি দ্রুত এ টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ব্যাংক ঋণ পাওয়া নিয়ে মুদ্রাকরদের আশঙ্কা রয়েছে বলে ভাষ্য রূপালী প্রিন্টিং প্রেসের স্বত্বাধিকারী তোফায়েল খানের।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ বছরের বইয়ের বাড়তি ফর্মার বিল বাবদ ১৮ কোটি টাকা এখনও পরিশোধ করেনি এনসিটিবি।
“এ পরিস্থিতিতে তারা নতুন করে ব্যাংক ঋণও পাবেন কি না তা নিয়েও আশঙ্কা আছে। এমন বাস্তবতায় বই ছাপার কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে কি না তা নিয়েও শঙ্কা আছে।”
বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, “এনসিটিবির পক্ষ থেকে আমাদের বলা হয়েছে অগাস্টের শুরুতে তারা চুক্তি সই করবেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পর আমরা কাজ শুরু করতে পারব।

“অগাস্টের শুরুতে চুক্তি হলে ১০ অগাস্টের মধ্যে আমরা ছাপা শুরু করতে পারব।”
বই ছাপানোর কাজ সম্পন্ন হতে কত সময় লাগতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে দোহার প্রিন্টিং প্রেসের এ স্বত্বাধিকারী বলেন, “এবার আমাদের মেশিনগুলো ঠিক আছে, নতুন মেশিনও যুক্ত হয়েছে। বই ছাপার কাজ করতে এবার তিন মাসের বেশি সময় লাগবে না।”
৩০ কোটি বই ছাপাতে ব্যয় হবে ১৯০০ কোটি টাকা
আগামী বছরের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ কোটি ২৭ লাখ বই ছাপা হবে। এজন্য ১ হাজার ৮৯৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু।
তিনি জানান, ১৪১টি লটে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের জন্য ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার কপি বই ছাপানো হবে। পিডিআই ও পিএলআই মিলিয়ে খরচ ধরা হয়েছে ৪৫৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
আর এবতেদায়ী স্তরের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি এবং মাধ্যমিক, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য ৫৩৫টি লটে ছাপা হবে ২২ কোটি ৫ লাখ ৫৫ হাজার ২৫২ কপি বই। পিডিআই ও পিএলআই মিলিয়ে খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৩৮ কোটি ৮০ লাখ ৪২ হাজার ৬০১ টাকা।
কাগজের মান যাচাই, বই ছাপানো, বইয়ের মান যাচাই করে সরবরাহের ছাড়পত্র দেওয়ার মতো কাজ হয় প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন (পিডিআই) প্রক্রিয়ায়। অন্যদিকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বই পৌঁছার পর প্রত্যেক উপজেলা থেকে বই সংগ্রহ করে সেগুলোর মান যাচাই করা হয় পোস্ট ল্যান্ডিং ইন্সপেকশন (পিএলআই) প্রক্রিয়ায়। এসব কাজে এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে থাকে এনসিটিবি।
|
এবতেদায়ী, মাধ্যমিক, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরের পাঠ্যপুস্তক
|
|||
|
শ্রেণি |
লট |
পাঠ্যপুস্তক |
বাজেট |
|
এবতেদায়ী |
৩৬ |
৩৩২৯৬৪০০ |
১৪৫৪৬৮০১২০ |
|
ষষ্ঠ |
৭৫ |
৫১০০১৯৫৯ |
২০৯৫৪২১৮৬৬ |
|
সপ্তম |
৭৫ |
৪০৯৬০৬০১ |
২৩৯৮৪৮৪৮১৬ |
|
অষ্টম |
১০০ |
৩৯৩৭৩৯০৫ |
২৭২১৩১১২২৩ |
|
নবম |
২৩৪ |
৫৫৯১৩৩৮৩ |
৫৬৬৭৭০৮৯০৫ |
|
ব্রেইল |
১৫ |
৯০০৪ |
২৭১৬৯৩৫০ |
|
পিডিআই |
- |
- |
১১৬৩৩১৬০ |
|
পিএলআই |
- |
- |
১১৬৩৩১৬০ |
|
মোট |
|
২২০৫৫৫২৫২ |
১৪৩০৮৮০৪২৬০১ |
|
প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তর এবং নৃ-গোষ্ঠীর পাঠ্যপুস্তক
|
|||
|
শ্রেণি |
লট |
পাঠ্যপুস্তক |
বাজেট |
|
প্রাক-প্রাথমিক |
৩০ |
৫৭৩০৬৪০ |
৪৫০৭৩৯৬৮১ |
|
প্রাথমিক |
১১০ |
৭৬২৯৪৭৫৮ |
৪১২১৫৫৩৭২৫ |
|
নৃ-গোষ্ঠী |
১ |
১৪২৩৩২ |
১১২০৮১১০ |
|
পিডিআই |
- |
|
৭৫০০০০০ |
|
পিএলআই |
- |
|
৭৫০০০০০ |
|
মোট |
৮২১৬৭৭৩০ |
৪৫৯৮৫০২১৫৫ |
|
সবস্তরে বই ছাপার দরপত্র ইতোমধ্যে আহ্বান করা হয়েছে। এনসিটিবি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দরপত্র উন্মুক্ত করার পর সেসব মূল্যায়ন হবে ৬ অগাস্ট পর্যন্ত। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদনের পর প্রকাশকদের সঙ্গে চুক্তি করবে এনসিটিবি। তারপর শুরু হবে ছাপার কাজ।
অগাস্টের প্রথম দিকেই বই ছাপার কাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এনসিটিবি সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু মনে করছেন, সেপ্টেম্বর নাগাদ বই ছাপানোর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
|
নতুন বইয়ে যত পরিবর্তন শিক্ষাক্রম পরিমার্জন করে নতুন বইয়ে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এনসিটিবির কর্মকর্তারা। বোর্ডের সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ইকবাল হায়দার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রাথমিক পর্যায়ে ২০২১ সালের শিক্ষাক্রমই চলছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে ওই শিক্ষাক্রম বাতিল হলেও প্রাথমিকে হয়নি। “ওই শিক্ষাক্রমটি আমরা কিছুটা পরিবর্তন আনছি। আর ২০২৮ সালে আমরা সম্পূর্ণ নতুন কারিকুলাম চালু করব।” অধ্যাপক ইকবাল হায়দার বলেন, চতুর্থ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে ‘আমাদের স্মরণীয় নেতা’ শিরোনামের অধ্যায়ে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সম্পর্কিত একটি অংশ যুক্ত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন অধ্যায়ের ভাষা প্রাঞ্জল করাসহ কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আর মাধ্যমিক স্তরের নতুন পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কথা যুক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত আছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের বন্দনা বাদ যাচ্ছে। “নবম দশম শ্রেণির বাংলা বইতে জিয়াউর রহমানের লেখা একটি প্রবন্ধ যুক্ত করার পরিকল্পনা আছে।” ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলায় তৃতীয় ভাষা শিক্ষা নিয়ে একটি অধ্যায় যুক্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
|
যা বলছে সরকার
নতুন বছরের পাঠ্যপুস্তক বছরের শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই ধরনের আশার কথা শুনিয়েছেন এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকুও।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বই ছাপার কাজ করতে আড়াই মাস সময় প্রয়োজন। সেপ্টেম্বরে কাজ শুরু হলেও বই ছাপাতে দেরি হওয়ার কথা নয়। তবে প্রকাশকদেরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।”

বছর শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার প্রচেষ্টার কথা জানিয়েছেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা। তিনি পাঠ্যবইয়ের বকেয়া বিল বাবদ ১৮ কোটি টাকা দ্রুত পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অধ্যাপক ফখরুল মাওলা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেছি। তারা দ্রুতই ওই টাকা পরিশোধ করবেন। আমরা দ্রুতই ওই টাকা পরিশোধ করে দেব।”

আগামী বছরের পাঠ্যপুস্তক ছাপাতে ৮০ হাজার টন কাগজের প্রয়োজন। কাগজের সংকট যেন না হয় তা নিয়ে কাগজকলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে গেল সোমবার বৈঠক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।
ওই বৈঠকের পর তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই মুদ্রণের জন্য কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট ছাড়াই বাজারমূল্যে এবং সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সব কাগজ সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন দেশের পেপার মিল মালিকরা।
এহছানুল হক মিলন বলেন, “বিগত বছরগুলোতে শেষ সময়ে এসে প্রেস মালিকদের প্রায়ই অভিযোগ থাকত যে তারা সময়মতো কাগজ পাচ্ছেন না কিংবা বাজারে কাগজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। এই সমন্বয়হীনতা ও সিন্ডিকেট দূর করতেই এবার দেশের খ্যাতনামা পেপার মিল মালিকদের ডাকা হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছেন—বাজারে কাগজের দাম বাড়াবেন না, নির্ধারিত বাজারমূল্যেই সঠিক সময়ে কাগজ সরবরাহ করবেন।
“প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী, আমরা সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত বই তুলে দিতে বদ্ধপরিকর। দেশীয় মানসম্মত কাগজে যেন বই ছাপা হয়, সেটাই আমাদের আসল উদ্দেশ্য। পেপার মিল মালিকদের এই আশ্বাসের পর এবার মুদ্রণ খাতের প্রেস মালিকদের সাথেও বৈঠক করা হবে। এবার একটি আইনি ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় চুক্তি করা হবে, যেন মাঝপথে কেউ চুক্তির ব্যত্যয় ঘটানোর সুযোগ না পায়।”

দেশের পেপার মিলগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী এই বিপুল পরিমাণ কাগজ আগামী দুই মাসের মধ্যেই সরবরাহ করা সম্ভব দাবি করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পেপার মিল মালিকরা প্রতি মাসে ন্যূনতম ৫৫ হাজার টন মানসম্মত কাগজ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেডের ডিএমডি মুস্তাফিজুর রহমান, মেঘনা পেপার মিলস লিমিটেডের জিএম ইয়ারুল ইসলাম বিদ্যুৎ, টি কে কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেডের জিএম মোস্তফা কামাল, বেস পেপারস লিমিটেডের জিএম জব্বার।
এছাড়াও যথাসময়ে বই ছাপানোর কাজ সফল করতে সরকারকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন সুইস কোয়ালিটি পেপার বিডির প্রতিনিধি শাখওয়াত হোসেন, ক্রিয়েটিভ পেপার মিলসের পরিচালক ফিরোজ আহমেদ, এথিক্যাল পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলসের মাসুদ কামাল রানা ও পারটেক্স পেপার মিলসের লুৎফর রহমান।