Published : 13 Jul 2026, 08:56 PM
চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবার এক কোম্পানিতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে সন্ত্রাসীরা; সেখান থেকে তারা ৩৫ লাখ টাকা ও মালপত্র লুটে নিয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার দুপুরে নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোডে ‘ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন)’ নামে ওিই কোম্পানির কার্যালয়ে এ হামলা চালানো হয়।
কোম্পানির কর্মকর্তাদের অভিযোগ, কয়েক দিন আগে চট্টগ্রামের পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন তাদের কাছে দুই কোটি টাকা এককালীন এবং মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। কিন্তু তারা টাকা না দেওয়ায় সোমবার দুপুরে ডিডিএনে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে সন্ত্রাসীরা টাকা ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
ডিডিএনের হেড অব সেলস এম রবিউল হোসাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দুপুরে মাস্ক পরা বেশকিছু লোক অফিসে হানা দিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করে। ১৬ তলা ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় আমাদের কার্যালয়। হামলার সময় কিছু সন্ত্রাসী ভবনের নিচে অবস্থান নেয়। বাকিরা তৃতীয় তলায় আমাদের প্রশাসনিক কার্যালয়ে ভাংচুর চালায়। সন্ত্রাসীরা সংখ্যায় ৩০ থেকে ৩৫ জন ছিল।
“এ সময় সন্ত্রাসীরা অফিসে থাকা কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। কিছু ল্যাপটপ, আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের জন্য ব্যাংক থেকে আনা ৩৫ লাখ টাকাভর্তি ব্যাগসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে।”
ঘটনার সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা যায়, দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা হাতে একদল দল লোক হঠাৎ ডিডিএনের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। এ সময় তারা অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফোন এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখায়।
এদিকে নিজেকে ডেভিড ইমন দাবি করা এক ব্যক্তির সঙ্গে ডিডিএনের মালিক আদিল হোসেনের একটি টেলিফোন আলাপের অডিও ভাইরাল হয়েছে।
সেখানে ডেভিড ইমন পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “আপনি আমার ডিটেইলস পুলিশ কমিশনারের থেকে জিজ্ঞেস করিয়েন। আমার নম্বরটা দেখাইয়েন আপনি না চিনলে, বুঝছেন? আপনি হয়ত চিনেও না চেনার মত করতেছেন। আমি আপনারে বলতেছি যে, ব্যবসা-বাণিজ্য এখন থেকে আমরা করব। আপনারা আর ব্যবসা-বাণিজ্য করিয়েন না।”
এ সময় ওই ব্যক্তি চট্টগ্রাম-১৬ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমানের বাড়িতে হামলার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন।
ওই ব্যক্তি বলেন, “ব্যবসা-বাণিজ্য যদি করেন, স্মার্ট গ্রুপের মুজিবের ঘরে কি হইছে তো দেখছেন? স্মার্ট গ্রুপের মুজিবের থেকে যাইয়া আমার কথা জিজ্ঞেস করিয়েন, বলবেন সাজ্জাদ গ্রুপের ডেভিড ইমনে কল দিছে।

“আর ব্যবসা-বাণিজ্য করবেন না। আমাদের পোলাপাইন ব্যবসা করবে। ১৭-১৮ বছর তো করছেন ব্যবসা, আর কত করবেন? আমরা ৫ আগস্টের পর আসছি, আমাদের নামে মামলা-টামলা আছে, আমরা ঘুরতেছি। আপনারা কয়টা মার্ডার মামলা খাইছেন?”
চট্টগ্রাম শহরে বিভিন্ন কোম্পানি এখন তাদের সঙ্গে ‘সমন্বয়’ করে ব্যবসা করে দাবি করে টেলিফোনে ওই ব্যক্তি বলেন, “আপনি ২ কোটি টাকা রেডি রাখিয়েন, আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দিবেন। তাহলে আপনি ব্যবসা করেন, না হলে ব্যবসা করিয়েন না। না হলে ব্যবসা আমরা করব, পোলাপাইনের খরচ চালানোর জন্য ২ কোটি টাকা রেডি রাখিয়েন।”
চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলছেন, ডিডিএনে হামলার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন।
“খবর পেয়েই পুলিশ সেখানে গেছে, তদন্ত শুরু হয়েছে। থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই হামলাকারীরা ধরা পড়বে।”
চাঁদা দাবির ওই ফোনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখার কথা বলেন চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার।
এর আগে গত ২ জানুয়ারি ও ২৮ ফেব্রুয়ারি ১০ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে চকবাজার খালপাড় এলাকায় ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমানের বাড়িতে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা।
ওইদিন ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “দুবাই থেকে ফোন করে সাজ্জাদ নামে একজন আমাদের পরিবারের ব্যবসায়ী গ্রুপ থেকে চাঁদা দাবি করেছিল। বিষয়টি আমি গুরুত্ব দিইনি। পরে কয়েকজন এসে সকালে বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে।”
গত বছরের ৩০ মার্চ চন্দনপুরা এক্সেস রোডের মুখে প্রাইভেট কারে গুলি করে জোড়া খুন, ২৩ মে পতেঙ্গা সৈকতে সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবরকে খুন, ৫ নভেম্বর সরোয়ার হোসেন বাবলা খুনের ঘটনায় আলোচিত নাম মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বলছে, ইমনের কাছে ভারী অস্ত্র আছে। বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের একটি অংশ পরিচালনা করেন ইমন। বিভিন্ন সময়ে তাকে ধরার চেষ্টা করলেও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পুরনো খবর
চট্টগ্রামে ‘বড় সাজ্জাদ’ এর নামে ফোন, ‘চাঁদা না পেয়ে’ ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি
ব্যবসায়ী মুজিবুরের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে ‘বড় সাজ্জাদের’ অনুসারীরা: পুলিশ