Published : 13 Jul 2026, 09:36 PM
বয়স তখন মাত্র ১১। ‘যথেষ্ট ভালো নয়’ বলে বাদ পড়েন নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে। তবে দমে যাননি ড্যান বার্ন। সেই প্রত্যাখ্যানকেই প্রেরণা বানিয়ে, ফুটবলের বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে জায়গা করে নেন ইংল্যান্ড জাতীয় দলে। ৩৪ বছর বয়সে এসে বিশ্বকাপে করছেন দেশের প্রতিনিধিত্ব!
বিশ্বকাপে এসেও প্রথম চার ম্যাচ বেঞ্চে বসে কাটাতে হয় বার্নকে। ঐতিহাসিক আসতেকায় ৯০ হাজার দর্শকের সামনে আসে তার ক্যারিয়ারের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, বিশ্ব মঞ্চে দেশের হয়ে প্রথমবার মাঠে নামেন তিনি। মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে স্রেফ ১৫ মিনিট খেলেই ইংল্যান্ডের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন এই ডিফেন্ডার।
জ্যারেল কুয়ান্সা লাল কার্ড দেখায় সেদিন দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় পুরোটা সময় একজন কম নিয়ে খেলতে হয় ইংল্যান্ডকে। ওই সময় মেক্সিকোর একের পর এক আক্রমণ সামাল দিতে হয় তাদের। প্রবল চাপের মুখে দৃঢ় রক্ষণভাগ বাঁচিয়ে দেয় ইংল্যান্ডকে। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। সেই রক্ষণভাগের গুরুত্বপূর্ণ একজন বার্ন।
ছয় দিন পর, নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালেও মাঠে নামার সুযোগ পান বার্ন। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে ২-১ গোলে জেতে ইংল্যান্ড। সেদিন ৯ মিনিট খেলেন এই সেন্টার-ব্যাক।
ওই দুই লড়াইয়ে মাঠে যতটুকু সময় ছিলেন, প্রতিপক্ষের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন বার্ন; ৯ বার বল ক্লিয়ার করার পাশাপাশি দুটি ব্লক করেন তিনি।
বিশ্বকাপে অল্প সময় খেলেই আলোচনায় উঠে আসা বার্নের ক্যারিয়ারের পথচলা কখনও সহজ ছিল না। শৈশবে নিউক্যাসলের কাছ থেকে ‘না’ শুনলেও, স্বপ্নের পথে ছোটা থামাননি তিনি।
নিচের স্তরের প্রতিযোগিতায় ডার্লিংটনের হয়ে খেলার পর ফুলহ্যাম, উইগ্যান অ্যাথলেটিক এবং ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নে খেলার সুযোগ পান বার্ন। ২০২২ সালে যখন শৈশবের ক্লাব নিউক্যাসলে ফিরে আসেন তিনি, তখন কে ভেবেছিল- একদিন ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে খেলবেন এই ফুটবলার। আর ৩৪ বছর বয়সে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলবেন, এটা হয়তো কেউ আশাই করেনি। যেমনটা করেননি বার্ন নিজেও।
টমাস টুখেলের বিশ্বকাপ দলের সঙ্গে উত্তর আমেরিকায় আসার পর বার্ন বলেছিলেন, “আমি যখন কনফারেন্স ও লিগ টুতে ডার্লিংটনের হয়ে খেলতাম, তখন যদি কেউ জিজ্ঞেস করত, আজ এখানে থাকব কিনা, আমি সম্ভবত ‘না’ বলতাম।”
২০২৫ সালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় বার্নের। এখন পর্যন্ত ১০টি ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামার সুযোগ হয়েছে তারা।
বার্নকে নিয়ে আগ্রহের মূল কারণ তার বয়স। যে বয়সে বুটজোড়া তুলে রাখার কথা ভাবা শুরু করেন বেশিরভাগ ফুটবলার, সেই বয়সে এসে তার অভিষেক বিশ্ব আসরে। ফুটবলে যেখানে সবসময় তরুণদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়, সেখানে ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার একজন সেন্টার-ব্যাক তৈরি করছেন হার না মানার উদাহরণ। তার ক্যারিয়ার এটাই বার্তা দেয় যে, জীবন কিংবা ক্যারিয়ার সবসময় সোজা পথে চলে না। ধৈর্য ধরে, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হয়।
বিশ্বকাপের শুরুতে খেলার সুযোগ না পেলেও, ওই সময় যে অভিজ্ঞতা হয়েছে বার্নের, একসময় সেটাই বহু দূর থেকে দেখতেন তিনি। শৈশবের স্মৃতি ২০০২ বিশ্বকাপের কথা স্মরণ করে বার্ন বলেন, ইংল্যান্ড দলের অংশ হয়ে বিশ্বকাপে আসরে আসতে পারাই তার কাছে পরাবাস্তব অনুভূতি।
ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু এবং দলের উদযাপনের অংশ হতে পারাও বার্নের জন্য অবিশ্বাস্য ব্যাপার। সমর্থকদের সঙ্গে উল্লাস এবং ইংলিশ ব্যান্ড ওয়েসিসের জনপ্রিয় গান ‘ওয়ান্ডারওয়াল’ গাওয়ার কথা উল্লেখ করে বার্ন বলেন, ক্যারিয়ারে প্রথম বড় টুর্নামেন্টের প্রতিটি মুহূর্তকে স্মৃতিতে ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তিনি।
নিজের ক্যারিয়ারের গল্প অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে, এমনটাই আশা ইংলিশ ডিফেন্ডার ড্যান বার্নের।
তার স্মৃতির পাতায় সামনেই যোগ হবে আরও বড় মুহূর্ত, বিশ্বকাপ সেমি-ফাইনাল। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী ১৬ জুলাই বাংলাদেশ সময় ১টায় (এএম) বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড।