Published : 13 Jul 2026, 11:27 PM
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রকল্পের অধীনে করা ২১টি স্লুইস গেইট চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
সোমবার দুপুরে নগর ভবনে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে অগ্রগতি এবং প্রকল্পটি চসিকের কাছে হস্তান্তর বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
পাউবোর অধীনে চলমান ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলমগ্নতা/জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিষ্কাশন উন্নয়ন’ নামে প্রকল্পটিতে ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের অধীনে বিভিন্ন খালের সঙ্গে যুক্ত ২১টি স্লুইস গেইট নির্মাণ করা হয়েছে।
মত বিনিময়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রকল্পটি হস্তান্তরের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি হবে। যাতে সিটি করপোরেশন ঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে। সে জন্য সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।”
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “রেকর্ড বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের কোন কোন স্থানে জলাবদ্ধতা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণে আমরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পরিদর্শন করেছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের রেকর্ড বৃষ্টিপাতের বিষয়ে অবগত আছেন এবং সে জন্যই উনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, এইখানে স্লুইস গেইট নির্মাণের যে প্রজেক্টটি শেষের পর্যায়ে আছে, সেটা যেন কোন কারণে ব্যাহত না হয়।
“আমি সিটি করপোরেশনের মেয়রকে অনুরোধ করেছি, এক বছর যেহেতু আমাদের এই প্রকল্পের মেয়াদ আছে, এর মধ্যে প্রকল্প পরিচালনার জন্য সিটি করপোরেশনের প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ করতে হবে। আমরা চাই প্রকল্পটি যেন চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই স্লুইস গেটগুলো পুরোপুরি সচল হলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করছি।”
সভাপতির বক্তব্যে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ হলে নগরবাসী প্রকল্পটির পূর্ণ সুফল ভোগ করতে পারবেন।”
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব এ কে এম শাহাবুদ্দিন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম।