Published : 01 Mar 2026, 05:37 PM
চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী মুজিবর রহমানের বাড়িতে গুলি বর্ষণকারীরা ‘বড় সাজ্জাদের অনুসারী’ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চাঁদা না পেয়ে গত শনিবার তারা দ্বিতীয় দফায় নগরীর নগরীর চন্দনপুরায় মুজিবুরের বাসা লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা ফাঁকা গুলি চালায়
রোববার চকবাজার থানার ওসি বাবুল আজাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, একটি মোটরসাইকেল ও নোয়া গাড়িতে করে এসে সন্ত্রাসীরা বাসার পেছন থেকে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।
“তারা সবাই পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী।”
নগরীর চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে শনিবার সকালে। এর আগে গত ২ জানুয়ারিও বাড়িটি লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছিল।
মুজিবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “বাড়ির পেছনের খালপাড় থেকে ভারি অস্ত্র নিয়ে গুলি করা হয়েছে। এতে কেউ হতাহত না হলেও বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
তিনি বলেন, “একটি সন্ত্রাসী চক্র দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কোম্পানি থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিল। মাসখানেক আগে কোম্পানির চেয়ারম্যানকে ফোন দিয়ে হুমকি দেয়।
“প্রথমবার বাড়ির সামনে থেকে গুলি করলেও সেখানে পুলিশ থাকায এবার বাড়ির পেছন থেকে গুলি করেছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসার সু্ষ্ঠু পরিবেশ যেমন বিঘ্নিত হবে, তেমনি ব্যবসায়ীদেরও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে।”
ওসি বাবুল আজাদ বলেন, গত ২ জানুয়ারি গুলি বর্ষণের ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিল এবং তাদের ব্যবহৃত একটি নোয়া গাড়িও জব্দ করা হয়।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, শনিবার সকালে মুজিবর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি করা সন্ত্রাসীরা একটি মোটর সাইকেলে দুইজন এসেছিলেন। অপর দুইজন একটি গাড়ি থেকে নেমেছিলেন। সে গাড়িটি নোয়া বা প্রোভক্স মডেলের হতে পারে।
শনিবার গুলি বর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
এদিকে এ ঘটনা নিয়ে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, "ওদেরকে (গুলি বর্ষণকারী) চিহ্নিত করা গেছে আমাদের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।"
শীর্ষ সন্ত্রাসী থেকে শুরু করে চাঁদাবাজ যত আছে তাদের সবাইকে যত দ্রুত সম্ভব আইনের আওতায় আনার ‘ব্যবস্থা করা হবে’ বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমি আমাদের পরিকল্পনা এখনই ফাঁস করতে চাই না। এ বিষয়ে আমরা অত্যন্ত কঠোর।"
কে এই বড় সাজ্জাদ?
বায়েজিদ চালিতাতলী এলাকার আব্দুল গণি কন্ট্রাক্টরের ছেলে সাজ্জাদের নাম আলোচনায় আসে গত শতকের নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে। তখন ইসলামী ছাত্র শিবিরের ‘ক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত এই যুবক খুনসহ অনেক মামলার আসামি হন।
১৯৯৯ সালে পাঁচলাইশের তৎকালীন ওয়ার্ড কাউন্সিলর লিয়াকত আলী খান বাড়ির সামনে খুন হয়। ওই সময় লিয়াকত হত্যায় সাজ্জাদের নাম উঠে আসে। কিন্তু সাক্ষীর অভাবে ওই মামলা থেকে খালাস পেয়ে যান তিনি। এরপর থেকে অপরাধ জগতে ছড়িয়ে যায় তার নাম।
২০০০ সালের ১২ জুলাই চট্টগ্রামে আট ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী হত্যায় নিম্ন আদালতে সাজ্জাদের ফাঁসির রায় হয়েছিল। পরে উচ্চ আদালত থেকে এ মামলায় খালাস পান তিনি।
২০০০ সালে একে-৪৭ রাইফেলসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে সাজ্জাদ দুবাই পালিয়ে যান বলে গুঞ্জন আছে। তাকে ধরতে ইন্টারপোলে ‘রেড নোটিস’ এখনও ঝুলছে, যেখানে তার নাম লেখা- সাজ্জাদ হোসেন খান।
চট্টগ্রামে থাকাকালে নুরুন্নবী ম্যাক্সন ও সরোয়ার হোসেন বাবলাকে নিয়ে অপরাধ জগৎ দাপিয়ে বেড়াতেন সাজ্জাদ।
সরোয়ার ও ম্যাক্সন দল থেকে সরে যাওয়ার পরও বিদেশে বসে চট্টগ্রামে বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে দল চালানো ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে বলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য আছে।
গত ৫ জানুয়ারি বায়েজিদ থানার চালিতাতলী এলাকায় বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগে গুলি করে খুন করা হয় সরোয়ারকে।
এ খুনের ঘটনায়ও নাম আসে বড় সাজ্জাদের।
মামলায় সরোয়ারের বাবা আবদুল কাদের অভিযোগ করেছিলেন, “সরোয়ারের মৃত্যুর আগের সপ্তাহে সাজ্জাদ বিদেশ থেকে সরোয়ারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন করে ‘তোমার সময় শেষ, যা খাওয়ার খেয়ে নাও’ বলেও হুমকি দিয়েছেন।”
আরও পড়ুন
চট্টগ্রামে ‘চাঁদা না পেয়ে’ ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি
চট্টগ্রামে ‘বড় সাজ্জাদ’ এর নামে ফোন, ‘চাঁদা না পেয়ে’ ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি