Published : 13 Jul 2026, 09:30 PM
টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার পর কুমিল্লা সদর হাসপাতালের প্রধান ভবনের নিচতলার দুটি ওয়ার্ডে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ নেই।
এতে গরম, অন্ধকার ও মশার উপদ্রবে দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। অসহনীয় পরিস্থিতিতে কয়েকজন রোগী হাসপাতাল ছেড়েও চলে গেছেন।
সোমবার সকালে বৃষ্টির পর হাসপাতালের মেডিসিন ও সার্জারি ওয়ার্ডে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এরপর থেকেই দুটি ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
কুমিল্লা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আব্দুল করিম ভূঁইয়া সোমবার রাত ৮টার দিকে বলেন, “জলাবদ্ধতার কারণে বৈদ্যুতিক লাইনে শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাই নিরাপত্তার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। ইলেকট্রিশিয়ানরা কাজ করছেন। দ্রুত বিদ্যুৎ চালুর চেষ্টা চলছে।”
মেডিসিন পুরুষ ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স মীনাক্ষী রানী বলেন, “সকালে পানি ঢোকার পর থেকে বিদ্যুৎ নেই। গরম, মশা ও পোকামাকড়ের কারণে তিন রোগী কাউকে না জানিয়েই হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন।”
মেডিসিন ও সার্জারি মহিলা ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স হোসনেয়ারা বেগম বলেন, একই কারণে ওই ওয়ার্ড থেকেও আট রোগী চলে গেছেন।
মেডিসিন মহিলা ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, মোবাইলের আলোয় এক রোগীকে ইনজেকশন দিচ্ছেন একজন নার্স। অন্য একটি শয্যায় অস্ত্রোপচারের পর ভর্তি এক নারীকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন তার স্বজন। পাশের ওয়ার্ডে মোমবাতির আলোয় এক নারী তার স্বামীকে খাবার খাওয়াচ্ছেন।
কিডনি রোগী মাফিয়া বেগমের জামাতা রিয়াজ হোসেন বলেন, তার শাশুড়ি পাখা ছাড়া থাকতে পারেন না। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তিনি খুব কষ্ট পাচ্ছেন।
অস্ত্রোপচারের পর ভর্তি থাকা মাজেদা আক্তারের মেয়ে নিলুফা আক্তার বলেন, চিকিৎসকরা তার মাকে শুকনো জায়গায় রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু জলাবদ্ধতা ও বিদ্যুৎ না থাকায় তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। সামর্থ্য থাকলে তিনি মাকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতেন।
কুমিল্লা আবহাওয়া কার্যালয় জানায়, সোমবার ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় জেলায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।