Published : 13 Jul 2026, 09:30 PM
ইউভরাজ সিং তো নিজেকে বরাবরই বলেন ‘টার্মিনেটর।’ তিনি নিজের হাতে ঘষেমেজে তৈরি করেছেন ‘টার্মিনেটর ৪’, ক্রিকেট বিশ্ব যাকে চেনে আভিশেক শার্মা নামে। ভারতের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ক্রিকেটারের লক্ষ্য এবার ‘টার্মিনেটর ৬’ তৈরি করা। এই প্রকল্পের জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন বিশ্ব ক্রিকেটের নবতম সেনসেশন বৈভাব সুরিয়াভানশিকে।
এই তিনজনকে সম্প্রতি একসঙ্গে দেখা গেছে লন্ডনে উইম্বলডনের ছেলেদের ফাইনালে। আভিশেক ও সুরিয়াভানশি তো আগে থেকেই সেখানে ছিলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের জন্য। সঙ্গে যোগ হন ইউরাজ। কেতাদুরস্ত হয়ে অন্য খেলার স্বাদ নিয়েছেন তারা। তাদের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে।
তিন প্রজন্মের তিন বাঁহাতি ব্যাটার তারা। তবে ঘরানা একই। আগ্রাসনই তাদের কাছে শেষ কথা। জিওস্টারকে ইউভরাজ নিজেও বললেন, তার স্রোতেরই ধারা এই দুজন।
“আমি সবসময় নিজেকে টার্মিনেটর বলি। এখন আছে টার্মিনেটর ৪ আভিশেক শর্মা, যে আমার চেয়ে চারগুণ ভালো। আর তার পরে আসছে টার্মিনেটর ৬, বৈভাব সুরিয়াভানশি, যে আরও বেশি বিকশিত হয়েছে আমি আমার সময়ে আমার কাজটা করেছি, আভিশেক সেটাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এখন বৈভাব নতুন মানদণ্ড স্থাপন করছে। এটা একই যাত্রার তৃতীয় পর্ব।”
আভিশেকের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে তার ব্যাটিংয়ের উন্নতিতে কত সহায়তা করেছেন ইউভরাজ, গোটা ক্রিকেট বিশ্বই তা জানে। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ে ভারতের নায়ক বললেন, সুরিভানশিকে একইভাবে পোক্ত করে তুলতে চান তিনি।
“খেলাটির এই বিবর্তন দেখতে খুব ভালো লাগে। আমি যখন সিনার এবং আলকারাসকে দেখি, তখন বুঝতে পারি টেনিস কীভাবে বদলে যাচ্ছে। আভিশেক এবং বৈভাবের মাঝেও একই বিবর্তন দেখতে পাই আমি। অভিষেককে প্রশিক্ষণ দিতে অনেক সময় কাটিয়েছি, এখন বৈভাবের সঙ্গেও সময় কাটাতে চাই।
তার সামনে একটি দুর্দান্ত ক্যারিয়ার পড়ে আছে। সে অসাধারণ সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার ও আমি বিশ্বাস করি, সে তার লক্ষ্যে পৌঁছাবে।”

উইম্বলডনের ফাইনাল দেখার ওই কয়েক ঘণ্টার সংস্পর্শেই পূর্বসূরীর প্রতি মুগ্ধ সুরিয়াভানশি। ভবিষ্যতের জন্য এটিকে পাথেয় মনে করছেন ১৫ বছর বয়সী ক্রিকেটার।
“ইউভি পাজি (বড় ভাই) আমারও আদর্শ। তার সঙ্গে প্রথমবার দেখা হওয়াটা ছিল একটা বিশেষ মুহূর্ত। তার সঙ্গে সময় কাটাতে পেরেছি এবং তিনি খেলাটি সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিছু বলেছেন। খেলার মানসিক দিক, চাপ সামলানোর উপায় এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন।”
“তার মতো একজন মানুষের কাছ থেকে এত কিছু শিখতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আমি নিশ্চিত যে, এটি আমার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে অনেক সাহায্য করবে।”
বৈভাবের রোমাঞ্চ স্পর্শ করছে আভিশেককেও। তার জন্যও উপলক্ষটি ছিল বিশেষ কিছু।
“বৈভাব এখন কেমন অনুভব করছে, তা বুঝতে পারছি। কারণ ইউভি পাজি আমারও আদর্শ। আমার মনে আছে, যখন প্রথম তার সঙ্গে দেখা করি, তখন আমারও অনেকটা ওর এখনকার অনুভূতির মতোই হয়েছিল। তাই স্বাভাবিকভাবেই, ইউভি পাজি এবং বৈভাবের সঙ্গে আমার প্রথম উইম্বলডন, তাও আবার ফাইনাল দেখতে পারা, আমার জন্য এটি বিশেষ দিন।”