Published : 04 Apr 2026, 10:02 PM
কলকাতার অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্ট মোশন পিকচার্সের’ বিরুদ্ধে মামলা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের ‘আর্টিস্ট ফোরামের’ সদস্যরা।
শনিবার কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানায় দায়ের করা এ মামলায় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় ও লীনা গঙ্গোপাধ্যায়সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনার খবর দিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।
পত্রিকাটি লিখেছে, ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার আর্টিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তার অভিযোগ, ২৯ মার্চ ওড়িশার তালসারি সমুদ্র সৈকত এলাকায় একটি ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন ‘গাফিলতির কারণে’ এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
অভিনেতা রাহুলের আকস্মিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে টলিপাড়া তোলপাড়ের মধ্যে মামলা করার খবর এল। ২৯ মার্চ তালসারিতে ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু হয় তার।
আনন্দবাজার লিখেছে, এফআইআরএ আসামিদের বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিতভাবে অবহেলাজনিত ও বিপজ্জনক’ পদ্ধতিতে শুটিং পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়, যা জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং এর ফলেই অভিনেতার মৃত্যু ঘটে। এছাড়াও ঘটনার পরে অভিযুক্তেরা মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল ওড়িশার বালাসোর জেলার তালসারি মেরিন থানার অধীন হওয়ায় এজাহার সংশ্লিষ্ট থানায় স্থানান্তরের ব্যবস্থা করার খবর পুলিশের বরাতে দিয়েছে পত্রিকাটি।
এর আগে কলকাতার আরেক সংবাদমাধ্যম 'হিন্দুস্থান টাইমস বাংলার' প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার রাতে এক জরুরি বৈঠক ডাকে ‘আর্টিস্ট ফোরাম’। যেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, লাবণি সরকার, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়সহ আর অনেকে। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, রিজেন্ট পার্ক থানায় প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টসের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
শুটিংয়ে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের দিঘা সংলগ্ন তালসারি সমুদ্রসৈকতে পানিতে ডুবে মারা যান রাহুল। তার মৃত্যুর পর প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় গত বুধবার আর্টিস্ট ফোরাম প্রযোজনা সংস্থাকে একটি চিঠি পাঠায়।
ওই চিঠির উত্তরে কিন্তু প্রযোজনা সংস্থা যা জানিয়েছে, তা ‘সন্তোষজনক মনে না হওয়ায়’ এখন মামলার পথে যায় ‘আর্টিস্ট ফোরাম’।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রসেনজিৎ বলেন, “আমরা ১ এপ্রিল একটা চিঠি পাঠিয়েছিলাম। আমরা আশা করেছিলাম একটা মোটামোটি ঠিকঠাক উত্তর পাব। কিন্তু সেটা পাইনি। সে কারণে আমরা এফআইআর করব।
“আমি বারবার একটাই কথা বলি, যিনি চলে গিয়েছেন তাকে আর ফেরানো যাবে না। কিন্তু রাহুলের ছেলে সহজ যেন বড় হয়ে জানতে পারে যে, আমার বাবা কেন এভাবে চলে গেল? এইটুকুই আমাদের চাওয়া।
“আমরা প্রচুর সময় নিয়েছি এটা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন আছে। কিন্তু কিছু কিছু জিনিস থাকে যেখানে আইন জড়িয়ে যায়। আর একটা বিষয়ও বুঝতে হবে আমরাও তো আঘাত পেয়েছি। আমাদের আঘাত, কষ্টটা কাটাতে, রাহুল আর আমাদের মধ্যে নেই তা বুঝতে দুই থেকে তিনদিন লেগেছে। তারমধ্যেই এত কথাবার্তা। যাইহোক, আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করব আসল ঘটনাটা জানতে।"
রাহুলের মৃত্যুর পর ঘটনাস্থলের একাধিক বয়ান বলছে, দুর্ঘটনার পর খুব দ্রুত উদ্ধার করা হয়েছিল রাহুলকে।
ময়নাতদন্তের পর তমলুক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, পানিতে ডুবেই রাহুলের মৃত্যু হলেও তার ফুসফুসের ভেতরে অস্বাভাবিক পরিমাণে পাওয়া গিয়েছে বালি এবং নোনা। তার খাদ্যনালী, শ্বাসনালী, পাকস্থলীর ভেতরেও বালি ঢুকে যায়। ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ হয়ে যায়।
ময়নাতদন্তকারী দলের পর্যবেক্ষণ হল, অল্প সময় নয়, বরং দীর্ঘক্ষণ ধরে পানির নিচে ডুবে থাকলে এমন হয়। এ তথ্যে রাহুলের মৃত্যুর ঘটনায় ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া প্রযোজনা সংস্থা পুলিশের কোনো অনুমতি ছাড়াই সেখানে শুটিং করছিল বলে খবরে আসে।
আরও পড়ুন:
রাহুলের মৃত্যু: প্রতক্ষ্যদর্শীদের সঙ্গে শুটিং টিমের কথা 'মিলছে না
রাহুলের মৃত্যুতে ১ কোটি ক্ষতিপূরণ, প্রযোজনা সংস্থাকে 'ব্ল্যাক লিস
যে মৃত্যু নাড়িয়ে দিল টালিগঞ্জকে
রাহুলের মৃত্যুর আগে-পরে কী ঘটেছিল
ময়নাতদন্ত: দীর্ঘক্ষণ 'পানিতে ডুবে থাকায়' রাহুলের মৃত্যু হয়