Published : 07 Jul 2026, 01:40 PM
বিশ্বমঞ্চে বাংলা 'বাউল দর্শন ও লোকঐতিহ্য' তুলে ধরতে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চার দিনব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক বাউল ও লোকসংস্কৃতি উৎসব যুক্তরাজ্য-২০২৬’।
আগামী ১০ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এই উৎসবে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের শিল্পী, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা অংশ নিচ্ছেন।
উৎসবে মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকবেন বাউলশিল্পী শফি মণ্ডল ও ডলি মণ্ডল। এ ছাড়া কণ্ঠশিল্পী সরদার হীরক রাজা, জোহরা জমি ওই আন্তর্জাতিক মঞ্চে গান পরিবেশন করবেন।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের শিল্পী ছাড়াও দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক এবং প্রবাসীরা উৎসবে অংশ নিয়ে বাউল সংস্কৃতির ভাবাদর্শ তুলে ধরবেন।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, আগামী ১০ জুলাই যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারের ‘ইউকে ম্যানেজমেন্ট কলেজ’ এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে।
এরপর ১৫ জুলাই স্কটল্যান্ডে হবে বাউল ও লোকসংগীতবিষয়ক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ১৮ জুলাই লন্ডনের ‘কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি’তে আন্তর্জাতিক সেমিনার এবং বাউল ও লোকসংগীতের বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।
সবশেষে ১৯ জুলাই লন্ডন টাউন হলে সাংস্কৃতিক উৎসবের মধ্য দিয়ে এই আয়োজনের পর্দা নামবে।
আয়োজকদের মতে, বাউল দর্শন কেবল একটি সংগীতধারা নয়; এটি মানবতা, সাম্য, সহনশীলতা ও প্রেমের এক অনন্য জীবনদর্শন। বিশ্বায়নের এই সময়ে নতুন প্রজন্মের কাছে এই লোকঐতিহ্যের মর্মবাণী পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের এই বিস্তারিত সূচি ও শিল্পীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাউলশিল্পী শফি মণ্ডল বলেন, "একটি দেশের চলমান শক্তি এবং মেরুদণ্ড হল লোকসংগীত বা শেকড়ের গান। আমরা এই ঐতিহ্যের সঙ্গে দেশের মানুষের একটি মেলবন্ধন তৈরি করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য যেন ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়; আমরা দেশের জন্য কাজ করতে চাই। এই উৎসবের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে অন্য একটি দেশের লোকঐতিহ্যের সুন্দর মেলবন্ধন সৃষ্টি হবে।"
‘আন্তর্জাতিক বাউল ও লোকসংস্কৃতি উৎসব যুক্তরাজ্য-২০২৬’ যৌথভাবে আয়োজন করছে ইউকে ম্যানেজমেন্ট কলেজ (যুক্তরাজ্য), বাংলাদেশ বাউল ও লোকশিল্পী সংস্থা, উদীচী যুক্তরাজ্য এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট।
উৎসবের আহ্বায়ক ও উদীচী ইউকে এর সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, "আবহমান কাল থেকে সব দেশের লোকসংগীতই মানুষের কথা, মানবতা ও সম্প্রীতির কথা বলে। শত শত বছর পূর্বে সৃষ্ট আমাদের এই লোকসংগীতই বাঙালির অরিজিনাল রূপ। লোকসংগীতের ভাণ্ডার দিয়ে আমরা পৃথিবীর বুকে দেশকে উজ্জ্বল করতে পারি। বিশ্বদরবারে আমাদের বাউল ও লোকসংগীতকে তুলে ধরাই এই উৎসবের মূল লক্ষ্য।"
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের পারস্পরিক সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এক নতুন মাত্রা অর্জন করবে।