Published : 07 Jul 2026, 03:28 PM
চোখের জলে শেষ হলো একজন মহাতারকার বিশ্বকাপ অধ্যায়। শেষটায় যেন নিজের অতীতের ছায়া হয়ে থাকলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। মাঠে খুঁজেই পাওয়া গেল না পর্তুগাল অধিনায়ককে। তার ভুলে যাওয়ার মতো ম্যাচে অনেক প্রাপ্তি ধরা দিল স্পেন ও গোলরক্ষক উনাই সিমনের হাতে।
শেষ শেষোর ম্যাচে ১-০ গোলে জিতে কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ম্যাচের উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো-
৬
ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত করল স্পেন। ২০১০ বিশ্বকাপ জয়ের পর, প্রথমবার।
২০
২০০৬ বিশ্বকাপের পর নির্ধারিত সময়ে নকআউট পর্বের কোনো ম্যাচ হারেনি স্পেন। সেবার শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে হেরেছিল ৩-১ গোলে। টাইব্রেকারে যাওয়া ম্যাচ ড্র হিসেবে গণ্য হয়।
১
২০১০ সালের পর প্রথম ইউরো শিরোপাধারী হিসেবে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো পার হলো স্পেন। সেবার ইউরো চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেলতে এসে বিশ্বকাপ জিতেছিল তারা।
৩৫
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত আছে স্পেন (২৬ জয় ও ৯ ড্র)। যৌথভাবে এটাই দলটির সবচেয়ে বেশি ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড। এর আগে ২০০৭-০৯ ও ২০১৮-২০২১ পর্যন্ত দুইবার ৩৫ ম্যাচে দলটি টানা অপরাজিত ছিল তারা।
৬
বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে টানা ছয় ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি স্পেন। ২০২২ বিশ্বকাপে এক ম্যাচ এবং এবার পাঁচ ম্যাচে তাদের জালে বল পাঠাতে পারেনি কেউ।
৫
১৯৯০ বিশ্বকাপে ইতালির পর এবার স্পেন বিশ্বকাপের কোনো আসরে নিজেদের প্রথম পাঁচ ম্যাচে জাল অক্ষত রেখেছে।
৬০৯
স্পেন গোলরক্ষক উনাই সিমন ২০২২ বিশ্বকাপ থেকে টানা ৬০৯ মিনিট নিজেদের জালে কোনো বল ঢুকতে দেননি।
১০০%
একমাত্র গোলরক্ষক হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের সবগুলো শট আটকেছেন সিমন। বিশ্ব আসরে গত ৬০ বছরে অন্তত ৫০০ মিনিট খেলেছেন এমন গোলরক্ষকদের মধ্যে কোনো গোল হজম না করে সবচেয়ে বেশি সেভ করেছেন তিনি। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর ফের্নান্দো কুইরার্তে আটকান দুটি শট।
৩/৩
মেজর টুর্নামেন্টে নকআউট পর্বে তিনবার স্পেনের মুখোমুখি হয়ে প্রতিবারই হেরেছে পর্তুগাল। এর আগে হেরেছিল ২০১০ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো ও ২০১২ ইউরো সেমি-ফাইনালে।
৫
মিকেল মেরিনো ৮৫তম মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে পঞ্চম স্পর্শে গোল করেন।
৯১
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দ্বিতীয়বার ৯০ মিনিটের পর গোলের দেখা পেয়েছে স্পেন। প্রথমবার ২০১০ সালে ১১৬ মিনিটে গোল করে দলকে বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা।
২৭
বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭ ম্যাচ খেলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ৩০ ম্যাচ খেলার রেকর্ড লিওনেল মেসির।
১৯
স্পেনের বিপক্ষে ১৯ বার বল স্পর্শ করেছেন রোনালদো। বিশ্বকাপে শুরুর একাদশে থেকে যা তার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।
২
নকআউট পর্বের ম্যাচে কখনও দুইয়ের বেশি শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি রোনালদো। এর আগে ২০১০ সালে শেষ ষোলোতে স্পেনের বিপক্ষে এবং ২০০৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি করে শট লক্ষ্যে রেখেছিলেন তিনি।
০
সবশেষ নয় ম্যাচে কোনো ড্রিবলের চেষ্টা করেননি রোনালদো। সবশেষ ১৫ ম্যাচে কোনো সফল ড্রিবল নেই তার।
০, ১৭
রোনালদো এবারের বিশ্বকাপে ১৭ শট নিয়েছেন। তবে, তৈরি করতে পারেননি কোনো সুযোগ। শেষ ৬০ বছরে কোনো সুযোগ তৈরি ছাড়াই সবচেয়ে বেশি শটের রেকর্ড এটি। এর আগে মেক্সিকোর আলবার্তো গার্সিয়া আসপে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ১৫ শট নিয়ে এক গোল করেছিলেন।
১১
রোনালদো তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার শেষ করলেন ছয় আসরে ১১ গোল নিয়ে। এটাই পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড। এই ১১ গোলের ১০টিই এসেছে গ্রুপ পর্বে। নকআউটে একমাত্র গোলটি করেছেন এবারই, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টিতে।