Published : 06 Jul 2026, 11:23 AM
রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর স্পটের দিকে এগিয়ে যান ভিনিসিউস জুনিয়র। দারুণ ফর্মে আছেন তিনি, বিশ্বকাপে গোল করেছেন চারটি। পেনাল্টি তিনিই নেবেন, এমনটিই ছিল অনুমিত। কিন্তু পরে দেখা গেল, শট নিচ্ছেন ব্রুনো গিমারাইস! ধারাভাষ্যকারও বেশ অবাক হলেন দেখে।
সেই পেনাল্টিতে ব্যর্থতা ও পরে ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর সেই সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে প্রবলভাবে। কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে। আঙুল তোলা হচ্ছে ভিনিসিউসের দিকে। রেয়াল মাদ্রিদের এই তারকা অবশ্য বলছেন, পেনাল্টির সিদ্ধান্ত ছিল কোচের। কোচ জানালেন, পেনাল্টি নেওয়ার পছন্দে প্রথম পাঁচজনের মধ্যেও নেই ভিনিসিউস।
ম্যাচের শুরুর দিকে গিমারাইস ওই পেনাল্টি কাজে লাগাতে পারলে হয়তো গোটা খেলার চিত্র ভিন্ন হতো। কিন্তু নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মিডফিল্ডারকে বেশ নার্ভাস মনে হচ্ছিল। বেশ কয়েকবার জোরে জোরে শ্বাস ছেড়ে শেষ পর্যন্ত যে শট তিনি নেন, ধরে ফেলতে খুব সমস্যা হয়নি নরওয়ের গোলকিপারের।
১৯৮৬ আসরের পর প্রথমবার টাইব্রেকারের বাইরে বিশ্বকাপে পেনাল্টিতে ব্যর্থ হলো ব্রাজিল।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচটিতে ২-১ গোলে হেরে বাদ পড়ে যায় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। গত ৩৬ বছরে বিশ্বকাপ থেকে যা তাদের সবচেয়ে দ্রুত বিদায়।
ফর্মে থাকা ভিনিসিউস কেন পেনাল্টি নেননি, সেই কৌতূহল তখন থেকেই ছড়িয়ে পড়েছিল। চাপের মধ্যে তিনি ভড়কে গেলেন কি না, এমন প্রশ্নও উঠল। তবে তা উড়িয়ে দিলেন ২৫ বছর বয়সী তারকা।
“কোচের সিদ্ধান্ত ছিল ব্রুনো গিমারাইস পেনাল্টি নেবে। ম্যাচের আগেই তিনি ঠিক করেন, কে পেনাল্টিটি নেবে, এবং সেই পছন্দটি ছিল ব্রুনো। আমি কখনোই একজন স্বার্থপর খেলোয়াড় নই এবং টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোল স্কোরার হওয়া আমার লক্ষ্য ছিল না। ব্রুনো আমার চেয়ে ভালো পেনাল্টি নেয় এবং সেই কারণেই কোচ তাকে বেছে নিয়েছেন।”
“কেউ কেউ হয়তো ভাবতে পারেন আমি দায়িত্ব এড়িয়ে গেছি, কিন্তু এমনটা কখনোই ঘটেনি। যখন কোচ আমাকে বেছে নেন, আমি পেনাল্টি নিই, ঠিক যেমনটা আমি রেয়াল মাদ্রিদের হয়ে করি। কখনোই কোনো সময়ে দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করিনি।”

কোচ আনচেলত্তি জানালেন, অনেক কিছু কাটাছেঁড়া করেই পেনাল্টি নেওয়ার ক্ষেত্রে পছন্দ অনুযায়ী একটি ক্রম সাজানো আছে তাদের। সেই তালিকা অনুযায়ীই গিমারাইস পেনাল্টি নেন।
“পেনাল্টি নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে পুরো এক বছর ধরে গবেষণা করেছি আমরা। সবার সেরা ছিলে হাফিনিয়া (চোটের কারণে মাঠের বাইরে)। যে ফুটবলাররা আমাদের হাতে ছিল, তাদের মধ্যে এগিয়ে ছিল নেইমার, এরপর ইগোহ্ চেয়াগো। এই দুজনের পর ব্রুনো গিমারাইস ও মার্তিনেল্লি। ব্রুনোকে আমরা বেছে নিয়েছি, কারণ মাঠে থাকাদের মধ্যে আমাদের বিবেচনায় সে ছিল সেরা।”
পরিসংখ্যান অবশ্য আনচেলত্তির কথাকেই স্বাক্ষ্য দিচ্ছে। রেয়াল মাদ্রিদের হয়ে ১৯ পেনাল্টির ১৩টি কাজে লাগিয়েছেন ভিনিসিউস, ৬টিতে পারেননি গোল করতে। ব্রাজিলের হয়ে আগে তিনটি পেনাল্টি পেয়ে বল জালে পাঠাতে পেরেছেন মাত্র একটিতে। এজন্যই কোচিং স্টাফের তালিকায় তিনি আছেন বেশ নিচে।
আনচেলত্তি অবশ্য গিমারাইসকে দায় দিচ্ছেন না, “ফুটবলা খেলায় পেনাল্টি মিস হতেই পারে। আজকে আমাদের সঙ্গে হয়ে গেছে।”