২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

‘কুৎসিত’ ফুটবলেও প্যারাগুয়ের চেয়ে এগিয়ে থাকার তৃপ্তি এমবাপের

‘প্রয়োজনে আমরাও কুৎিসত ফুটবল খেলতে পারি’, বললেন কিলিয়ান এমবাপে, উইলিয়াম সালিবার চোখে এই ম্যাচ ছিল একটি যুদ্ধ।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Jul 2026, 10:00 AM

Updated : 19 Sep 2026, 02:28 PM

‘সেরের ওপর সোয়া সের’ প্রবাদটি ফরাসি ভাষায় আছে কি না, কে জানে! তবে ফ্রান্স সেটি মাঠে করে দেখিয়েছে বটে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাদেরকে ভুগতে হয়েছে। ধুঁকতে হয়েছে। কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য যতটুকু দরকার, ততটুকু তারা করতে পেরেছে। ম্যাচের পর কিলিয়ান এমবাপে বলছেন, প্যারাগুয়ের ঘরানার ফুটবলে খেলেই জয় আদায় করে নিয়েছেন তারা। 

এমবাপের পেনাল্টি গোলেই প্যারাগুয়ের প্রবল প্রতিরোধ ভেঙে কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স। 

অনুমিতভাবেই প্যারাগুয়ে বেছে নিয়েছিল অতিরক্ষণাত্মক কৌশল। ম্যাচের ৭৬ শতাংশ সময় বল ছিল ফ্রান্সের কাছে। কিন্তু পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে লড়তে হয়েছে ফেভারিটদের।

আগের ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে চোখধাঁধানো ফুটবলের পসরা সাজিয়েছিল ফ্রান্স। এই ম্যাচের চিত্র ছিল উল্টো। বারবার তাদের প্রচেষ্টা প্রতিহত হয়েছে লাতিন দলটির রক্ষণ দেয়ালে।

ফরাসিদের বাধা ছিল প্রচণ্ড গরমও। ম্যাচজুড়েই তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি ছিল এবং তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করছিল। 

এই ম্যাচের আগেই ছয়টি গোল করে ফেলা এমবাপের জন্যও বিশেষ কৌশল ছিল প্যারাগুয়ের। রেয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ডকে জায়গাই দিতে চানতি তারা, কঠিন ট্যাকল করা হয়েছে, ক্রমাগত উসকানিও ছিল। এমবাপের সহজাত সেই নান্দনিকতা তাই ছিল না এই ম্যাচে। 

শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দিয়েছে এমবাপের গোলই। এবারের আসরে সাত গোল করে লিওনেল মেসিকে ছুঁয়ে ফেলা তারকা ম্যাচের পর বললেন, প্যারাগুয়ের এই ঘরানার ফুটবলের জন্য তারা তৈরি ছিলেন।

“আমরা জানতাম ম্যাচটা কেমন হতে চলেছে। যদি কঠিন পথ বেছে নিতে হয়, আমরা তা করতে পারি। আমরা কুৎসিত ফুটবলও খেলতে পারি। ওরা ভেবেছিল আমরা কেতাদুরস্ত হয়ে মাঠে নামব, কিন্তু আমরাও আমাদের করণীয় জানতাম। এমনকি ওই ধরনের ফুটবলেও আমরা ওদের চেয়ে ভালো ছিলাম।”

“এটাই ওদের ফুটবল – এই কৌশল ভুল নাকি ঠিক, সেটা আমি বলব না। ওরা এভাবেই আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আমরা জিতেছি।”

শেষ দিকে মাঠে নামা রায়ান শের্কির কণ্ঠেও একই কথা। প্যারাগুয়ের পারফর‌ম্যান্সে সব প্রতিপক্ষের জন্যই বার্তা দেখছেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তরুণ তারকা।

“আমরা জানতাম, আজকের ম্যাচে আমাদের টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিকাল সামর্থ্য কমই দেখাতে হবে। আমরা আমাদের কাজটি জানতাম এবং সবাইকে দেখাতে পেরেছি যে, এই ফ্রান্স দল শুধু ফুটবলই খেলে না। কেউ যদি যুদ্ধ করতে চায়, আমাদের কাছ থেকে এরকম জবাবই পাবে।”

অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবাও সুর মেলালেন সতীর্থের সঙ্গে, “আমরা যুদ্ধে নেমেছিলাম এবং যুদ্ধে জয় পেয়েছি।”

ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ে দেশোঁ বললেন, প্যারাগুয়ে তাদেরকে বিরক্ত করে তুলতে চাইলেও মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে তারা নিজেদের সামলে নিয়েছেন। 

“কাজটা সহজ ছিল না। তারা সবরকম কৌশলই ব্যবহার করেছে। এটা এমন ধরনের ফুটবল নয়, যা দর্শকদের স্টেডিয়ামে টানবে। কিন্তু তারা ভালোভাবে রক্ষণ সামলেছে। এই দক্ষিণ আমেরিকান দলগুলোর বিপক্ষে খেলাটা সবসময়ই কঠিন। তবে আমরা মনোযোগ হারাইনি।”

“শেষের দিকে আমি সবচেয়ে বড়সড় দুজন খেলোয়াড়কে কিলিয়ানের চারপাশে গিয়ে দাঁড়াতে বলেছিলাম, কারণ তারা তাকে ফাউল করে ফেলে দিতে যাচ্ছিল। শেষদিকের সুযোগগুলোর একটি কাজে লাগাতে পারলেও জয়ের ব্যবধান আরও ভালো দেখাত।”