Published : 01 Apr 2026, 11:12 PM
কলকাতার অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় 'কড়া ও নিরপেক্ষ' তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার সহশিল্পী রুদ্রনীল ঘোষ।
পশ্চিমবঙ্গের দিঘা সংলগ্ন তালসারি সমুদ্রসৈকতে শুটিংয়ে গিয়ে রোববার পানিতে ডুবে মারা যান রাহুলের। সোমবার তার শেষকৃত্যানুষ্ঠান হয়েছে কেওড়াতলা শ্মশানে। সেখানে রাহুলকে শেষবারের মত দেখতে গিয়েছিলেন রুদ্রনীল।
সে সময় কলকাতার সংবাদমাধ্যম 'দ্য ওয়ালকে' দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুদ্রনীল বলেন, “কেউ বা কারা যারা শুটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রোডাকশন হাউস, চ্যানেল বা দায়িত্বশীল ম্যানেজার তাদের বয়ান একে অপরের সঙ্গে মেলছে না। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান মিলছে না। আবার পোস্টমর্টেম রিপোর্টে এসেছে রাহুল এক ঘণ্টা জলের নিচে ছিল, যা বয়ানের সঙ্গে মিলছে না।"
ঘটনাস্থলের একাধিক বয়ান বলছে, দুর্ঘটনার পর খুব দ্রুত উদ্ধার করা হয়েছিল রাহুলকে। ময়নাতদন্তের পর তমলুক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে পানিতে ডুবেই রাহুলের মৃত্যু হলেও তার ফুসফুসের ভেতরে অস্বাভাবিক পরিমাণে পাওয়া গিয়েছে বালি এবং নোনা। তার খাদ্যনালী, শ্বাসনালী, পাকস্থলীর ভেতরেও বালি ঢুকে যায়। ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ হয়ে যায়।
ময়নাতদন্তকারী দলের পর্যবেক্ষণ হল, অল্প সময় নয়, বরং দীর্ঘক্ষণ ধরে পানির নিচে ডুবে থাকলে এমন হয়।
এদিকে রাহুলরা যে হোটেলে ছিলেন, সেখানকার কয়েকজনের সঙ্গেও রুদ্রনীল কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, "রাহুলরা যে হোটেলে ছিল সেখানকার দায়িত্বশীল কিছু লোক আমাকে ফোন করেছিল, যাদেরকে আমি চিনতাম। তারা জানিয়েছে, রাহুল এক ঘণ্টা জলের নিচে ছিলেন না। জায়গাটা উত্তাল সমুদ্র নয়।
"তালসারি মানে যেখানে সমুদ্র অত্যন্ত ঝিমিয়ে থাকে এবং সমুদ্রের জল যেখানে শান্ত, তার পাশ থেকে বেশ কিছু আঁকাবাঁকা খাঁড়ি আসে, যে খাঁড়ি মাটিতে মেশে। অর্থাৎ বালি আর মাটি দুটো মাখামাখি হয় কিছু নদীর মত সরু সরু পথের মাধ্যমে যেখানে মাছ ধরার নৌকোরা স্ট্যান্ড করা থাকে, সেখান থেকে শুটিং হচ্ছে।"
প্রকৃত তথ্য আড়ালে রয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে রুদ্রনীল বলেন, “কেউ একজন বোধহয় কিছু লুকোবার চেষ্টা করছে। কেউ প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যেন ছেলেরই একটু গাফিলতি ছিল, তাই যেন একটু একা একা জলের গভীরে চলে গেছিল। একদম না, ওটা সমুদ্র নয়; ওটা আবার বলছি খাঁড়ি, নদীপথ, সরু নদীপথ যেখান দিয়ে নৌকা, দুটো নৌকা পাস হওয়ার মত চওড়া জায়গা থাকে। জল অত্যন্ত শান্ত সেখানে, বিরাট চওড়া বা উত্তাল এমনটা নয়।"
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন এই অভিনেতা।
রুদ্রনীল বলেন, "শুটিংয়ের পরে ড্রোন শট নেবার সময় এই বিপত্তিটি ঘটে বলে অনেকে বলছেন। আমি প্রযোজনা সংস্থাই হোক, চ্যানেল হোক যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে লোক যাদের রেখে দেওয়া উচিত, নিরাপত্তা আছে কী না দেখে শুটিং করতে যাওয়া উচিত। এবং তার সঙ্গে রাহুলের যারা সহ-অভিনেতা বা অভিনেত্রী ছিলেন, কোথাও তাদের বয়ানের মধ্যে মিল থাকছে না। প্রত্যক্ষদর্শীদের ঘটনা এবং পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এখানে মিল থাকছে না। নির্দ্বিধায় বলা যায় কেউ কোথাও একটা কিছু ভুল তথ্য দিচ্ছেন।"
'কড়া ও নিরপেক্ষ' তদন্তের দাবি জানিয়ে এই অভিনেতা বলেন, "কড়া ইনভেস্টিগেশন দরকার, নিরপেক্ষ ইনভেস্টিগেশন দরকার। না হলে এইভাবে মিথ্যাচার চলে, যদি আমরা কেউ কাউকে বাঁচাবার চেষ্টা করি গাফিলতির জন্য যে ঘটনা ঘটেছে, উদাসীনতার জন্য ঘটেছে। যদি কাউকে বাঁচাবার চেষ্টা করি তাহলে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে।"
রাহুলকে শেষবারের মত দেখতে সোমবার কলকাতার বিজয়গড় কলোনি থেকে কেওড়াতলা মহাশ্মশান পর্যন্ত তার স্বজন, সহকর্মী ও বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সব্যসাচী চক্রবর্তী ও মিঠু চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, আবীর চট্টোপাধ্যায় এবং আরও অনেক শিল্পী।
আরও পড়ুন
যে মৃত্যু নাড়িয়ে দিল টালিগঞ্জকে
রাহুলের মৃত্যুর আগে-পরে কী ঘটেছিল
ময়নাতদন্ত: দীর্ঘক্ষণ 'পানিতে ডুবে থাকায়' রাহুলের মৃত্যু হয়