Published : 30 Mar 2026, 12:12 PM
শুটিংয়ে গিয়ে সমুদ্রের পানিতে ডুবে কলকাতার অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান তার সহশিল্পীরা। রাহুলের মৃত্যুতে শোকার্ত এদেশের দর্শকরাও।
সোশাল মিডিয়ায় এপার বাংলা, ওপার বাংলার বহু মানুষ রাহুলের ছবি দিয়ে তাদের মন খারাপের কথা লিখেছেন।
পশ্চিমবঙ্গের দিঘাসংলগ্ন তালসারি সমুদ্রসৈকতে রোববার রাহুলের মৃত্যুর আগে-পরে কী কী ঘটেছিল তা নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নানা ধরনের খবর আসছে।
সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়ের’ কাছে রাহুলের মৃত্যু নিয়ে কথা বলেছেন পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল। তিনি ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকটি তৈরি করছেন। এই ধারাবাহিকের মূল চরিত্রে অভিনয় করছিলেন রাহুল।
রোববার তালসারিতে নাটকের শুটিং ছিল। বিকালে সমুদ্রে নামেন রাহুল। কিন্তু আচমকাই তলিয়ে যান তিনি।
সেই ঘটনা বর্ণনা করে শুভাশিস বলেন, “আমরা এখানে শনিবারও শুট করেছি। রোববার একটা শট ছিল তালসারিতে। গোড়ালি ডোবা জলে দাঁড়িয়েছিল শ্বেতা, রাহুলদা। শ্বেতা-রাহুলদা নিজেদের মধ্যে জল ছোড়াছুড়ি করছিল, লুকোচুরি খেলছিল। আমরা পিছন দিক থেকে ক্যামেরা করছিলাম। সেটা করতে করতে রাহুলদা শ্বেতার হাত ধরে সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। প্রায় হাঁটু পর্যন্ত জলে পৌঁছে ও একটু ডিসব্যালান্সড হয়ে যায়।
“আমরা ঠিৎকার করে দূরে যেতে বারণ করি। ততক্ষণে জল রাহুলদার গলা পর্যন্ত উঠে এসেছে। হাবুডুবু খাওয়ার মতো অবস্থা। সব ফেলে ইউনিটের ১০-১২ জন ওর দিকে এগিয়েও যাই। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে ও তলিয়ে যেতে থাকে। সম্ভবত অনেকটা জলও খেয়ে ফেলেছিল।”
পরিচালক শুভাশিস বলেন, আশপাশে যে নৌকাগুলি থাকে সেখান থেকে দড়ি ফেলে, ইউনিটের সবাই তড়িঘড়ি ছুটে গিয়ে রাহুলকে তুলে আনেন।
তখনও রাহুলের জ্ঞান ছিল। তার পর দ্রুত দিঘা মহকুমা হাসপাতালে নিয়েও যাওয়া হয় তাকে। কিন্তু সেখানেই চিকিৎসকরা রাহুলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
শুটিং ইউনিটের একজন কলকাতার বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার কাছে বলেছেন, তাদের সেদিনের শুটিং শেষ হয়ে গিয়েছিল।
তার পর একাই সমুদ্রের পানিতে নামেন রাহুল। রাহুলের সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্রও ছিলেন সেখানে। তবে তিনি সৈকতেই দাঁড়িয়েছিলেন।
ইউনিটের এক ব্যক্তি বলেন, “জলের তলায় নাকি রাহুলের পা আটকে যায় বালিতে। আর তখনই ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে। রাহুল সেই ঢেউ সামলাতে না পেরে ডুবে যেতে থাকেন। বিপদ বুঝতে পেরে শ্বেতা ‘রাহুলদা ডুবে যাচ্ছে’ বলে চিৎকার করে সবাইকে একজোট করার চেষ্টা করেন।”
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অভিনেতা দিগন্ত বাগচীর কথায়, “হয় ও সাঁতার জানত না, বা কোনো ভাবে আটকে পড়েছিল। হঠাৎ টেকনিশিয়নরা চিৎকার করতে করতে বলেন, ‘রাহুলদা ডুবে যাচ্ছে’। যখন উদ্ধার করা হয়, তখনও বেঁচে ছিলেন রাহুল।’’
রাহুলের গাড়িরচালক বলেন, ‘‘রাহুলদা সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি বার বার বারণ করছিলাম। শোনেনি আমার কথা।’’
শুটিং ইউনিটের ম্যানেজার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তী রাহুলকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
চন্দ্রশেখর বলেন, “ওকে গাড়িতে তোলার পর আমি সামনে উঠলাম। লাল কাপড় নাড়াতে নাড়াতে হাসপাতাল পৌঁছোই। শহরে ঢোকার পর থেকেই যানজটের জন্য দেরি হয়ে যায়। রাস্তায় যেতে যেতে রাহুলের বুকে হাত বোলাচ্ছিল আমাদেরই টেকনিশিয়ানরা। যদি বাঁচানো যায়, সেই আশায়। প্রচণ্ড হাঁপাচ্ছিল রাহুল।’
“হাসপাতালে যাওয়ার পথেই সম্ভবত হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন রাহুল। ওই ২০-২২ মিনিটের মধ্যেই মারা যান তিনি।”
তবে রাহুলের মৃত্যুর কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। সোমবার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে এ বিষয়ে জানা যাবে।