Published : 17 Jul 2026, 08:13 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচন নিরাপত্তা বিষয়ক প্রাইম-টাইম ভাষণ বৃহস্পতিবার তিনটি প্রধান মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কের মধ্যে দুটি- এবিসি ও এনবিসি এবং সিএনএন তাদের মূল চ্যানেলে সম্প্রচার করেনি।
আর এতেই সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রে’ জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে তাদের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ ট্রাম্প।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের চার মাস আগে দেওয়া এ ভাষণে ট্রাম্প মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন-নিরাপত্তা নিয়ে বক্তব্য দেন।
ভাষণের সময় ট্রাম্প বলেন, “এক বিরল পদক্ষেপে ভুয়া সংবাদমাধ্যম এবিসি ও এনবিসি বলেছে, তারা আমার এই ভাষণ সম্প্রচার করবে না। এ ধরনের প্রতারণার শাস্তি হিসাবে তাদের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল হওয়া উচিত।”
বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী, টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো কী প্রচার করবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা তাদের রয়েছে।
তবে অতীতে দেখা গেছে, জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য বিবেচনায় প্রেসিডেন্টের এমন ভাষণগুলো বেশির ভাগ সম্প্রচারমাধ্যমই প্রচার করেছে।
মূল চ্যানলে নয়, লাইভ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচার:
বৃহস্পতিবার এবিসি নিউজের এক মুখপাত্র জানান, ট্রাম্পের ভাষণটি তাদের মূল টেলিভিশন চ্যানেলে নয়, বরং এবিসি নিউজ লাইভ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম এবং এবিসি নিউজ রেডিওতে সম্প্রচার করা হবে।
ওদিকে, এনবিসি নিউজও ভাষণটি তাদের মূল সম্প্রচার চ্যানেলে প্রচার না করে বিনামূল্যের স্ট্রিমিং সেবা এনবিসি নিউজ নাও-তে প্রচার করেছে। তবে এনবিসি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
অন্যদিকে সিএনএন এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ভাষণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পর্যবেক্ষণ করাসহ ভাষণটি তাদের ওয়েবসাইট এবং সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক স্ট্রিমিং সেবা সিএনএন অল অ্যাক্সেসে সরাসরি দেখাবে।
সাধারণত এবিসি ও এনবিসি-এর স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে তাদের মূল টেলিভিশন চ্যানেলের তুলনায় অনেক কম দর্শক থাকে। সিএনএন-এর ডিজিটাল স্ট্রিমিং সেবার দর্শকও তাদের নিয়মিত ক্যাবল চ্যানেলের চেয়ে কম।
ভাষণে ট্রাম্প এমন কিছু গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করেছেন, যা তার দাবি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের প্রমাণ দেয়। এর মাধ্যমে তিনি ফের ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেন।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন বলছে, চীন ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফল বদলে দিয়েছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ওইবছর নির্বাচনে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার ভাষণের আগে হোয়াইট হাউজের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেছিলেন, ট্রাম্প নির্বাচন ছাড়াও ইরান পরিস্থিতি, অর্থনীতি এবং আরও নানা বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন। তার মতে, একারণেই ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করা এবং মার্কিন নাগরিকদের তা দেখার সুযোগ করে দেওয়া উচিত ছিল।
তবে ভাষণে ট্রাম্প সংক্ষেপে ইরান যুদ্ধ ও অর্থনীতির কথা বললেও বেশি জোর দেন নির্বাচন-সংক্রান্ত অভিযোগের ওপর।