Published : 17 Jul 2026, 08:04 PM
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে টর্নেডোর আঘাত হেনেছে। এতে সৈকতে পর্যটকদের জন্য রাখা অর্ধশতাধিক কাঠের চেয়ার ও ছাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
শুক্রবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে আঘাত হানা টর্নেডোটি তিন থেকে পাঁচ মিনিট স্থায়ী ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ সময় আতঙ্কে সৈকতে থাকা পর্যটকরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করেন।
কক্সবাজার কিটকট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, “সাগরের দিক থেকে একটি ঘূর্ণিবাতাস ধীরে ধীরে বালুচরের দিকে এগিয়ে আসে। পরে সেটি সুগন্ধা পয়েন্টে আঘাত হানে। এতে সৈকতে রাখা ৫২টি কাঠের চেয়ার ও ৬১টি ছাতা ভেঙে গেছে।”
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এটি একটি দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডো।
তিনি বলেন, “টর্নেডো সাধারণত অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক হয়ে থাকে। এর মুখে পড়লে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়। শক্তিশালী টর্নেডোর ঘূর্ণিপাকের মধ্যে থাকা ফানেল বা শুঁড়ের মতো অংশ যেকোনো বস্তু বা মানুষকে মাটি থেকে অনেক উঁচুতে তুলে নিতে পারে।”
তিনি বলেন, টর্নেডো সবচেয়ে বেশি দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রে। তবে বাংলাদেশেও প্রায়ই টর্নেডো হয় এবং বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী টর্নেডোগুলোর একটি ১৯৮৯ সালে মানিকগঞ্জ-ঢাকা অঞ্চলে আঘাত হেনেছিল।
সাধারণত গ্রীষ্মকালে টর্নেডোর প্রবণতা বেশি থাকলেও অনুকূল আবহাওয়ার পরিবেশ তৈরি হলে বছরের অন্য সময়েও এটি ঘটতে পারে বলে জানান আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান।
আবহাওয়াবিদদের মতে, টর্নেডো হলো বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে সৃষ্টি হওয়া অত্যন্ত শক্তিশালী ঘূর্ণিবাতাস, যা মেঘ থেকে ভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। এর স্থায়িত্ব সাধারণত কয়েক মিনিট থেকে আধা ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই এটি বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের একজন আবহাওয়াবিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এটা টর্নেডো হতে পারে। কারণ অগভীর যে কোনো জলরাশিতেই টর্নেডো হতে পারে। কক্সবাজারের সৈকতও প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর।
তিনি বলেন, তিনি নিজেও ছয় বছর কক্সবাজারে ছিলেন এবং সেখানে কোমরসমান পানির মধ্যে ৫০০ থেকে ৬০০ গজ পর্যন্ত হেঁটে যাওয়া যায়। এ ধরনের জায়গায় টর্নেডো হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রেও এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে।

কক্সবাজার সৈকতের ভিডিও দেখে তিনি বলেন, ভিডিওতে দেখা যায় খুব অল্প দূরত্বের মধ্যে এটি তৈরি হয়ে ঝাউবনের দিকে চলে গেছে। তবে ভিডিও নিয়ে অনেক সময় ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্যও ছড়ায়। তাই ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ের সুযোগ তাদের নেই।
ভিত্তিতে দেখে এটিকে টর্নেডো বলা যেতে পারে। তবে যদি এটি টর্নেডো হয়, তাহলে সেটি খুবই দুর্বল ধরনের।
আবহাওয়াবিদ বলেন, একটি ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ সাধারণত ২৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত হয়। অন্যদিকে একটি টর্নেডোর সর্বনিম্ন গতিবেগই প্রায় ২৫০ কিলোমিটার এবং সর্বোচ্চ ৫০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে।
এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় ১৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার বা তারও বেশি এলাকা নিয়ে অতিক্রম করলেও একটি টর্নেডো মাত্র ১০০ মিটার এলাকার মধ্য দিয়েও যেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে শুধু এটুকুই বলা যায় যে, অগভীর জলরাশিতে টর্নেডো হতে পারে এবং ভিডিওতে যা দেখা গেছে; তা টর্নেডোর মতো মনে হলেও নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য তাদের কাছে নেই বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই আবহাওয়াবিদ।