Published : 17 Jul 2026, 08:46 PM
কবি, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক আবুল হাসনাতের জন্মদিন উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হল ‘নবীনের সাহিত্য: স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গ’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান।
শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে এই আয়োজনে বক্তারা তরুণদের সাহিত্যচর্চা এবং এতে সম্পাদকদের ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
আলোচক হিসেবে ছিলেন কথা সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, দৈনিক সংবাদের সাহিত্য সম্পাদক কবি ওবায়েদ আকাশ ও বই বিষয়ক পত্রিকা ‘এবং বই’ এর সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, সাহিত্যাঙ্গনে নবীনদের আগমন ও দৃপ্ত পদচারণা বরাবরই নতুন প্রাণের সঞ্চার করে। তরুণদের সঙ্গে পাঠকদের একটি শক্তিশালী সংযোগসূত্র তৈরিতে সম্পাদক এবং বিভিন্ন সাহিত্যপত্র ও সাময়িকীর ভূমিকা অপরিসীম।

বিশেষ করে, নবীনদের পরিচর্যা ও সঠিক দিক নির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে একটি যুগোপযোগী এবং মানসম্পন্ন সাহিত্যধারার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ত করতে অগ্রজ সম্পাদকরা সবসময়ই কাণ্ডারির ভূমিকা পালন করে এসেছেন।
আলোচকরা তাদের বক্তব্যে আবুল হাসনাতের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন ও তরুণদের গড়ে তোলার পেছনে তার অবদানের কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে সমকালীন তরুণদের সাহিত্য ভাবনা, সম্ভাবনা এবং মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে বর্তমান সম্পাদনা শিল্পের নানা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন।
আয়োজনে আবুল হাসনাতের জীবনের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র দেখানো হয়।
১৯৪৫ সালের ১৭ জুলাই পুরান ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন আবুল হাসনাত। ২০২০ সালের ১ নভেম্বর মারা যান তিনি।

প্রথম জীবনে তিনি দৈনিক সংবাদের সাহিত্য সাময়িকীর সম্পাদক এবং পরবর্তী সময়ে সাহিত্য শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘কালি ও কলম’-এর সম্পাদক হিসেবে আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়াও তিনি দৃশ্যকলা পত্রিকা ‘শিল্প ও শিল্পী’ সম্পাদনা করতেন ।
আবুল হাসনাতের প্রকাশিত রচনাগুলির মধ্যে রয়েছে- জ্যোৎস্না ও দুর্বিপাক, কোনো দলীয় ভুবনডাঙ্গায়, ভুবনডাঙ্গার মেঘ এবং নধর কালো বাঁধল।
শিশুতোষ বইয়ের লেখক হিসেবে তিনি- ইস্টিমার শহর দিয়ে যায়, টুকু ও সমুদ্রের গল্প (টুকু ও সাগর), যুদ্ধদিনের ধূসর গান, রানার দুঃখ-ভালোবাসা ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ করেন।
আবুল হাসান ১৯৮২ সালে অগ্রণী ব্যাংক শিশু সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছিলেন।