Published : 16 Jul 2026, 08:51 PM
নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি মন্দিরে পূজা চলাকালে ভেতরে ঢুকে বিশৃঙ্খলা করার অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তবে যুবকের পরিবারের দাবি, তিনি মানসিক রোগ ‘সিজোফ্রেনিয়ায়’ আক্রান্ত।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সদর মডেল থানার অদূরে নয়ামাটির শ্রী শ্রী দরিদ্র ভাণ্ডার কালী মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন ও অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।
আটক যুবকের নাম ইয়ামিন নাবিল। ২৬ বছর বয়সি এ যুবক বন্দর উপজেলার হাফেজীবাগ এলাকার প্রয়াত নূর মোহাম্মদের ছেলে।
মন্দিরের পুরোহিত কমল চক্রবর্তী বলেন, দুর্গাপূজার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দুপুরে কাঠামো পূজার আয়োজন করা হয়েছিল। এ সময় ওই যুবক মন্দিরে ঢুকে পূজার জন্য সাজানো সামগ্রী লাথি মেরে ফেলে দেন। এ সময় মন্দিরের লোকজনকেও লাথি মারেন তিনি। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
“আমরা নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে বসবাস করছি। কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই,” যোগ করেন পুরোহিত।

ঘটনার সময়ের সিসিটিভির ফুটেজেও এক যুবককে মন্দিরে ঢুকে উত্তেজিতভাবে পূজার সামগ্রীতে লাথি মারতে দেখা যায়। মন্দিরে থাকা লোকজন তাকে থামানোর চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তিও হয়।
তবে আটক যুবকের বড় ভাই অমিত হাসান বলেন, তার ভাই দীর্ঘদিন যাবৎ ‘সিজোফ্রেনিয়া’ নামে মানসিক রোগে আক্রান্ত। তার চিকিৎসা চলছে।
“সকালে পরিবারের অগোচরে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে লোকমুখে শুনি, তাকে নাকি থানায় নেওয়া হইছে। পরে থানায় এসে এসব জানতে পারি। ও কোনো স্বাভাবিক অবস্থা থেকে এসব করেনি,” বলেন অমিত।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন ও অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, “আটক যুবক মন্দিরে প্রবেশ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এবং পূজার আনুষঙ্গিক সরঞ্জামা- ফুল, ফল লাথি মেরে ফেলে দেয়। তাৎক্ষণিক পূজা কমিটির লোকজন তাকে আটক এবং মারধর করেন।”
তিনি বলে, শরীরে জখম অবস্থায় তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। বর্তমানে সে থানা হেফাজতে আছে। আটক ব্যক্তির বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।