Published : 17 Jul 2026, 12:01 AM
বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সব জেলায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই চলবে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার পর এক বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলোর মোর্চা আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য দিয়েছেন ঢাকা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
বৈরী আবহাওয়া ও বন্যার কারণে গত ৮ জুলাই থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ছিল। এ বিভাগের ৫ জেলায় আলিম এবং এইচএসসি ভোকেশনাল, বিএমটি, ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষাও স্থগিত থাকে। এর মধ্যেই রাতে ফের এসব পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা এল।
অধ্যাপক কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, “সাম্প্রতিক বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সার্বিক অবস্থা, পরীক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক অবস্থা, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটের কারণে পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের আসা-যাওয়া অসুবিধার বিষয়টিসহ সার্বিক বিবেচনায় চট্টগ্রাম বোর্ড ও এ বিভাগের ৫ জেলার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অবশিষ্ট বিষয়ের পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
“পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। অন্যান্য শিক্ষা বোর্ড এবং চট্টগ্রাম বিভাগ ছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অন্যান্য জেলার পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।”
চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া শনিবার বাকি ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসিতে ভূগোল দ্বিতীয় পত্র ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আল ফিকহ প্রথম পত্র পরীক্ষা হওয়ার কথা আছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ দিন এইচএসসি বিএমটির মার্কেটিং নীতি ও প্রয়োগ ১ ও ২, ভোকেশনালের ট্রেড ১ ও ২ এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্সের শর্ট হ্যান্ড ১ ও ২ বিষয়ের পরীক্ষা হওয়ার কথা।
চলতি বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যে কোনো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে প্রতিটি বিষয়ে তিন সেট করে প্রশ্ন করা হয়েছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, “শনিবার থেকে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সব বিচেনায় দেখা যাচ্ছে, পরীক্ষার্থীরা ট্রমার মধ্যে আছে। এ কারণে বাকি পরীক্ষাগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।”
বন্যা, ভারি বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে এবার চট্টগ্রামের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পরীক্ষাও পেছানোর দাবি উঠেছিল।
এ দাবিতে মঙ্গলবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক আটকে বিক্ষোভও চলে। এর মধ্যে একদল আন্দোলনকারী সংসদে এলাকায় প্রবেশ করতে গিয়ে পুলিশের লাঠিপেটার মুখেও পড়েন।
সেদিন আন্দোলন থেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও ওঠে। তবে সরকার চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া বাকি এলকায় পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়।
এ সিদ্ধান্ত সামনে আসার দাবি আদায়ে বুধবার সচিবলায় অভিমুখে ‘লং মার্চ’ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। শিক্ষাভবনের সামনে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে শাহবাগ মোড়ে দুই ঘণ্টা অবরোধ করে ফিরে যায় তারা।
যাওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা বলে যান, দাবি মেনে না নিলে বৃহস্পতিবারও তারা সড়কে নামবেন। তবে বৃহস্পতিবার পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে ঢাকায় কোনো কর্মসূচি পালনের খবর পাওয়া যায়নি।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়। এগারোটি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১২ লাখ ৭০ হাজার নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ফরম পূরণ করেছেন।