Published : 19 May 2026, 02:20 PM
তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কিছু সংশোধন আনার পাশাপাশি সেখানে পানি সংরক্ষণের বিষয়টি যুক্ত করে নতুনভাবে প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার তিনি কথা বলছিলেন।
জাহেদ বলেন, "আমি জয়েন্ট রিভার কমিশনের (জেআরসি) একজন উপদেষ্টা হিসেবে বিষয়টি ক্লিয়ার করতে চাই। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যে আলোচনা হয়েছে, সেখানে মূল প্রশ্ন ছিল—শুধু ভাঙন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের জন্য পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থাও থাকতে হবে।
"বর্তমানে তিস্তা মহাপরিকল্পনায় নদীকে প্রায় ৮০০ মিটার প্রশস্ততায় সীমিত করা, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে গভীরতা বৃদ্ধি এবং তীর সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ মূলত বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদীভাঙন প্রতিরোধে কেন্দ্রিত।"
তিনি বলেন, তিস্তা অববাহিকায় ভাঙন একটি বড় সমস্যা, বন্যাও বড় সমস্যা। কিন্তু পরিকল্পনায় পদ্মা ব্যারাজের মত পানি ধরে রাখার কোনো কার্যকর অপশন ছিল না। অথচ শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানির সংকট প্রকট হয়ে পড়ে।
"প্রধানমন্ত্রী যথার্থভাবেই প্রশ্ন তুলেছেন, যদি পদ্মা ব্যারাজে বর্ষার পানি ধরে রেখে তা শুকনো মৌসুমে কাজে লাগানোর ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে তিস্তায় কেন সেই চিন্তা থাকবে না।"
এ কারণে বিদ্যমান প্রকল্পে পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নতুন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে মহাপরিকল্পনাটি সংশোধন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাহেদ উর রহমান।
প্রকল্প নিয়ে তিনি আরও বলেন, "এ কারণেই কিছুটা সময় লাগছে। আমরা আশা করছি, জনগণ বুঝতে পারবেন—এটি জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের জন্য আরও কার্যকর ও ব্যাপক প্রকল্প হিসেবে নেওয়া হচ্ছে।"
তিস্তা মহাপরিকল্পনা হল বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা নদীকে ঘিরে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা, যার মূল লক্ষ্য নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ।
এই পরিকল্পনার আওতায় নদীর দুই তীর সংরক্ষণ, খনন ও প্রশস্তকরণ, জলাধার ও ব্যারেজ উন্নয়ন, এবং আধুনিক সেচব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা রয়েছে। তাতে শুষ্ক মৌসুমে পানির ঘাটতি কমানো এবং বর্ষায় বন্যার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রংপুর অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং নদীভাঙন কমবে। একই সঙ্গে নদীকেন্দ্রিক শিল্প ও পর্যটনের সম্ভাবনাও বাড়বে।
তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আন্তঃসীমান্ত পানি বণ্টন। উজানে ভারতের পানি ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বাংলাদেশে তিস্তার পানিপ্রবাহ মৌসুমভেদে ব্যাপকভাবে ওঠানামা করে। ফলে প্রকল্পের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করছে দুই দেশের মধ্যে একটি কার্যকর পানি বণ্টন চুক্তির ওপর।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শিগগির শুরু হবে: ত্রাণমন্ত্রী
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১১০ কিলোমিটার নদীপথ ড্রেজিংয়ের সুপারিশ
তিস্তা মহাপরিকল্পনা: চীন-ভারত টানাপোড়েন ও বাংলাদেশের বাস্তবতা