Published : 20 Jul 2026, 09:03 PM
উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কাতার যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার মো. মামুন হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ এ তথ্য দিয়েছেন।
রোববার রাতে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে মামুন হোসেনকে সন্দেহভাজন হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তার কাছ থেকে পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোনসহ ব্যক্তিগত মালামাল জব্দ করা হয়। আসামির বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা ও গেন্ডারিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দুইটি মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিটের এসআই মো. মতিউর রহমান মোল্লা আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
মামুনের পক্ষে তার আইনজীবী খন্দকার এম. খলিলুর রহমান ও মোহাম্মদ খলিলুর রহমান রিমান্ডের আবেদন বাতিল করে জামিন আবেদন করেন।
আদালত এসআই মতিউরের কাছে জানতে চান, তিনি উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার কী আলামত আসামির কাছে পেয়েছেন? কী তথ্য পাওয়া গেছে যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে?
এর সদুত্তর দিতে পারেননি মতিউর রহমান। তিনি বলেন, “আসামির মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। মোবাইলে চার্জ না থাকার কারণে, তা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি।”
মামুনের বিরুদ্ধে গেন্ডারিয়া ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দুইটি মামলা থাকার কথা বলেন মতিউর রহমান।
এরপর আদালত মামুন হোসেনের বক্তব্য শুনতে চান। তিনি বলেন, “তারা আমাকে গ্রেপ্তার করেছে। আমার কাছে কিছু পায়নি। আমার বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। মামলায় আমি জামিনে আছি। পরিবারের উপার্জনের জন্য আমি কাতার যাচ্ছি। আমি জামিনের কোনো শর্ত ভঙ্গ করিনি।”
বিচারক জুয়েল রানা বলেন, “বিদেশে যাবেন কোর্টকে জানিয়েছেন?” এসময় নীরব থাকেন মামুন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “এ আসামি ২০১৯ সালে পর্তুগাল হয়ে ফ্রান্স যান। জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকায় ফ্রান্স সরকার তাকে দেশে পাঠিয়ে দেয়। তার বিরুদ্ধে ঢাকার দুই থানায় দুটি সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলা বিচারাধীন। কাতারের কোনো সংগঠনের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। এজন্য তিনি কাতার যাচ্ছিলেন।”
এসময় আবারও মামুনের বক্তব্য জানতে চায় আদালত। তখন তিনি বলেন, “ফ্রান্সে বৈধভাবে বসবাস করার আবেদন করি। কিন্তু সেটা হয়নি। এরপর সেখান থেকে আমাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বিমানবন্দর থেকে ২০১৯ সালে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৫ দিন গুম রেখে গেন্ডারিয়া থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।”
আদালত বলেন, “ওই সময় তো সময় ছিল অন্যদল। আপনি কার লোক?”
জবাবে মামুন বলেন, “আমি কারো লোক না।”
কি অভিযোগে মামলা দেওয়া হয়, বিচারক জানতে চাইলে মামুন বলেন, “স্বামীবাগে মন্দিরের কাছে লোকজন নিয়ে ঘোরাঘুরি করেছি, এই অভিযোগে। আমার কাছ থেকে জোর করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করা হয়। বলে, স্বীকারোক্তি না দিলে পাঁচটা মামলা দেবে।”
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে কী বলেছেন মামুন, তা জানতে চান বিচারক।
মামুন বলেন, “তারা পেন ড্রাইভে লিখে দিয়েছিল। সেটায় বলেছি।”
কী লিখে দিয়েছিল, বিচারমের এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “বিদেশ থেকে ফিরে আসছি। স্বামীবাগ মন্দিরের কাছে দলবল নিয়ে ঘোরাফেরা করেছি।”
বিচারক বলেন, “বৈধ কাগজপত্র না থাকলে তো এভাবে বিদেশ যাওয়া ঠিক না। দেশের জন্য ভালো না।”
পরে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেয়।