Published : 16 Nov 2025, 05:41 PM
মৃত্যুনিবন্ধন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া যা পারিবারিক সম্পত্তির বণ্টন, পেনশন প্রাপ্তি, জমি-জায়গার নামজারি এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধা গ্রহণের জন্য অপরিহার্য।
সরকারি ওয়েবসাইট bdris.gov.bd -এর মাধ্যমে এই সেবা প্রদান করা হয়।
মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদন কীভাবে করবেন তা বিস্তারিত জানান ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ২৯ ওয়ার্ড সচিব মো. ইফতেখারুল ইসলাম।
অনলাইনে আবেদন করতে মাত্র ছয়টি ধাপ অনুসরণ করলেই চলে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে স্থানীয় সরকারি অফিসে কাগজপত্র জমা দিয়ে সনদটি দ্রুত পাওয়া যায়।
অনলাইন আবেদনের ধাপসমূহ
অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করে মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদন করতে নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে-
প্রথম ধাপ: মৃত ব্যক্তির তথ্য অনুসন্ধান ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে মৃত ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন নম্বর এবং জন্ম তারিখ লিখে অনুসন্ধান করুন। এটি মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করবে এবং ফর্মটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ হয়ে যাবে।
দ্বিতীয় ধাপ: মৃত্যুর স্থান ও তারিখ নির্ধারণ দেশ, বিভাগ, জেলা, সিটি কর্পোরেশন/উপজেলা, পৌরসভা/ইউনিয়ন ইত্যাদি ড্রপডাউন মেনু থেকে সিলেক্ট করুন। এরপর মৃত্যুর তারিখ এবং কারণ (যেমন- স্বাভাবিক মৃত্যু, অসুস্থতা বা দুর্ঘটনা) উল্লেখ করুন।
তৃতীয় ধাপ: আবেদনকারীর তথ্য প্রদান আবেদনকারী হিসেবে স্বামী/স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যের জন্মনিবন্ধন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং নাম (বাংলা ও ইংরেজিতে) দিন। এছাড়া নিজের ফোন নম্বর এবং ঠিকানাও যুক্ত করুন।
চতুর্থ ধাপ: মৃত্যুস্থানের বিবরণ মৃত্যু কোথায় ঘটেছে (যেমন- বাড়ি, হাসপাতাল বা অন্যান্য স্থান) এবং মৃত্যুর সময় বসবাসের ঠিকানা বিস্তারিত-ভাবে লিখুন। এটি পরবর্তী যাচাইয়ের জন্য জরুরি।
পঞ্চম ধাপ: ফর্মের যাচাই ও স্বাক্ষর সকল তথ্য যাচাই করে ডিজিটাল স্বাক্ষর যুক্ত করুন (যদি থাকে)। অনলাইন ফর্মটি সেভ করে প্রিন্ট নিন বা ডাউনলোড করুন।
ষষ্ঠ ধাপ: জমা ও অনুমোদন প্রিন্ট করা ফর্মটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জমা দিন। কর্তৃপক্ষ যাচাই করে সনদ প্রস্তুত করে দ্রুত সরবরাহ করবে।
অনলাইন ট্র্যাকিং সুবিধা ব্যবহার করে অগ্রগতি দেখতে পারবেন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসমূহ
মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদনের সঙ্গে নিম্নলিখিত কাগজপত্র জমা দিতে হয়, যা পরিচয় যাচাই ও প্রমাণের জন্য অপরিহার্য।
মৃত ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি: পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য।
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ: ভোটার আইডি বা অন্যান্য দলিল থেকে।
মৃত্যুর তারিখ, স্থান ও কারণের প্রমাণ: হাসপাতালের ছাড়পত্র, মৃত্যুসনদ বা চিকিৎসা রেকর্ড।
লাশ দাফন/সৎকারের রসিদ: মাদ্রাসা বা কবরস্থান থেকে প্রাপ্ত।
হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট কাগজ (যদি প্রযোজ্য হয়): চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হলে হাসপাতালের মৃত্যুসনদ।
দুর্ঘটনা বা অপঘাতের ক্ষেত্রে: থানার জিডি, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ফটোকপি।
আবেদনকারীর কাগজ
জন্মনিবন্ধন নম্বর বা জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি। শুধুমাত্র পরিবারের সদস্য, অভিভাবক বা অনুমোদিত ব্যক্তিই আবেদন করতে পারবেন।
সকল কাগজ ফটোকপি আকারে জমা দিন এবং আসলগুলো যাচাইয়ের জন্য রেখে দিন।
মৃত্যুনিবন্ধনের সময়ভিত্তিক ফি
৪৫ দিনের মধ্যে আবেদন: কোনো ফি লাগে না।
৪৫ দিন পর থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ফি স্থানীয় অফিসে সরাসরি জমা দিন বা অনলাইন পেমেন্ট সুবিধা ব্যবহার করুন। পাঁচ বছর অতিক্রম করলে অতিরিক্ত ফি ও বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে।
আবেদনটি মৃত্যুর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করুন, যাতে জটিলতা এড়ানো যায়।
এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবেন।
আরও পড়ুন
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম
অনলাইনে সহজেই জমির নামজারি পদ্ধতি