Published : 18 Sep 2025, 03:54 PM
জুনে আহমেদাবাদে বিধ্বস্ত এয়ার ইনডিয়ার নিহত চার যাত্রীর পরিবারের সদস্যরা মার্কিন বিমান প্রস্তুতকারক কোম্পানি বোয়িং ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ বানানো কোম্পানি হানিওয়েলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা করেছেন।
২৬০ জনের প্রাণ কেড়ে নেওয়া দুর্ঘটনার পেছনে কোম্পানি দুটির অবহেলাজনিত দায় আছে বলে মামলায় অভিযোগ করেছেন তারা।
মঙ্গলবার ডেলাওয়ার সুপিরিয়র আদালতে করা মামলায় বলা হয়েছে, দুর্ঘটনাটি ত্রুটিপূর্ণ জ্বালানি সুইচের কারণেই ঘটেছে; অথচ উড়োজাহাজের নকশায় এমন ঝুঁকির কথা অবগত থাকার পরও কোম্পানি দুটি ‘কিছুই করেনি’।
বিবিসি মামলার নথিপত্র দেখেছে।
এ বছরের ১২ জুন লন্ডনের গ্যাটউইকগামী বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারের ফ্লাইট ১৭১ আহমেদাবাদ থেকে উড্ডয়নের অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানবন্দরের বাইরে একটি মেডিকেল হোস্টেলের ওপর আছড়ে পড়ে। কেবল একজন যাত্রীই প্রাণে বাঁচেন।
বিমানটি রানওয়ে থেকে ওপরে ওঠার খানিকক্ষণ পরেই ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, প্রাথমিক তদন্তে এমনটা বেরিয়ে আসার পর থেকেই উড়োজাহাজটির জ্বালানি সুইচগুলো তদন্তকারীদের মনোযোগ কেড়ে হয়।
মার্কিন কেন্দ্রীয় বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (এফএএ) এর আগে বোয়িংয়ের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচগুলো নিরাপদ বলে রায় দিয়েছিল।
নিহতদের পরিবারের সদস্যদের মামলা প্রসঙ্গে বিবিসি বোয়িং ও হানিওয়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
প্রত্যুত্তরে বিমান প্রস্তুতকারক কোম্পানিটি মামলা নিয়ে কোনো মন্তব্য না করে তার বদলে দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে ভারতের উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরোর (এএআইবি) প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন দেখতে বলে।
মঙ্গলবার করা মামলার বাদিরা তাদের অভিযোগের সপক্ষে ২০১৮ সালে এএফএ-র দেওয়া একটি নির্দেশনার কথাও এনেছেন, যেখানে বিমান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারসহ বোয়িংয়ের একাধিক মডেলের জ্বালানি সুইচ লকিং মেকানিজম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, যেন সুইচ দুর্ঘটনাবশত সরে না যায়। তবে ওই নির্দেশনায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়নি।
কিন্তু এয়ার ইনডিয়া ওই পরামর্শ মেনে সুইচগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেনি, তাছাড়া দুর্ঘটনায় পড়া বিমানটির থ্রোটল কন্ট্রোল মডিউলও ২০১৯ ও ২০২৩ সালে দুইবার পাল্টানো হয়েছিল বলে এএআইবির প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে। ওই কন্ট্রোল মডিউলে জ্বালানি সুইচগুলোও থাকে।
দুর্ঘটনার সময় ফ্লাইট ১৭১-এ সুইচগুলো ‘রান’ থেকে ‘কাট অফ’ পজিশনে সরে গিয়েছিল, যা বিমানের থ্রাস্ট বা ইঞ্জিন চালু রাখার শক্তিকে বাধাগ্রস্ত করে, বলছে এএআইবির প্রতিবেদন।
৭৮৭-৮ ড্রিমলাইন ও এর যন্ত্রাংশ তৈরি ও বাজারজাত করার সময় থেকেই বোয়িং ও হানিওয়েল এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি সম্বন্ধে অবগত ছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
নকশায় থাকা ত্রুটি ‘দুর্ঘটনাবশত জ্বালানি সরবরাহ বন্ধের সুযোগ’ করে দেয় এবং বিমানটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় থ্রাস্ট নিঃশেষ হয়ে যায়, বলছে নিহতের পরিবারগুলো।
“এই ধরনের অনিবার্য সর্বনাশ ঠেকাতে হানিওয়েল ও বোয়িং কি করেছে? কিছুই না,” বলেছে তারা।
সুইচগুলোর পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সেগুলোর যে মেরামত দরকার, কোম্পানি দুটি এ বিষয়ে এয়ারলাইনসগুলোকে সতর্ক করতেও ব্যর্থ হয়েছে এবং রিপ্লেসমেন্ট যন্ত্রাংশ পাঠিয়ে গ্রাহকদেরকে তা বদলেরও সুযোগ দেয়নি তারা, বলা হয়েছে মামলায়।
বোয়িং ও হানিওয়েল একটি সাধারণ নির্দেশনাকে ঢাল বানিয়ে ‘চুপচাপ বসেছিল’, যে নির্দেশনায় কেবল সুইচগুলো খতিয়ে দেখার কোনোরকম একটি সুপারিশ করা হয়েছিল, বলছে পরিবারগুলো। মামলায় তাদের প্রতিনিধিত্ব করছে টেক্সাসভিত্তিক ল্যানিয়ার ল’ ফার্ম।
এয়ার ইনডিয়ার ওই বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে আরও বিস্তারিত প্রতিবেদন আগামী বছর প্রকাশিত হওয়ার কথা।
এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা: ককপিটের অডিওতে কেন রহস্য আরও গভীর হয়েছে
‘আমি জ্বালানির সুইচ বন্ধ করিনি’: বিধ্বস্তের আগ মুহূর্তে এয়ার ইনডিয়ার পাইলট