Published : 15 Jun 2026, 05:36 PM
যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রাথমিক শান্তি চুক্তিতে রাজি হওয়ার খবর আসার পর এ সমঝোতা নিয়ে এবার মুখ খুলেছে ইসরায়েল।
প্রথম প্রতিক্রিয়াতেই ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির জানালেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত এই চুক্তি মেনে চলতে ইসরায়েল বাধ্য নয়।
ইসরায়েল নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে- সেকথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে জেরুজালেমে, ওয়াশিংটনে নয়।
সোমবার ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। আগামী শুক্রবার তা আনুষ্ঠানিক ভাবে সই হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর পরই নিজেদের এই অবস্থান জানাল ইসরায়েল।
এক্সে ইসরায়েলি মন্ত্রী বেন-গভির লেখেন, “আন্তর্জাতিক কোনও সমঝোতার জন্য ইসরায়েল নিজেদের নিরাপত্তাকে কখনও অবহেলা করবে না। ট্রাম্পের চুক্তি আমাদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়। কারণ, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের অধীন নয়। আমরা একটি স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র।”
“আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে ভালবাসি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু ইসরায়েল কোনও ব্যানানা রিপাবলিক (দুর্বল রাষ্ট্র) নয়। যে চুক্তি আমাদের নিরাপত্তাকে সুরক্ষিত করে না তার অংশীদার আমরা নই। তাই তা মেনে চলার বাধ্যবাধকতাও আমাদের নেইা। আমাদের সেনারা লেবাননের যেসব এলাকা দখল করেছে সেখান থেকে আমরা সরে আসব না।”
বেন-গভির আরও লেখেন, “যত বার আমরা দেশের নিরাপত্তার বদলে আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার করেছি, ততবার ইসরায়েলের অবস্থান দূর্বল হয়েছে।”
জাতীয় ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রী বেন-গভির সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান করলেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে চান নেতানিয়াহু। আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং নিজেদের নিরাপত্তা বিষয়ক ‘উদ্বেগ’ নিয়ে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে চান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আলোচনায় লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের লড়াইয়ে বিষয়টিও উঠে আসতে পরে। লেবাননে ইরান সমর্থিত প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লার সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘর্ষ চলে আসছে অনেক দিন ধরে।
রোববারও লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামলা চালায় ইসরায়েল। ওই হামলা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্পও।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি স্মারকের একটি পূর্বশর্ত ছিল লেবাননে হিজবুল্লার উপর ইসরায়েলের হামলা বন্ধের বিষয়টি। কিন্তু ইসরায়েল লেবাননে এখনও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।