Published : 20 May 2026, 01:35 PM
স্পেসএক্সের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী রকেটের প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ হতে যাচ্ছে এ সপ্তাহেই, যা একইসঙ্গে আগামী মাসে কোম্পানির শেয়ার বাজারে যাওয়ার ভাগ্যও নির্ধারণ করবে।
নভোচারীদের চাঁদে নিয়ে যাওয়ার পূর্বনির্ধারিত মিশনের ঠিক দুই বছর আগে এ সপ্তাহেই নিজেদের পরবর্তী প্রজন্মের ‘স্টারশিপ ভার্সন ৩’ রকেট উৎক্ষেপণের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে স্পেসএক্স।
নতুন রকেটটি তার আগের বিভিন্ন সংস্করণকে ছাড়িয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী রকেটের খেতাব কেড়ে নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
পুরোপুরি জোড়া লাগানোর পর এ স্টারশিপ মহাকাশযান ও এর ‘সুপার হেভি বুস্টার’ মিলে রকেটটি উচ্চতায় দাঁড়ায় ১২৪ মিটারেরও কিছু বেশি এবং এর ওজন প্রায় পাঁচ হাজার মেট্রিক টন।
আকার ও আয়তনের দিক থেকে রকেটটি লন্ডনের বিখ্যাত বিগ বেনের এলিজাবেথ টাওয়ারের চেয়েও বড়।
২০২৬ সালে এটিই হতে যাচ্ছে স্টারশিপের প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, যা একইসঙ্গে ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের জন্য ভাগ্যনির্ধারক বা জীবন-মরণ প্রশ্ন হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।
এ রকেট উৎক্ষেপণের সঙ্গে কী কী ঝুঁকি বা স্বার্থ জড়িয়ে আছে?
নাসার ঐতিহাসিক আর্টেমিস মিশনের অংশ হিসেবে রকেটটি তৈরি করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, রকেটটি ২০২৮ সালের ‘আর্টেমিস ৪’ মিশনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে উঠবে, যার মাধ্যমে ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর আবারও নভোচারীরf চাঁদের পৃষ্ঠে নামবেন।
তবে স্টারশিপের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় স্পেসএক্সকে বেশ কিছু বড় ধাক্কা বা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে। যার ফলে নাসা এরইমধ্যে নিজেদের আর্টেমিস মিশনের চূড়ান্ত সময়সীমা পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।
এখন নতুন করে যদি আর কোনো বিলম্ব ঘটে তবে তা নাসার পূর্বনির্ধারিত সময়সূচিকে আরও বড় ঝুঁকিতে ফেলবে। একইসঙ্গে এ রকেট ব্যবহার করে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর যে স্বপ্ন স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্ক দেখছেন তা-ও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়বে।
এ উৎক্ষেপণটি স্পেসএক্সের জন্য জটিল ও সংবেদনশীল সময়ে ঘটছে। কারণ কোম্পানিটি আগামী মাসেই শেয়ার বাজারে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এ আইপিও’র সাফল্য বহুলাংশে নির্ভর করছে স্টারশিপের সর্বশেষ এ পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণটি কতটা সফল হয় তার ওপর।
‘স্টারশিপ ভার্সন ৩’-এ কী কী পরিবর্তন এসেছে?
রকেট সিস্টেমটির বড় আকার ও এর বিস্ময়কর জটিলতার কারণে এ স্টারশিপকে ‘এলিয়েন-লেভেলের প্রযুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন মাস্ক।
স্পেসএক্স তাদের ‘স্টারশিপ ভার্সন ৩’-এর জ্বালানি ধারণসক্ষমতা বাড়াতে, মালামাল বা পেলোডের জায়গা প্রসারিত করতে এবং এর প্রপালশন সিস্টেমকে ‘র্যাপ্টর ৩’ ইঞ্জিনে উন্নীত করার জন্য রকেটের উপরের অংশ এবং ‘সুপার হেভি বুস্টার’ উভয় অংশকেই আরও দীর্ঘ করেছে।
রকেটের সুপার হেভি বুস্টারে থাকা ৩৩টি র্যাপ্টর ৩ ইঞ্জিন উৎক্ষেপণের সময় প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড থ্রাস্ট তৈরি করতে পারবে, যা অ্যাপোলো কর্মসূচিতে ব্যবহৃত নাসার ‘স্যাটার্ন ৫’ রকেটের শক্তির দ্বিগুণেরও বেশি।
সর্বশেষ এ স্টারশিপটি টেক্সাসে স্পেসএক্সের ‘স্টারবেইস’ কেন্দ্রে সম্পূর্ণ নতুনভাবে ডিজাইন করা লঞ্চপ্যাড থেকে উৎক্ষেপণ করা হবে, যা রকেটের পুনঃব্যবহারযোগ্যতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই তৈরি করেছে স্পেসএক্স।
লঞ্চপ্যাডের এ আধুনিকায়নের মধ্যে রয়েছে তুলনামূলকভাবে ছোট আকারের ‘চপস্টিকস’ বা যান্ত্রিক বাহু, যা রকেটের উপরের অংশ থেকে আলাদা হয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসা বুস্টার রকেটটিকে শূন্যেই ধরে ফেলার জন্য ব্যবহৃত হয়।
স্পেসএক্সের ওয়েবসাইটে প্রকাশ পাওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, “এ পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের প্রাথমিক লক্ষ্যই উৎক্ষেপণকালীন বাস্তব পরিবেশে রকেটের নতুন অংশগুলোর প্রতিটির কার্যকারিতা প্রথমবারের মতো প্রমাণ করা।
“যেহেতু রকেটটি সম্পূর্ণ নতুন ডিজাইনে তৈরি করা যানের প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ ফলে এবার বুস্টারটিকে ধরে ফেলার জন্য উৎক্ষেপণ স্থলে ফিরিয়ে আনার কোনো চেষ্টা করা হবে না।”
স্টারশিপের উৎক্ষেপণ যেভাবে দেখা যাবে
উৎক্ষেপণের এ রোমাঞ্চকর দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে স্পেসএক্সের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, তাদের এক্স পেইজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার, ২০ মে বিকেল সাড়ে পাঁচ টায় ও বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে দশটায় এ উৎক্ষেপণের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল উৎক্ষেপণের প্রায় ৪৫ মিনিট আগে থেকেই লাইভ সম্প্রচার শুরু যাবে।
তবে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের চিরন্তন নিয়ম অনুসারে, এ সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত প্রস্তুতির সময় কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়লে বা আবহাওয়া অনকূল না থাকে তবে সময় পিছিয়ে যেতে পারে।
এ ছাড়া, স্পেসএক্স এবার ‘টেস্ট লাইক ইউ ফ্লাই’ নামে নতুন এক ধারাবাহিক পর্ব চালু করেছে, যেখানে দর্শকরা উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত হতে থাকা পুরো দলটির পর্দার পেছনের নানা খুঁটিনাটি ও প্রস্তুতি সরাসরি দেখার সুযোগ পাবেন।