Published : 13 Jun 2026, 02:45 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়লেও জনপ্রিয় চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি’র জনপ্রিয়তা থেমে নেই।
অ্যাপ চালুর কেবল সাড়ে তিন বছরের মাথায় রেকর্ড গড়ে মাসিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ কোটি ছাড়িয়েছে চ্যাটজিপিটি।
পেন্টাগনের সঙ্গে ওপেনএআইয়ের সামরিক চুক্তি নিয়ে বিতর্ক ও ‘ক্লড’ বা ‘মেটা এআই’-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের তীব্র প্রতিযোগিতার মুখেও চ্যাটজিপিটি দ্রুততম অ্যাপ হিসেবে এ মাইলফলক স্পর্শ করল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
বাজার গবেষণা কোম্পানি ‘সেন্সর টাওয়ার’-এর সাম্প্রতিক হিসাব অনুসারে, মে মাসে ওপেনএআইয়ের তৈরি চ্যাটজিপিটি’র মাসিক অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ কোটি ছাড়িয়েছে।
ডেটা কোম্পানিটির তথ্য অনুসারে, অ্যানথ্রপিকের তৈরি ‘ক্লড’সহ অন্যান্য এআই অ্যাপের ব্যবহারকারী বাড়ার হারও গত বছরের তুলনায় ১০০ শতাংশের বেশি হয়েছে।
‘সেন্সর টাওয়ার’ বলেছে, ২০২২ সালের নভেম্বরে যাত্রা শুরুর কেবল সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১০০ কোটি মাসিক ব্যবহারকারীর মাইলফলক স্পর্শ করে ইতিহাসের ‘দ্রুততম অ্যাপ’ হিসেবে রেকর্ড গড়েছে চ্যাটজিপিটি।
এর আগে, এ রেকর্ডটি ছিল গুগল ম্যাপসের, যার এ সংখ্যক ব্যবহারকারী পেতে সময় লেগেছিল প্রায় পাঁচ বছর।
এ বিষয়ে সিএনবিসি’র মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি ওপেনএআই।
ফেব্রুয়ারিতে কোম্পানিটি দাবি করেছিল, তাদের ওয়েব ও মোবাইল প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে চ্যাটজিপিটি’র সাপ্তাহিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯০ কোটিরও বেশি। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এআই প্ল্যাটফর্মের তুলনায় চ্যাটজিপিটি’র মাসিক ওয়েব ভিজিট ও মোবাইল সেশনের সংখ্যা ছয় গুণের বেশি।
‘সেন্সর টাওয়ার’-এর তথ্য অনুসারে, বাজারে শীর্ষস্থানে থাকা ওপেনএআইয়ের লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলটির পেছনেই রয়েছে অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানির বিভিন্ন সেবা। যার মধ্যে রয়েছে গুগলের জেমিনাই, বাইটড্যান্সের ‘ডৌবাউ’ ও এর আন্তর্জাতিক সংস্করণ ‘ডোলা’ এবং প্রতিযোগী ডেভেলপার অ্যানথ্রপিকের তৈরি ‘ক্লড’।
মাসিক ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে চ্যাটজিপিটি অনেকখানি এগিয়ে থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন এআই মডেল খুব দ্রুতই সেই ব্যবধান কমিয়ে আনছে।
‘সেন্সর টাওয়ার’ হিসাব মতে, চ্যাটজিপিটি’র বার্ষিক ব্যবহারকারী বৃদ্ধির হার যেখানে ছিল ৬২ শতাংশ, সেখানে ক্লড ও মেটা এআইয়ের মাসিক ব্যবহারকারী বৃদ্ধির হার যথাক্রমে ৬৪০ শতাংশ ও ৯৭৩ শতাংশ।
সেন্সর টাওয়ারের সিনিয়র ইনসাইটস অ্যানালিস্ট আবে ইউসেফ বলেছেন, সবার আগে বাজারে আসার কারণে চ্যাটজিপিটি বাড়তি সুবিধা পেলেও প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন মডেলের বাস্তবমুখী উন্নতি ও বাজারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাদের ব্যবহার বাড়ছে।
তবে ইউসেফ বলেছেন, জনসাধারণের অস্বস্তি বা নেতিবাচক মনোভাবও কখনো কখনো ব্যবহারকারী বাড়াতেও ভূমিকা রাখে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের সঙ্গে ওপেনএআইয়ের চুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, যার অধীনে পেন্টাগনের গোপন নেটওয়ার্কে তাদের এআই মডেল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
সেন্সর টাওয়ারের তথ্য অনুসারে, ২৮ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ পেন্টাগনের সঙ্গে ওপেনএআইয়ের চুক্তির ঘোষণার ঠিক পরদিনই চ্যাটজিপিটি অ্যাপটি আনইনস্টল বা মুছে ফেলার হার আগের দিনের তুলনায় এক লাফে প্রায় ২৯৫ শতাংশ বেড়ে যায়।
চ্যাটজিপিটি’র প্রতি জনমনে তৈরি হওয়া এই নেতিবাচক মনোভাবের সরাসরি সুফল পেয়েছে অ্যানথ্রপিক।
পেন্টাগনের সামরিক কার্যক্রমে যোগ হতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ঠিক সেই সপ্তাহের শেষদিকে অ্যাপ স্টোরের শীর্ষস্থান দখল করে নেয় তাদের তৈরি ক্লড এআই মডেল। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে ডাউনলোডের সংখ্যার দিক থেকে চ্যাটজিপিটিকেও সে সময় ছাড়িয়ে গিয়েছে ক্লড।
এদিকে, অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই উভয় কোম্পানিই সম্প্রতি বহুল প্রতীক্ষিত পাবলিক লিস্টিং বা শেয়ার বাজারে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
এক সপ্তাহ আগে, মার্কিন ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন’ বা এসইসি’র কাছে তাদের আইপিও প্রসপেক্টাস জমা দিয়েছে অ্যানথ্রপিক। পরপরই, স্যাম অল্টম্যানের ওপেনএআই’ও সোমবার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের আইপিও আবেদন দাখিল করেছে।