Published : 15 Mar 2026, 03:13 PM
মহাবিশ্বের রহস্যময় গঠন উন্মোচনের লক্ষ্যে বিজ্ঞানীরা তৈরি করছেন বিশ্বের বৃহত্তম লেন্সওয়ালা টেলিস্কোপ।
ব্রিটিশ ধনকুবের অ্যালেক্স গেরকোর অর্থায়নে তৈরি এ টেলিস্কোপটি মহাকাশের বিভিন্ন ছায়াপথকে ধরে রাখা বিশাল এক অদৃশ্য জাল বা কসমিক ওয়েব খুঁজে বের করবে।
ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, নতুন এ ‘মথরা’ টেলিস্কোপের লক্ষ্য ‘কসমিক ওয়েব’ খুঁজে বের করা। এ ওয়েব গ্যাস ও ডার্ক ম্যাটারের এক বিশাল জাল, যা মহাকাশের বিভিন্ন ছায়াপথকে একে অপরের সঙ্গে ধরে রাখছে।
এ কাজে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘অল লেন্স’ (সবগুলো লেন্স দিয়ে তৈরি) টেলিস্কোপ এবং বিশেষ কিছু ফিল্টার ব্যবহার করবে, যা হাইড্রোজেন গ্যাসের অনেক ক্ষীণ আলোও দেখতে পায়।
এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছেন ‘এক্সটিএস্ক মার্কেটস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স গেরকো। তিনি যুক্তরাজ্যের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ও দেশটির শীর্ষ করদাতা।
‘ইয়েল ইউনিভার্সিটি’র জ্যোতির্বিজ্ঞান ও পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক ও এ প্রকল্পের সহ প্রতিষ্ঠাতা পিটার ভ্যান ডক্কুম বলেছেন, এ কোটিপতি হঠাৎ করেই তাকে ইমেইল করে প্রজেক্টটি নিয়ে ‘আলোচনার আগ্রহ দেখান’। গেরকো এ টেলিস্কোপটি তৈরিতে সরাসরি ব্যবহারিক ভূমিকাও রাখছেন।
গেরকো বলেছেন, “দ্রুতগতিতে তৈরি হওয়া অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির জন্য প্রায়ই সাংগঠনিক ও প্রযুক্তিগতভাবে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন হয়।
“দীর্ঘমেয়াদী বৈজ্ঞানিক মান তৈরি করতে পারে এমন এক উচ্চাভিলাষী প্রজেক্টে সহায়তা করতে এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের মৌলিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সমাধানের নতুন পথ দেখাতে পেরে আমি গর্বিত।”
‘মথরা’ টেলিস্কোপটি ক্যাননের এক হাজার ১৪০টি হাই এন্ড টেলিফটো লেন্স দিয়ে তৈরি। এর নির্মাতারা বলেছেন, এসব লেন্সকে সারিবদ্ধভাবে রাখা হলে সেগুলো বিশাল একক টেলিস্কোপ হিসেবে কাজ করতে পারে।
বিষয়টি ‘ড্রাগনফ্লাই টেলিফটো অ্যারে’ ধারণার এক উন্নত সংস্করণ। এর আগে, ড্রাগনফ্লাই প্রমাণ করেছে, প্রচলিত টেলিস্কোপ দিয়ে দেখা যায় না এমন অনেক আবছা ও বিশাল মহাজাগতিক কাঠামো খুঁজে পেতে এটি কার্যকর।
তবে গবেষকরা বলছেন, মথরা হচ্ছে সেই একই ধারণার বড় ও শক্তিশালী রূপ।
কসমিক ওয়েব বা মহাজাগতিক জাল বিগ ব্যাংয়ের ঠিক পরের মুহূর্হের বিশাল এক কাঠামোর নেটওয়ার্ক, যা মহাবিশ্ব প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে।
টেলিস্কোপটির লক্ষ্য, বিভিন্ন ছায়াপথের মাঝখানে আটকে থাকা গ্যাসের অনেক আবছা আলো শনাক্ত করা, যা এ জালের স্পোক বা শাখাগুলো কোথায় আছে তা দেখাতে সাহায্য করবে।
এক বিবৃতিতে অধ্যাপক ভ্যান ডক্কুম বলেছেন, “মথরা টেলিস্কোপটি একটি লক্ষ্য সামনে রেখেই তৈরি হয়েছে, যেমন বিভিন্ন ছায়াপথের মাঝে থাকা গ্যাসের ক্ষীণ আলো খুঁজে পাওয়ার সুযোগকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।
“এ টেলিস্কোপের বড় আকারের অ্যাপারচার, বিস্তৃত দৃষ্টিসীমা ও টিউনেবল আল্ট্রা-ন্যারোব্যান্ড ফিল্টারিংয়ের সমন্বয় মহাকাশ পর্যবেক্ষণে নতুন এক দুয়ার খুলে দেবে।”
টেলিস্কোপটি চিলিতে তৈরি করা হচ্ছে। এর কাজ শুরু হয়েছে ২০২৫ সালে ও এ বছরের শেষদিকে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।