Published : 22 Jun 2026, 10:07 AM
ভবিষ্যতের চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানকে আরও গতিশীল করতে নতুন রোভার নিয়ে পরীক্ষা করছে নাসা।
আগের বিভিন্ন রোভারের ধীরগতি ও চাকার সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারে ‘আর্নেস্ট’ নামের নতুন এ রোভার, যা খাড়া ঢালু পথ পাড়ি দেওয়ার পাশাপাশি যে কোনো প্রতিবন্ধকতা এড়াতে নিজের বিভিন্ন চাকা আলাদাভাবে ওপরে তুলতে পারে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
নব্বইয়ের দশকের শেষদিকে মঙ্গলের বুকে প্রথম রোভার অবতরণের পর থেকে নাসার বিভিন্ন রোভার একের পর এক অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। তবে মহাকাশ গবেষণার এ আধুনিক সদস্যদেরও এখনো বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে।
প্রথমত, এগুলো ধীরগতির। নাসার অন্যতম সেরা রোভার ‘পার্সিভ্যারেন্স’ সমতল ভূমিতে ঘণ্টায় কেবল ০.১ মাইলেরও কম গতিতে চলে। এর ওপর মঙ্গলের পাথুরে ও বন্ধুর পথ রোভারের বিভিন্ন চাকার ক্ষতি করে।
পাথর ও বালির মতো বিপজ্জনক উপাদানে ভরা খাড়া ঢালগুলো পেরিয়ে যাওয়া এদের জন্য এতটাই কঠিন যে, নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে অনেক সময় এসব রোভারকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হয়।
সেসব সমস্যা বিবেচনায় এ সপ্তাহে নাসা এমন এক প্রোটোটাইপ বা পরীক্ষামূলক রোভারের অগ্রগতি দেখিয়েছে, যা আরও উন্নত সক্ষমতাওয়ালা রোভার। নতুন ‘আর্নেস্ট’ রোভারটির পূর্ণরূপ ‘এক্সপ্লোরেশন রোভার ফর ন্যাভিগেটিং এক্সট্রিম স্লোপড টেরেইন’।
ভবিষ্যতে মঙ্গল ও চাঁদের অভিযানে ব্যবহার করা যেতে পারে এমন কিছু নতুন কৌশল যাচাই করতে নাসা কলোরাডো মরুভূমিতে আর্নেস্টের পরীক্ষা চালাচ্ছে।
বর্তমানে মঙ্গলে থাকা ছয় চাকার বিভিন্ন রোভারের বিপরীতে আর্নেস্টের চাকা রয়েছে চারটি ও এর দৈর্ঘ্যে চার ফুট। তবে মূল অভিযানে যে সংস্করণটি পাঠানো হবে সেটির আকার হবে এর দ্বিগুণ।
এ রোভারটির বিশেষত্ব হচ্ছে, প্রতিবন্ধকতা এড়াতে বা কোনোবাধা পেরিয়ে ওপর দিয়ে যাওয়ার জন্য নিজের চাকাগুলোকে আলাদা আলাদাভাবে ওপরে তুলতে পারে।
নাসার তথ্য অনুসারে, মরুভূমির সাম্প্রতিক পরীক্ষায় প্রোটোটাইপটি সাত দিনে মোট ৩৭ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলেছে এবং প্রায় ১৬ মাইল পথ পেরিয়েছে। এ পরীক্ষায় রোভারটির সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ০.৬ মাইল।
নাসার ‘জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরি’ বা জেপিএল-এর চাঁদ অভিযান বিজ্ঞানী জেমস কিন বলেছেন, “এ মহাকাশযানটি দিয়ে আপনি চাইলে চাঁদ বা মঙ্গলের বুকে বৈজ্ঞানিক গবেষণার উদ্দেশ্যে পুরো একটা ‘রোড ট্রিপ’ বা দীর্ঘ সফর করে আসতে পারবেন।”
নব্বইয়ের দশকের ‘সোজার্নার’ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত নাসার সব মঙ্গল রোভারই চাকাগুলোর ওপর ওজনের ভারসাম্য ধরে রাখার জন্য ‘রকার-বগি’ নামের নিষ্ক্রিয় এক সাসপেনশন সিস্টেমের ওপর নির্ভর করে এসেছে।
এবার আরও বেশি গতিশীলতা পেতে প্রকৌশলীরা ‘আর্নেস্ট’-এর মাধ্যমে সক্রিয় সাসপেনশন ব্যবস্থা পরীক্ষা করেছেন।
নাসা বলেছে, “এর সামনের দিকে থাকা দুটি শক্তিচালিত জয়েন্ট একটি গিম্বালকে এমনভাবে চালনা করে, যার ফলে রোভারটি আঁকাবাঁকা হয়ে চলা, চাকার সাহায্যে হাঁটা ও প্রতিবন্ধকতা বেয়ে ওঠার মতো ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে পথ চলতে পারে।”
কাজের ধরন ও শক্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে রোভারটি অ্যাক্টিভ ও প্যাসিভ উভয় সাসপেনশনের মধ্যেই পরিবর্তন করতে পারে। চারদিকের মোড় পরিবর্তনকারী চাকার কল্যাণে রোভারটি যে কোনো দিকেই চলতে পারে।
২০২২ সালে এ কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে আর্নেস্ট প্রোটোটাইপের বেশ কয়েকটি সংস্করণ তৈরি হয়েছে এবং দলটি প্রায় ডজনখানেক সক্রিয় সাসপেনশন কনফিগারেশন পরীক্ষা করে দেখেছে। যার সর্বশেষ সংস্করণটিতে ‘স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আরও উন্নত সক্ষমতা’ যোগ করেছে সংস্থাটি।
আর্নেস্টের মূল লক্ষ্য এমন এক রোভার প্রযুক্তি তৈরি করা, যা আগের বিভিন্ন রোভারের তুলনায় দ্রুত ও বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চলাচল করতে পারবে এবং এর জন্য পৃথিবীতে থাকা মানুষ নিয়ন্ত্রকদের ওপর নির্ভরতাও অনেকখানি কমে আসবে।